| |

সর্বশেষঃ

অপপ্রচার বন্ধে অনলাইন নীতিমালা করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ ৩:০৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তাই সব ধরনের অপপ্রচার বন্ধে অনলাইন নীতিমালা গঠন করা হবে। মানু্ষের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। মানুষের জীবন মানের পরিবর্তন করা হলো আওয়ামী লীগের মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।

আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে আর্থিক সহায়তা ভাতা এবং অনুদানের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন- ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই বঙ্গবন্ধু প্রেসক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন করার থেকে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন।’ তিনি স্বাধীনতার ছয়মাসের মাথায় সাংবাদিকদের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় আমিও কোনও হস্তক্ষেপ করতে চাই না। আমি জাতির পিতাকে অনুসরণ করেই দেশ পরিচালনা করতে চাই।

তিনি বলেন- ‘সংবাদমাধ্যমগুলোকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই স্বাধীনতা নিয়ে বালখিল্য আচরণ করা যাবে না। ডিজিটাল বাংলাদেশে অনলাইনের প্রসার হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু কিছু অনলাইন মাঝে মাঝে আপত্তিকর নিউজ ছাপিয়ে দেয়। এইজন্য অপপ্রচার বন্ধে অনলাইন নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসুস্থ, দুর্ঘটনায় হতাহত ও অস্বচ্ছল সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য গঠিত সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে আরও ২০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ, বিশেষ করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মালিকদের এই ট্রাস্টে বেশি বেশি অনুদান দেয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যখন জানলাম সাংবাদিকদের অনেকেই কষ্টে আছেন, তখন একটা তহবিল করে দিয়েছিলাম। ২০ লাখ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। পরে যখন সরকার গঠন করলাম, তখন সুযোগ পেয়ে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে দিলাম। সেই ট্রাস্টে এখন ১৪ কোটি টাকা আছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী এই ট্রাস্টে আরও ১০ কোটি টাকা অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন। পরে অবশ্য অনুদানের অঙ্ক দ্বিগুণ করে ২০ কোটি টাকা জমা দেবেন বলে জানান।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের মালিকপক্ষকে এই ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন- ‘এতো পত্রিকা, এতো রেডিও, এতো টিভির অনুমোদন দিয়েছি, আপনারা (মালিকপক্ষ) কেন এই ট্রাস্টে অনুদান দেবেন না? অনুদান চেয়ে মাত্র দু’জন মালিকের কাছ থেকে আমরা সাড়া পেয়েছি, একজন ইত্তেফাকের মালিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আরেকজন মাছরাঙা টিভির অঞ্জন চৌধুরী। আর কারও কাছে সাড়া পাইনি। কিন্তু এখন তো সবার অবস্থা ভালো। সবাই ভালো ব্যবসা করছেন। আপনারা সবাই টাকা দেবেন। আর মালিকপক্ষ যত বেশি টাকা দেবেন, আমার পক্ষ থেকেও এই ট্রাস্টে অনুদানের টাকা বাড়বে।’

এসময় উপস্থিত তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করলে তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে ২০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে। আমি ২০ কোটি টাকা দেবো।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চেক প্রদান করেন।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting