| |

Ad

সর্বশেষঃ

ভাগ্যের পরিহাস খালেদাই এখন কারাগারে : এরশাদ

আপডেটঃ ৬:২৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, খালেদা জিয়া আমাকে বিনা বিচারে টানা ছয় বছর জেলে রেখেছেন। অমানুষিক নির্যাতন করেছে। জেলখানায় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। ঈদের নামাজ পড়তে দেওয়া হয়নি। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস খালেদা জিয়াই এখন কারাগারে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কচুক্ষেত এলাকায় রজনীগন্ধা সুপার মার্কেট চত্বর ও মানিকদী মাঠ কর্নারে নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি এ কথা বলেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে খালেদা জিয়াকে আমি বাড়ি দিয়েছিলাম, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে বিনা কারণে জেলে রেখেছিলেন। আজ সেই খালেদা জিয়া জেলে বন্দি-এটাই আল্লাহর বিচার।

তিনি বলেন, আমরা মানুষ খুন করিনি। আমাদের হাতে রক্তের দাগ নেই। তাই আল্লাহর রহমত আর সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় এখনো বেঁচে আছি। জাতীয় পার্টি এখন শক্তিশালী দল, আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে প্রস্তুত। ক্ষমতায় গিয়ে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করবো।

‘খবরের পাতা খুললেই শুধু হত্যা আর রক্তের খবর। সড়কে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। কারো যেনো কিছু যায় আসে না। এভাবে চলতে পারে না, মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরাই দেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারবো’, বলেন প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপতি।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ১০ হাজার মাইল পাকা রাস্তা করেছি। উন্নয়নের জন্য এলজিআরডি গঠন করেছি। ৪৬০টি উপজেলা করেছি। ২১ জেলা থেকে ৬৪টি জেলা করেছি। আমরা যে উন্নয়ন করেছি, আর কোনো সরকার করতে পারেনি। আমরা ছাড়া কেউ সুশাসন দিতে পারেনি। আবারো মানুষের সামনে এসেছি, আমরা বিজয়ী হয়ে দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে চাই।

তিন আসন থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে এরশাদ বলেন, তিনটি আসনে নির্বাচন করব। এর মধ্যে ঢাকা-১৭ এবং রংপুর সদর নিশ্চিত করেছি। বাকি আসনের নাম ঘোষণা করব।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ঢাকা-১৭ আসন রাজধানীর অভিজাত এলাকা। এখনকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে জাতীয় পার্টির গ্রহণযোগ্যতা আছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে সাধারণ মানুষ আমাকে প্রায় দেড় লাখ ভোট বেশি দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন। আবারো নির্বাচন করব, দেশের মানুষকে গুম, খুন থেকে মুক্তি দেব।

জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশের ২/১টি আসন বাদ দিয়ে, যেখানে নির্বাচন করবেন, সেখানেই বিজয়ী হবেন। তার উন্নয়ন, সুশাসন, কল্যাণময় কর্মসূচি মানুষ এখনো ভোলেননি।

তিনি বলেন, এরশাদই দেশ ও জাতির অকৃত্রিম বন্ধু। প্রমাণ হয়েছে এরশাদ ছাড়া দেশের মানুষকে কেউ শান্তি ও স্বস্তি দিতে পারেনি। মানুষ বিশ্বাস করে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই এদেশ থেকে খুন, গুম, দুর্নীতি আর দুঃশাসন চিরতরে বিদায় দিতে পারবেন। তিনি ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে লাঙ্গলে ভোট দিন, তিনি সহিংস রাজনীতি বন্ধ করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ উপহার দেবেন।

আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী, শফিকুল ইসলাম সেন্টু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, আমানত হোসেন আমানত, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল হক, সুলতান আহমেদ সেলিম, মো. জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, হেলাল উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, আনিস উর রহমান খোকন, মাখন সরকার, এমএ রাজ্জাক খান, ডা. সেলিমা খান, কাজী আবুল খায়ের, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান দুলাল, আব্দুস সাত্তার গালিব, ফজলে এলাহী সোহাগ, ফারুক শেঠ, আব্দুস সাত্তার, মামুনুর রহমান, মোহাম্মদ আলী খান, মো. ইব্রাহিম, জামাল মাতুব্বর, সিরাজ তসলিম, শরিফুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম জহির, প্রিন্সিপাল মোস্তফা চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, মো. কামাল, আলমগীর, বাবু, রিয়াজ, মোস্তফা আল ফয়সাল, এএনএম রফিকুল ইসলাম সেলিম, এমএ হাশেম প্রমুখ।

আরোও পড়ুন...