| |

সর্বশেষঃ

ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে

আপডেটঃ ১:১০ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন, যা বিগত ৯ বছরে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

সোমবার সচিবালয়ে নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ব্যাপক উদ্যোগের ফলেই মৎস্য খাতে অভূতপূর্ব উন্নতি হওয়ায় দেশ আজ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পেরেছে। এক্ষেত্রে ইলিশ মাছের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। বিশ্বে ইলিশের উৎপাদনে বাংলাদেশ যেমন প্রথম স্থানের অধিকারী তেমনই আমরা একাই ৭০-৭৫ ভাগ ইলিশ উৎপাদন করে থাকি।

এসময়ে সার্বিক মাছের উৎপাদনও ২৭ লাখ ১ হাজার মে. টন থেকে বেড়ে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার মে. টনে উন্নীত হয়েছে। এটি ২০১৬-১৭ সালের উৎপাদন-লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের চেয়ে ৮৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি। তাই ২০১৭-১৮ সালে ইলিশের উৎপাদন যেমন ৫ লক্ষ টন ছাড়িয়ে যাবে তেমনই মাছে উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়ে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার মে.টন হবে বলে আশা করা যায়।

তিনি বলেন, দেশে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩১ শতাংশ মানুষ মৎস্যখাতে জড়িত এবং ১১ শতাংশের অধিক লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক শতাংশের অধিক। কাজেই একক প্রজাতি হিসেবে ইলিশের অবদান র্সবোচ্চ। ফলে মাত্র ৯ বছরের ব্যবধানে এ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ।

ইলিশের ভৌগোলিক নিবন্ধনের কথা উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নরিীক্ষা ও আইনানুগ কার্যক্রমশেষে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের ভৌগোলিক নিবন্ধন (জিআই সনদ) প্রদান করনে। বাংলাদশেরে জাতীয় মাছ ইলিশের ভৌগোলিক নিবন্ধন সম্পন্নের ফলে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও গুণগত মানসম্পন্ন ইলশি বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বাণিজ্যিকসহ অন্যান্য সুবধিা পাওয়া যাবে। ইতিপূর্বে ইলিশের কোনো ব্র্যান্ডিং ও ট্রেডমার্কও ছিল না। বিশ্বে ইলিশের ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশেই সর্বপ্রথম সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বিদেশের ক্রেতারা এখন সহজেই বাংলাদশী সুস্বাদু ইলিশমাছ শনাক্ত করতে পারবেন। সরকার স্থানীয় ও আর্ন্তজাতকি বাজারে ইলিশের ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্যের চাহিদার প্রেক্ষিতে ইলিশের স্যুপ, নুডলস ও পাউডার তৈরির প্রযুক্তি আবিস্কার করে ইতোমধ্যেই তা বাজারজাতও শুরু করেছে।

ইলিশ সংরক্ষনে সরকারের কর্মসূচির কথা উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার্কমসূচরি আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জাটকাসমৃদ্ধ ১৭ জেলার ৮৫টি উপজেলায় জাটকা আহরণে বিরত রাখতে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩জন জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ৪ মাসের জন্য মোট ৩৮,১৮৭.৬৮ মে. টন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২,৪৮,৬৭৪টি জেলে পরিবারের প্রতি পরিবারকে মোট ৩৯,৭৮৮.০০ টন চাল প্রদান করা হয়েছে। অথচ ২০০৪-০৫ থেকে ২০০৭-০৮ পযন্ত এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে মাত্র ৬,৯০৬ টন। অপরপক্ষে ২০০৮-০৯ থেকে ২০১৬-১৭ র্অথবছর র্পযন্ত মোট ২,৭৪,৫৪৫ টন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৪-০৫ থেকে ২০০৭-০৮ সাল পর্যন্ত জাটকা আহরণ নিষিদ্ধিকালীন পরিবারপ্রতি মাসিক ১০ কেজি হারে খাদ্য দেয়া হলে র্বতমানে ৪০ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা প্রদান হচ্ছে। তাছাড়া ২০০৭-০৮ সালে ১,৪৫,৩৩৫টি জেলেপরবিার এ র্কমসূচরি অর্ন্তভুক্ত থাকলেও র্বতমানে পরিবারসংখ্যা ২,৪৮,৬৭৪টিতে উন্নীত হয়েছে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৩০৫ মে.টন মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি করে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে, যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting