| |

সর্বশেষঃ

ভাঙন আতঙ্কে উত্তর-দক্ষিণ

আপডেটঃ ১:১০ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

বিশেষ সংবাদদাতা : উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার মতো বড় বড় নদ-নদীতে হঠাৎ করে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীর ডিমলা, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাটোরের লালপুর, রংপুরের কাউনিয়া এবং দক্ষিণের কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুরের শিবচরসহ বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বাস্তুহারা হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

গত কয়েক দিনে মানচিত্র থেকে উধাও হয়ে গেছে বেশ কিছু গ্রাম ও জনপদ। বসতভিটা, ঘরবাড়ি, স্কুল, কলেজ-মাদ্রাসা, দোকানপাট, হাটবাজার, ফসলি জমি, গাছপালা রাতারাতি বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে। এর মধ্যে প্রমত্ত পদ্মাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনে শরীয়তপুর, রাজবাড়ী গোয়ালন্দে নদী ভাঙনের তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। খোলা কাগজ প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন-

মানচিত্র থেকে বিলীন হচ্ছে নড়িয়া

পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে মানচিত্র থেকেই যেন হারিয়ে যেতে বসেছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা। অব্যাহত ভাঙনে ইতোমধ্যে বাড়িছাড়া হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার পরিবার। হুমকিতে রয়েছে আরও ১০ হাজার পরিবার।

জেলা প্রতিনিধি  জানান, গত কয়েক হাজার ভাঙনে ২০০ বছরের পুরনো মুলফৎগঞ্জ বাজারের অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে বাজারটির বাকি অংশও। ভাঙন শুরু হয়েছে পাশের কেদারপুর ও পূর্বনড়িয়া গ্রামে। এ গ্রামের ৫০টি ঘর ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে চলে গেছে। নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনে ফাটল ধরেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাম্পাসে থাকা গ্যারেজ, মসজিদের একটি অংশ, সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশের ফটক বিলীন হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিও যে কোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে চলে যাবে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনে মুলফৎগঞ্জ বাজারের ৬শ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে আরও ৮০০ প্রতিষ্ঠান। ভাঙন আতঙ্কে অনেকে তাদের দোকানপাট সরিয়ে নিয়েছে।

এ ছাড়া, কেদারপুর ও পূর্বনড়িয়া গ্রামে ভয়াবহ ভাঙনে গত তিন দিনে শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। আতঙ্কে ৪শ পরিবার তাদের বসতঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। অনেকে আবার বাড়িঘর রেখে মালামাল নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। ভাঙনের কারণে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে।

ডিমলায় হুমকির মুখে তিস্তার বালির বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ সড়ক

খোলা কাগজের প্রতিনিধি জানান, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টার পর তিস্তার পানি দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫২ দশমিক ৬০ মি. অতিক্রম করে। রাত ১১টা পর্যন্ত তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ৮০ মিটার) উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে নেমে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী। তিনি জানান উজানের ঢল কমে আসায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে তবে সতর্কতায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জল কপাট খুলে রাখা হয়েছে।

বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চড়খড়িবাড়ী এলাকার স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বালির বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে বাঁধটির ৪০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাঁধটি দ্রত রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে হাজার হাজার পরিবারে বসতভিটা তিস্তা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ডিমলা উপজেলা খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোহলপাড়া নামক স্থানে তিস্তা নদীর ডান তীরের ৪ নম্বর স্পার বাঁধের সামনের অ্যাপ্রোচ সড়কের ১০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অপরদিকে খালিশাচাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা, বানপাড়া ও বাইশপুকুর চড় এলাকায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার খরব পাওয়া গেছে।

একই অবস্থা ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা ভেণ্ডাবাড়ী ফরেস্টের চরেও। পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংগেরসর চরের বসতভিটা বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বন্যকবলিত লোকজন গবাদিপশু ও আসবাবপত্রসহ তিস্তার ডানতীর বাঁধ ও উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

কুড়িগ্রামে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলায় প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিস্তা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ও শত শত একর ফসলি জমি। এছাড়া তিস্তার তীব্র স্রোতে উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুড়ায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টি-হেড গ্রোয়েনের একটি অংশে ও রাজারহাট উপজেলার ডাংরাহাট এলাকায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় বালুর বস্তা ফেলে মেরামতের চেষ্টা করছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের হোকডাঙ্গা, দালালপাড়া, কড়াইপাড়া, ডাক্তারপাড়া ও ভারতপাড়াসহ কিলোমিটারব্যাপী প্রায় ১০টি গ্রাম এবং রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান, বিদ্যানন্দ, ঠুটাপাইকর ও ডাংরারহাটসহ আরও এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ১৫টি গ্রামের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শত শত একর আবাদি জমি।

এদিকে মঙ্গলবার ধরলা নদীতে বাঁধ চাই, জনগণ বাঁচতে চাই- এই স্লোগানে ধরলা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন করেছে নদী ভাঙন কবলিত ধরলা পাড়ের লোকজন।

ফুলবাড়ীতে ধরলায় বিলীন ২০ বসতভিটা

প্রাতনিধি জানান, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীর পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙনও বেড়েছে। উপজেলার শেখ হাসিনা সেতুর পশ্চিমপ্রান্ত থেকে নদীর স্রোত সোজাসুজি উপজেলার অভ্যন্তরের ঢোকার কারণে গত দুদিনের ভাঙনে নদী নিকটবর্তী সোনাইকাজী গ্রামের বেড়িবাঁধ, মসজিদ, আবাদি জমি, সুপারিবাগান, বাঁশঝাড়সহ প্রায় ১৫-২০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় উজানের ঢলে ধরলা নদীর পানি ৯৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্রনাথ উরাঁও বলেন, ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ভাঙন বৃদ্ধির খবর পেয়েছি। পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজবাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙন

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা রাজবাড়ীর মানুষ। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কয়েক হাজার বিঘা জমি। দ্রুত নদী শাসন না করলে জেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে অনেক গ্রাম ও ইউনিয়ন। এদিকে, ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে বস্তায় নিয়ম অনুযায়ী বালু ভরা হচ্ছে না বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের।

দেখা গেছে, জেলা সদরের গোদারবাজার ঘাট, অন্তরমোড়, উড়াকান্দা, মহাদেবপুর, কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়ন, গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়ন এলাকায় চলছে এসব নদী ভাঙন। ভাঙনের তীব্রতায় নিঃস্ব হয়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধের উপরে। হুমকিতে রয়েছে নদীপাড়ে অবস্থিত সরকারি বিদ্যালয়, মসজিদসহ নানা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এমন কি শহররক্ষা বাঁধও। রাজবাড়ী অংশের ৮০ কিলোমিটার জুরিডিকশন অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে চলছে ভাঙন। শুধু জেলা সদরের গোদারবাজার ঘাট এলাকায় সিসি ব্লকসহ প্রায় ৫০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

শিবচরে তিন ইউনিয়নে ভাঙন

মাদারীপুরের শিবচর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল বিকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২ সেমি পানি বৃদ্ধি পেয়ে পদ্মা নদীর ভাঙনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয় দফায় গত ৩ থেকে ৪ দিনে শিবচরের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে তিনটি ইউনিয়নে ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দেওয়ায় চরবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় দফায় ভাঙন আক্রান্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। এ নিয়ে চলতি বছর ৩-৪ সপ্তাহের ব্যবধানে এ তিন ইউনিয়নে ৪টি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ৫ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে গ্রামীণফোনের টাওয়ারসহ শত শত ঘরবাড়ি, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। গত ৩-৪ দিন ধরে শিবচরের চরজানাজাত, বন্দরখোলা ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নে শতাধিক পরিবার ভাঙনের মুখে রয়েছে। ভাঙনকবলিতরা পরিবার-পরিজন গবাদিপশু নিয়ে কোনো রকমে অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থলে চলে যাচ্ছেন।

