| |

সর্বশেষঃ

মহাষ্টমীতে দেবীর চরণে ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলী, কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত

আপডেটঃ ২:৫৬ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৭, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলছে মহাঅষ্টমী তিথি, শারদীয় দুর্গোৎসবের তৃতীয় দিন৷ দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলী অর্পণের জন্য ভক্তদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন এটি৷ এ দিনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রতিটি মানুষ উপবাস করে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলী অর্পণ করেন৷

বুধবার সকালে দেশের প্রতিটি মণ্ডপে দুর্গাদেবীর মহাষ্টম্যাদি বিহিত পূজা প্রশস্তা ও মহাষ্টমীর ব্রতোপবাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। অগণিত ভক্ত দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলী অর্পণ করেছেন। মহাষ্টমীর পাশাপাশি রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠে কুমারী পূজাও অনুষ্ঠিত হয়েছে৷

এবার কুমারী হয়েছে ৮ বছর বয়সী মিতলী চক্রবর্তী। তার বাবার নাম কালী প্রসাদ চক্রবর্তী এবং মাতা সুচিত্রা চক্রবর্তী। সে মানিকগঞ্জ জেলার খাবাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেণিতে পড়ে। খাবাশপুরেই তার বাড়ি।

এদিকে, অষ্টমী বিহিত পূজা উপলক্ষে রাজধানীর প্রতিটি পূজা মণ্ডপে ভক্তদের সুবিধার্থে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। কারণ পূজার পাঁচ দিনের মধ্যে এ দিনটিতেই মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় হয়৷ পুষ্পাঞ্জলীর জন্য স্থান সংকুলান করা খুব ঝামেলার কাজ হয়ে দাঁড়ায় প্রতিটি মণ্ডপেই। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমীর মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা।

শাস্ত্র মতে, জগতমাতাকে (দেবীদুর্গা) সকল নারীর মধ্যেই মাতৃরূপে পাওয়া যায়। এ উপলব্ধি সকলের মধ্যে জাগ্রত করার জন্যই কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। দুর্গা মাতৃভাবের প্রতীক আর কুমারী নারীর প্রতীক। কুমারীর মধ্যে মাতৃভাব প্রতিষ্ঠাই এ পূজার মূল লক্ষ্য।

যেভাবে দেবী দুর্গার আরাধনা করা হয়, কুমারী পূজার সময় দুর্গা প্রতিমার সামনে একইভাবে একজন কুমারীকে বসিয়ে সেই সম্মান প্রদান করা হয়। শুধু মাটির প্রতিমা নয়, নারীর মধ্যেও মাতৃভাব আনা হয়।

এদিকে, এ বছর পূজার মধ্য দিয়ে ৬৭ বছরে পদার্পণ করেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী পূজা কমিটি সম্মিলনী৷ এ কমিটির পরিচালনায় রাজধানীর ফরাশগঞ্জের বিহারী লাল জিউর মন্দির প্রাঙ্গণে বুধবার মহাষ্টমীর তিথি অনুযায়ী মহাষ্টমী বিহিত পূজা প্রশস্তা ও মহাষ্টমীর ব্রতোপবাস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ ছাড়াও অষ্টমীপূজা শেষে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলী প্রদান ও ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে৷ এ সময় এ মণ্ডপে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে৷

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ রাজধানীর ২৩৪টি পূজা মণ্ডপে নবপত্রিকা প্রবেশ ও ঢাক-ঢোলক-কাঁসর বাজিয়ে কলাবউ স্নান ও আদরিণী উমার সপরিবারে তিথিবিহীত পূজা শেষে সপ্তমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

তার আগে সোমবার ষষ্ঠী তিথিতে সায়ংকালে অর্থাৎ সন্ধ্যায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হয়। মূলত ওই দিন থেকেই পূজামণ্ডপগুলো ঢাকের বোল, মন্ত্র ও চণ্ডীপাঠ, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে কেঁপে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার মহানবমী ও শুক্রবারে বিজয়া দশমী শেষে ‘উমা’ দেবী কৈলাশে ফিরবেন।

দুর্গোৎসব উপলক্ষে ইতিমধ্যে রাজধানীসহ সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোকে সাজানো হয়েছে রঙিন সাজে। এই ক’দিন পূজামণ্ডপগুলোতে চলবে পূজার্চ্চনা, পুষ্পাঞ্জলী, আরতি, মহাপ্রসাদ বিতরণ, ভক্তিমূলক গানসহ নানা বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানমালা।

এদিকে, শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সোমবার থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ভিড় করছেন। আজ থেকে ভিড় আরো বাড়বে বলে জানান আয়োজকরা।

এই ক’দিন উৎসব-আনন্দে মেতে উঠবে শিশু-কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ। বাহারি পোশাক আর অঙ্গসজ্জায় নিজেদের সাজিয়ে রাঙিয়ে তারা মন্দিরে মণ্ডপে ভিড় করবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দেয়া তথ্যমতে এবার সারাদেশে ৩১ হাজার ২৭২টি স্থায়ী-অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীতে পূজা হচ্ছে ২৩৪টি পূজামণ্ডপে।

দুর্গাপূজাকে ঘিরে সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দুর্গোৎসবে নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার সদস্য ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি পূজা আয়োজকদের স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পূজা উপলক্ষে নানা বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপ, গুলশান বনানী সার্বজনীন পূজা পরিষদ মণ্ডপ, রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজার, ফার্মগেট খামারবাড়ি সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘ, ডেমরার দেইল্যা পূর্বপাড়া পূজামণ্ডপসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মহাসমারোহে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting