| |

সর্বশেষঃ

শেরপুরের সীমান্তে চা-চাষের উজ্জল সম্ভাবনা

আপডেটঃ ১১:৪০ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি : শেরপুর জেলা ৫টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। তন্মধ্যে ৩টি উপজেলা পাহাড়ী সীমান্ত অঞ্চল। এ অঞ্চলের ভূমি উঁচু-নিচু পাহাড়ী অঞ্চলের লাল ইটেল মাটি হওয়ার কারণে সাধারণ ফসল ধান, পাট বা অন্যান্য ফসল তেমন একটা চাষাবাদ হয় না। যে কারণে এ অঞ্চলে ধান, পাট চাষাবাদ করে তেমন লাভবান হয় না। ফলে হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি পতিত পড়ে থাকে বছরের পর বছর। কিছু সমতল ভূমিতে কৃষকেরা নানা জাতের শাক-সবজি চাষাবাদ করে। আর উঁচু-নিচু জমিতে নানা ধরণের ফলদ বৃক্ষ রোপন করে থাকে। কিন্তু এই সমস্ত উৎপাদিত সবজি ও ফলদ বৃক্ষের ফল ভারত থেকে নেমে আসা বন্যহাতির দল খেয়ে সাবার করে করে দেয়। বন্যহাতিকে বাঁধা দিতে গেলেই কৃষকের জীবন দিতে হয় বন্যহাতির কাছে। দীর্ঘ ২ যুগ থেকে চলছে বন্যহাতি আর কৃষকের মাঝে জীবন-মরণের যুদ্ধ। তাই অভিজ্ঞ মহলের ধারণা এই পাহাড়ী অঞ্চলে শাক-সবজি বা অন্যান্য ফসল চাষাবাদের চেয়ে চা-বাগান করলে একদিকে যেমন কৃষকরা বন্যহাতির ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে, তেমনি বহু বেকার লোকের কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হবে। এতে অকালে কোন কৃষকের প্রাণ দিতে হবে না। কারণ চা-বাগানের চা-গাছ হাতির খাবারের উপযোগী নয়, তাই বন্যহাতির আক্রমন অনায়াশে কমে আসবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি বেসরকারী গারো হিলস টি কোম্পানী পরীক্ষা মূলক ভাবে বেশ কিছু বাগান করেছে। এতে চা-বাগান করার মতো উজ্জল সম্ভাবনা দেখা গেছে। যদি অত্রাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর পতিত জমিতে সরকারী ভাবে চা-বাগান করা হয় তাতে অত্রাঞ্চলের কৃষক ও জমির মালিকরা লাভবান হবে। পাশাপাশি চা-বাগান করে উৎপাদিত চা-বাগান থেকে সরকার পাবে কোটি টাকা রাজস্ব। প্রকাশ থাকে যে, অত্রাঞ্চলের কৃষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নানা ধরণের ফসলাদি চাষাবাদ করে আর এই সমস্ত ফসল বন্যহাতির দল মূহুর্তেই খেয়ে সাবার করে দেয়। ফসল বাঁচাতে গিয়ে কৃষকের জীবন দিতে হয়। আর এর থেকে পরিত্রান পাওয়ার অবার সম্ভাবনাময় একমাত্র পথ হলো সরকারী/বেসরকারী উদ্যোগে চা-বাগান করা হলে তাতে উভয় সংকট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই উজ্জল সম্ভাবনাময় চা-বাগান করার সুযোগ রয়েছে অত্রাঞ্চলে।

এব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, অত্রাঞ্চলে এই লাভজনক ফসল চা-চাষের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এখানে সরকারী বা বেসরকারী ভাবে চা-চাষ করা হয় তা হবে লাভজনক। এই অর্থকরী ফসল চা-চাষ করে অত্রাঞ্চলের কৃষকরা যেমন লাভবান হবে তেমনি সরকার কোটি কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে। একই সাথে ভারত থেকে নেমে আসা বন্যহাতির আক্রমন অনেকটা হ্রাস পাবে চা-বাগান করার কারণে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting