| |

Ad

সর্বশেষঃ

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক বিশ্বে মডেল : প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ ৭:০৩ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক সারা বিশ্বের জন্যই অনুকরণীয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, সুসম্পর্ক বজায় রেখে দুই দেশেই এগিয়ে যাচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছে দুই দেশের জনগণই।

সোমবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে দেশটি থেকে পাঁচশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে ভেড়ামারায় দ্বিতীয় ব্লক স্টেশনের উদ্বোধন এবং আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেললাইনের বাংলাদেশ অংশের নির্মাণ কাজ এবং মৌলবীবাজার জেলার কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল সংযোগ পুনর্বাসন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক পৃথিবীর অন্যান্য দেশের কাছে রোল মডেল হিসাবে গণ্য হবে বলে আমি মনে করি। আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ একটা সুসম্পর্ক বজায় রেখেছি। এ সুসম্পর্ক আমাদের পারস্পরিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করছে, তাতে আমাদের দুই দেশের জনগণ লাভবান হচ্ছে। আমাদের উন্নয়নে সমর্থন দেয়ার জন্য আমি শ্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাই।’

ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী হোক সেটাই চান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘যার ফলে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে দুই দেশের জনগণের উন্নতি সাধান করতে পারে। আমাদের যৌথ প্রচেষ্ঠায় এ ধরনের অনেক সাফল্য আমরা উদযাপন করতে পারব।’

‘ইতিমধ্যে আমাদের স্থলসীমানার সমস্যার সমাধান হয়েছে। ভারতবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। ভারতের সংসদের সকল সদস্য এক হয়ে এ স্থলসীমনা চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছেন। ভারত বোধহয় বাংলাদেশের বিষয়ে সবসময় ঐক্যবদ্ধ হয় দলমত নির্বিশেষে, এটাই প্রমাণ হয়েছে।’

ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক সেই ১৯৭১ সাল থেকে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ দেয়ার পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনীও সরাসরি এ দেশে যুদ্ধ করে পাকিস্তানি বাহিনীকে হারাতে ভূমিকা রাখে।

তবে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধসহ বেশ কিছু বিরোধ ছিল আর বর্তমান সরকারের আমলে অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে বেশ অগ্রগতি রয়েছে। যদিও অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ইস্যুতে এখনও সেভাবে অগ্রগতি হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত যে সহযোগিতা করেছে, তা আমরা সবসময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি, যা আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই চিরদিনই মাইলফলক হিসাবে বজায় থাকবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।’

‘ব্লু ইকোনোমি, সামুদ্রিক সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মাহকাশ গবেষণাসহ নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলোতে আজ আমরা কাজ শুরু করেছি।’

‘বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষীয় সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমরা বর্তমানে ভারত থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। আরও তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার উদ্যোগ আমরা নিয়েছি।’

অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলাদেশকে আরও এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেয়ার কথা জানিয়ে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতির বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী মমতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আশা করি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিজি এ ব্যাপারে নিশ্চয় সম্মতি দেবেন।’

‘আমাদের উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য আরও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামোর অধীনে ২০৪১ সালের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে থেকে নয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা করছি। আশা করি এ লক্ষ্য অর্জনে ভারত আমাদের পাশে থাকবে।’

অনুষ্ঠানে রেলের যে দুটি প্রকল্প উদ্বোধন হয়, সেটি ভারতীয় ঋণের অর্থেই নির্মিত হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রেলওয়ে খাতেও আমাদের দুইদেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে মালামাল পরিবহনের জন্য ১৯৬৫ পূর্ব রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করার জন্য কাজ করছি।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আজ থেকে আমরা আরও কাছে এলাম, আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হলো। ধন্যবাদ।’

আরোও পড়ুন...