| |

সর্বশেষঃ

ধানখেতে পোকা দমনে বাড়ছে ‘পার্চিং পদ্ধতি’

আপডেটঃ ৪:১৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জে কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে আমন ফসল রক্ষায় পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন কৃষকরা। গত আউস মৌসুমে এই পদ্ধতি ব্যবহারে লাভ হওয়ায় দিন দিন কৃষকদের মধ্যে পাচিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কোনোপ্রকার খরচ ছাড়াই জমির ফসল রক্ষা করতে পারায় বেশ খুশি তারা। আর এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অফিস সূত্র জানায়, ক্ষতিকারক কীটনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে এখন পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকরা পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এ পদ্ধতিতে পোকা দমনের জন্য খেতে বাঁশের কঞ্চি অথবা গাছের ডাল পুঁতে পাখি বসার সুযোগ করে দেয়া হয়। পাখি বাঁশের কঞ্চি অথবা গাছের ডালে বসে ধান খেতের ক্ষতিকর পোকা ধরে খায়। এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি কোনো প্রকার খরচ ছাড়ায় বেশি লাভ পাচ্ছেন কৃষকরা।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলি বাঁশহাটি এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, কৃষকরা আমন খেতে ছোট ছোট বাঁশের কঞ্চি সামান্য দূরত্বে পুঁতে রেখেছে। এতে দুই-একটি করে পাখি বসে থাকতে দেখা গেছে। ওই গ্রামের কৃষক মুসলেহ উদ্দিন, হাফিজ উদ্দিন, সফির উদ্দিনসহ কয়েকজন কৃষক জানান, পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে তারা সুফল পাচ্ছেন। এতে লাভও ভালো হচ্ছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসিরুজ্জামান সুমন বলেন, গত আউস মৌসুমে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে লাভবান হয়েছে স্থানীয় কৃষকরা। তাই এবার রোপা আমন মৌসুমে ব্যাপক হারে এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন তারা।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিকভাবে পোকামাকড় দমন করে কম খরচে বেশি লাভ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখায় দিন দিন পার্চিং পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জে ৭৭ হাজার ২১৩ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আর পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করায় কীটনাশক কেনা বাবদ কৃষকদের প্রায় আড়াই কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting