| |

Ad

সর্বশেষঃ

খাদ্য গুদাম চাল কম দেয়ায় কার্ডধারীরাও কম পাচ্ছে

আপডেটঃ ১২:৪২ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির অধীনে দরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে বরাদ্ধকৃত চাল মাপে কম দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাদ্য গুদাম থেকে ডিলারদের বস্তায় ওজনে চাল কম দেয়ায় কার্ডধারীরাও চাল কম পাচ্ছে বলে ডিলাররা জানিয়েছেন। এদিকে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলাররা চাল বিক্রি শুরু করলেও অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা জানেন না বলে অভিযোগ করে।

গত সোমবার থেকে মির্জাপুরে দরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। এ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ২৮ জন ডিলারের মাধ্যমে ১৪ হাজার ৬১৪ জন কার্ডধারীর মধ্যে ৩ মাসে ৩০ কেজি করে ১৩ লাখ ১৫ হাজার ২৬০ কেজি চাল বিক্রি করার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নে কলিমাজানি ও গোড়াই বাজারে ডিলাররা জানান, ৫০ কেজির বস্তায় ৪৭-৪৮ কেজি এবং ৩০ কেজির বস্তায় ২৮-২৯ কেজি চাল ওজনে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে তালিকাভুক্ত কার্ডধারী দরিদ্র মানুষের মধ্যে সঠিক পরিমাপে চাল বিক্রি করতে পারছেন না তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকার চলতি বছর ৩৮ টাকা কেজি দামে চাল ক্রয় করেন। সে হিসেবে সারা দেশের ন্যায় মির্জাপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ১৪ হাজার ৬১৪ জনের মধ্যে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮০ টাকার চাল ১০ টাকা কেজি দরে দরিদ্রদের মাঝে বিক্রি করছে। এর মধ্যে সরকার ৮ টাকা ৫০ পয়সা কেজি দামে বিক্রি করছেন। এতে ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৬০ টাকা সরকারি কোষাগারে যাবে। আর বাকি টাকা সরকার ভর্তুকি দিবেন বলে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ টাকার ভর্তুকি দেয়ার সুফল গ্রাম পর্যায়ের দরিদ্ররা সঠিকভাবে না পাওয়ায় অনেক জনপ্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে গোড়াই ইউনিয়নে কলিমাজানি গ্রামে চাল বিক্রির সময় ওই ইউনিয়নের চাল বিক্রির তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের পরিচালক শওকত হোসেনকে পাওয়া যায়নি।

গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম নয়া, ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান জানান, ডিলাররা সোমবার থেকে চাল বিক্রি শুরু করলেও এবিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি। তাছাড়া কার্ডধারী অনেকেই চাল বিক্রির খবর জানেন না। এর আগেও এরকম করে ডিলাররা চাল বিক্রি শুরু করেন। যারা চাল কিনতে পারে না তাদের বরাদ্ধকৃত চাল ডিলাররা কী করেন এমন প্রশ্ন তাদের।

গোড়াই ইউনিয়নের ডিলার রিপন খান ও রাসেল জানান, তদারকি কর্মকর্তাকে চাল বিক্রির খবর জানানো হলেও ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সময়মত জানানো হয়নি। এছাড়া গুদাম থেকে ৩০ কেজি ৫শ গ্রাম ওজন ধরে দিয়েছেন। তাই পরিমাপে কম দেয়ায় তারাও কিছু কম দিচ্ছেন বলে স্বীকার করেন ডিলার রিপন।

সোহাগপাড়া গ্রামের সিদ্দিক হোসেন ও নাজির পাড়ার আক্কাছ আলীর অভিযোগ, ডিলারের দোকানে ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তা থাকলেও তাদের বস্তা খুলে বালতি দিয়ে পরিমাপ করে ৩-৪ কজি করে চাল কম দিচ্ছে।

খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ডিলাররা তাদের বরাদ্ধকৃত চাল গুদাম থেকে সঠিক পরিমাপে বুঝিয়ে নিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর হোসেন বলেন, মির্জাপুরে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে এ বিষয়টিই অবগত নই। এছাড়া মাপে কম দেয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

আরোও পড়ুন...