| |

Ad

সর্বশেষঃ

বিএনপির আমলে আমাদের অনেক এমপি নির্যাতিত হন : প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ ১১:২৫ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় অনেক নেতাকর্মীকে অত্যাচার নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ক্লিনহার্ট অপারেশনের নামে দেড়শ’ মানুষকে হত্যা করা হয়, এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ছিলেন। এখানে অনেক সংসদ সদস্য রয়েছেন যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

বিরোধী দলের হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও সরকারি দলের সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুতে রোববার জাতীয় সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অনেক দক্ষ দু’জন সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি। এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা একজন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ছিলেন। তিনি একজন প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন। তাকে হারিয়ে দলের অনেক ক্ষতি হয়েছে, যা আর পূরণ হবার নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাজুল ইসলাম চৌধুরীর বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। তিনি মনে প্রাণে চেয়েছিলেন নির্বাচনটা যাতে হয়। এই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে তার আন্তরিকতা ছিল। ওই নির্বাচনটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল।

বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, তাজুল ইসলাম ও মোস্তফা রশিদী সুজা এত তাড়াতাড়ি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন এটা আমরা মনে করিনি। তারপরও প্রকৃতির নিয়ম, আমাদের মেনে নিতেই হবে।

তিনি বলেন, তাজুল ইসলাম একজন ভালো পার্লামেন্টিরিয়ান ছিলেন। তিনি সংসদে থাকলে আমাকে আর চিন্তা করতে হত না। তাজুল ইসলামের শূন্যতা কখনও পূরণ হবার নয়।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, মোস্তফা রশিদী সুজা একজন সাহসী মানুষ ছিলেন। তার সাহসী ভূমিকার ফলে খুলনা আওয়ামী লীগ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। ক্লিনহার্ট অপারেশনে তার ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে এজন্য তার অকাল মৃত্যু হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও মোস্তফা রশিদী সুজা দু’জনই সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ ছিলেন। তারা দু’জনই বিনয়ী ও ভালো মানুষ ছিলেন।

তিনি বলেন, তাজুল ইসলাম একজন চমৎকার সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষ ছিলেন। দুজনই বিনয়ী, সদালাপী মানুষ ছিলেন।

সরকারি দলের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, সুজা জীবনে অনেক অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে দলের প্রতি আনুগত্য ছিলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর একজন আদর্শিক কর্মী ছিলেন। শুধু রাজনীতিই নয়, তিনি একজন ভালো ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন। সত্য ও ন্যায়ের জন্য তিনি কখনও মাথানত করতেন না।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ও বিএনপি-জামায়াত তার মতো জনপ্রিয় নেতাকে নির্যাতন করে হত্যা করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিল।

সেলিম বলেন, তাজুল ইসলাম ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক মানুষ। তিনিও ন্যায়ের জন্য সারাজীবন লড়াই করেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, তার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ক্লিনহার্ট অপারেশনের নামে তার ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে এর ফলে তার কিডনি, লিভারসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অকেজো হয়ে অকাল মৃত্যু হয়েছে। এই ক্লিনহার্ট অপারেশনকে বিএনপি জামায়াতের সময় ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছে।

জাতীয় পার্টির সদস্য এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, তাজুল ইসলাম একজন সংগ্রামী নেতা ছিলেন। ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। অনেক দুঃসময়ে তিনি দলের প্রতি আনুগত্য ছিলেন। তাজুল ইসলাম একজন সদালাপী মানুষ ছিলেন। তিনি এমন একজন নেতা ছিলেন যার কাছে না বলতে কিছৃু ছিল না। তার কাছে যে কোনো কাজে গেলে হাসি মুখে তা করে দিতেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙা. সরকারি দলের সদস্য মীর শওকত আলী বাদশা, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, মনিরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, নুরুল ইসলাম উমর, ফখরুল ইমাম আলোচনায় অংশ নেন।

আরোও পড়ুন...