| |

সর্বশেষঃ

নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত, নতুন এলাকা বিলীন

আপডেটঃ ৬:৩২ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

বিশেষ সংবাদদাতা : সর্বনাশা পদ্মা নদীর ভাঙন অব্যাহত আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নড়িয়া উপজেলার বাশতলা এলাকার বিশাল বিশাল পাকা বাড়িঘর, গাছপালা ও কলার বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। আশপাশের বাড়িঘর সরিয়ে নিতে দিনরাত কাজ করছে ভাঙন কবলি মানুষ। অনেক পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তারা অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছেন। এ এলাকায় চাহিদার তুলনায় সরকারি ত্রাণ সামগ্রী অপ্রতুল। গত দুদিন ধরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ মারাত্মক আতঙ্কে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নড়িয়া উপজেলার বাশতলা এলাকার বিশাল বিশাল ১৫টি পাকা বাড়িঘর, গাছপালা ও কলার বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

এ ছাড়া গত তিনদিন আগে ধসে পড়ে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনটি। এ ভবনের কিছু অংশ বুধবার নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ঝুঁকিতে রয়েছে মুলফৎগঞ্জ বাজারের প্রায় ৮ শতাধিক দোকানপাট ও একটি ব্যাংকসহ আশপাশের শত শত বাড়িঘর। তারা বাড়িঘরসহ মালামাল সরিয়ে নিতে সারাক্ষণ কাজ করছেন। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের দাবি জরুরি ভিত্তিতে এ এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামূল হক শামীম ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন খুব শিগগিরই পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।

স্থানীয় মিহির চক্রবর্তী বলেন, আমাদের ভাঙন অব্যাহত চলছে। প্রতিদিন নতুন এলাকা ভাঙছে। বিশাল বিশাল বাড়িঘর দালানকোঠা বিলীন করে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। কমপক্ষে ১ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ভাঙনের মুখে।

শিরিন আকতার বলেন, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বিলীন হওয়াতে আমাদের এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকিতে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া না হলে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়বে।

আবুল হাসেম বলেন, নদী আমাদের সবকিছু নিয়ে গেল। আমাদের আর কিছুই রইল না। আমরা এখন কোথায় যাব কি করবো। কেমনে বাঁচবো জানি না। আল্লাহ ছাড়া আমাদের কেউ নেই।

আওয়ামী লীগর সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামূল হক শামীম বলেন, নদীতে প্রচুর স্রোত। নদীর গভীরতা এতবেশি যে এ মুহূর্তে বেড়িবাঁধের কাজ করা সম্ভব না। পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু করা হবে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting