| |

সর্বশেষঃ

নদীর সীমানা জটিলতা দূরে কমিটি গঠন

আপডেটঃ ৬:৩০ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮

সচিবালয় প্রতিবেদক : নদীর সীমানা জটিলতা নিরসনে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করবে।

বৃহস্পতিবার নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীসহ ঢাকার চারপাশে নদীগুলোর দূষণরোধ এবং নাব্যতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত ‘টাস্কফোর্স’র ৩৮তম সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। নৌ পরিবহনমন্ত্রী ও টাস্কফোর্সের সভাপতি শাজাহান খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

একইসঙ্গে নদী তীর দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষাকল্পে আরো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, গাজীপুর মহানগর ও নরসিংদীতে নতুন করে আর শিল্প-কল কারখানা গড়ার অনুমতি দেয়া যাবে না। নতুন শিল্প কল-কারখানা অর্থনৈতিক জোন এলাকায় গড়তে হবে। স্লোব করে নদী তীর বা খাল পাড় বাঁধাই করা যাবে না। খাড়া (সোজাসুজি) করে তীর বাঁধাই করতে হবে, যাতে সেগুলো দখল হতে না পারে। প্রয়োজনে ওয়াকওয়ের সঙ্গে ড্রাইভওয়ে নির্মাণ করতে হবে।

সভায় জানানো হয়, ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং উচ্ছেদকৃত জায়গা যাতে পুনঃরায় দখল হয়ে না যায়, সেজন্য উল্লেখিত নদীগুলোর উভয় পাশে ২২০ কিলোমিটার ‘ওয়াকওয়ে’ নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মিত হয়েছে। ৫ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে আশুলিয়াতে ৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হবে। বাকি ১৫০ কিলোমিটার ‘ওয়াকওয়ে’ নির্মাণ কাজের প্রকল্প গ্রহণের স্টাডি চলমান রয়েছে। নদী তীরে বনায়ন ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার শ্যামপুর ও নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে দুটি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। আশুলিয়া, সিন্নিরটেক ও টঙ্গিতে আরো ৩টি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হবে।

সভায় আরো জানানো হয়, নদীর তীরের সীমানা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ৯,৫৭৭টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩,৮৫৬টি পিলার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিতর্কিত ১,৭৫১টি পিলারের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে বিতর্কিত ২,১০৫টি পিলারের নিষ্পত্তি করা হবে। নতুন করে ১০,৪০০ সীমানা পিলার স্থাপন করা হবে। নতুন সীমানা পিলারগুলো বড় ও দৃশ্যমান করে নির্মাণ করা হবে। বিআইডব্লিউটিএ নতুন করে ১৯টি আরসিসি জেটি নির্মাণ করবে।

সভায় জানানো হয়, বিআইডব্লিউটিএ নদী তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৫০১.২৬ একর জমি উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ঢাকার চারপাশে ৩০৭.২৬ একর এবং নারায়ণগঞ্জে ১৯৪ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ৯,৭৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৬,৯৫১টি এবং নারায়ণগঞ্জে ২,৭৭৯টি উচ্ছেদ করা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, ঢাকা শহরের ৪৬টি খালের মধ্যে ২৬টি খাল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি খালের সংস্কার কাজ চলছে। নতুন করে খাল যাতে দখল হয়ে না যায়, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। সাভারস্থ ট্যানারি শিল্প এলাকায় কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধানাগার স্থাপন যথাযথ হয়নি। এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সভায় জানানো হয়, পরিবেশ অধিদফতর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকে ১৫৪ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে। নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে সিমেন্ট কারখানা স্থাপন করায় নদী তীর যাতে দখল ও দূষণ না হয়, সেজন্য উক্ত এলাকার শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে সভা করতে হবে।

নদী তীর দখল ও দূষণরোধে জেলা-প্রশাসকদের নিয়মিত মনিটরিং ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমাবেশ করতে হবে।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহাদৎ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting