| |

Ad

সর্বশেষঃ

পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা নড়িয়াবাসী

আপডেটঃ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৮

নিজস্ব সংবাদদাতা : শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পদ্মার ভাঙনে প্রতিদিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে বহুতল ভবন, ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তাঘাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মানুষের শেষ সম্বল বাপ-দাদার ভিটেবাড়ি। তীব্র ভাঙনের কাছে নড়িয়ার নদী তীরবর্তী মানুষ এখন দিশেহারা ও পাগলপ্রায়। সব হারিয়ে নিঃস্ব এসব মানুষের কান্নার স্রোত যেন একাকার হয়ে যাচ্ছে সর্বনাশা পদ্মার ধারার সঙ্গে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত তিন মাসে নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙনে গৃহহীন হয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে নড়িয়া পৌরসভার দুইটি ওয়ার্ডসহ কেদারপুর ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম, দুটি স্কুল, চারটি মসজিদ, বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ও অর্ধশতাধিক পাকা স্থাপনা। দুইশ বছরের পুরোনো মূলফৎগঞ্জ বাজারের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে আরও পাঁচশরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সাধুরবাজার লঞ্চঘাট এলাকা ধসে প্রাণহানি ঘটেছে ১০ জনের। পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সর্বশেষ রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উত্তর পাশের সীমানা প্রাচীর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মোট ১৬টি ভবনের সবগুলোই এখন ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

নড়িয়ার বাঁশতলা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমার বসতবাড়িসহ ৭০ শতাংশ ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। আপাতত একটা ভাড়া বাড়িতে উঠেছি। কিন্তু এভাবে আর কত দিন চলতে পারবো জানি না।’

মূলফৎগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুর হোসেন দেওয়ান বলেন, ‘বাজারটি উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীন বাজার। এর দুইটি বহুতল ভবনসহ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যহত থাকলে পুরো বাজারটিই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।’

কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, ‘গত কয়েক বছরের ভাঙনে আমাদের দেওয়ান বংশের প্রায় ২০ একর সম্পত্তি নদীগর্ভে চলে গেছে। সর্বশেষ এবছর মূলফতগঞ্জ বাজারে আমাদের দুইটি বহুতল ভবনসহ ৪০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সর্বনাশা পদ্মা আমাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে।’

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াছমিন বলেন, ‘তিন মাসে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে। এদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙন রোধে পদ্মার ডান তীর রক্ষা প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প একনেকে পাশ হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই কাজ শুরু হবে। আপাতত বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

আরোও পড়ুন...