কুষ্টিয়ার কুঠিবাড়ী রক্ষা বাঁধে ধস

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, পদ্মার তীব্র স্রোতে নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মাথায় ধসে গেছে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে কুঠিবাড়ী রক্ষাবাঁধের একটি অংশ। বাঁধের কালোয়া অংশে গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে হঠাৎ করেই ধসে যায় প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই এলাকার মানুষ। বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়ি রক্ষায় সরকার প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ৩,৭২০ মিটার এই রক্ষাবাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালের ৩০ জুন।

শিলাইদহ কুঠিবাড়ী রক্ষাবাঁধ প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ জানান, বাঁধ নির্মাণের শুরু থেকেই অনিয়মের আশ্রয় নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু অভিযোগ করেও কোনো ফল আসেনি।

এদিকে পানির তোড়ে কুঠিবাড়ী রক্ষা বাঁধ প্রকল্পটি হুমকির মুখে পড়লেও একই অবস্থা শত কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মার শাখা গড়াই নদীতে সদ্যনির্মিত কুষ্টিয়া-হরিপুর (শেখ রাসেল) সংযোগ সেতুটিও। গত ৩ সেপ্টেম্বর ব্রিজের পশ্চিম পাশের বামতীরের ১৮০ মিটারের মধ্যে প্রায় ১০০ মিটার ধসে যায়।

নাটোরের লালপুরে পদ্মার বামতীরে ধস

নাটোরের লালপুর প্রতিনিধি  জানান, উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবহমান প্রমত্ত পদ্মা নদীতে পানি বাড়ার ফলে নদীর বামতীরে সিসি ব্লকে প্রায় ৩০০ গজ ধসে পড়েছে। এতে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী নূরুল্লাপুর গ্রাম।

কাউনিয়ার ১১ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি

রংপুরের কাউনিয়া প্রতিনিধি জানান, ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ায় রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি প্রভাবিত হচ্ছে। নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে কাউনিয়া উপজেলার চরাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ১১টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, ভারতের গজলডোবার দোমহনী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে পানি হু হু করে বাড়ছে। পানির চাপে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যারাজ এলাকার ভাটির চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কাউনিয়ার চরাঞ্চল ও তীরবর্তী গ্রামগুলো তিস্তার পানি প্রবেশ করায় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলার চর ঢুষমারা, চরগনাই, তালুকশাহবাজ, বিশ্বনাথ, টাপুর চর, হয়বৎখাঁ, হরিচরণশর্মা, তালুক সাহাবাজ, আরাজীকানুয়া, পাঞ্চরভাঙ্গাসহ নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জামালপুরে হুমকির মুখে গ্রাম, স্কুল ও বাজার

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার যমুনার শাখা আলাই নদের তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ইসলামপুর পচাবহলা জয়তুন্নেছা হাই স্কুল, প্রাইমারি স্কুল ও ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা কেন্দ্র পচাবহলা বাজারসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যমুনার শাখা আলাই নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল স্রোতে দেখা দিয়েছে ভাঙন। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে ইসলামপুর সদর ইউনিয়নের পচাবহলা জয়তুন্নেছা হাই স্কুল, প্রাইমারি স্কুল ও ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা কেন্দ্র পচাবহলা বাজারের অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দোকান ও ঘরবাড়ি। নদী ভাঙনের হুমকির মুখে চরম উৎকন্ঠায় রয়েছেন জয়তুন্নেছা হাই স্কুলের ৫ শতাধিক, প্রাইমারি স্কুলের ৪ শতাধিক ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-কর্মচারীসহ ঐতিহ্যবাহী পচাবহলা বাজারের কয়েক শত ব্যবসায়ী।

জয়তুন্নেছা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, ভাঙন রোধে ইউএনও’র বরাবর একটি আবেদন করা হয়েছে। যাতে করে স্কুলটি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা যায়। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল হাকিম জানান, আলাই খাল থেকে ড্রেজার ও বেকু দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করায় এ ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে স্কুল ও বাজারটি ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting