সংবাদ শিরোনাম

 

 

হঠাৎ করে সার-ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নেত্রকোনার চাষিরা। উৎপাদন খরচের সঙ্গে উৎপাদিত ফসলের মূল্যের সমন্বয় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চাষিদের। উৎপাদন সামগ্রীর দাম না কমালে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমে আসবে। মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় শুধুমাত্র ইউরিয়া সারেই জেলার কৃষকদের অতিরিক্ত গুণতে হবে সাড়ে ৫ কোটি টাকা।

 

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নেত্রকোনায় পুরোদমে শুরু হয়েছে রোপা আমনের আবাদ। এ বছর আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ হেক্টর জমি। ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে ৯ হাজার ৮৮৪ মেট্রিক টন, টিএসপি ১ হাজার ৪৪ মেট্রিক টন, ডিএপি ৩ হাজার ৪৫৯ মেট্রিক টন ও পটাশ সারের চাহিদা রয়েছে ২ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন। এসব সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের বাড়তি গুণতে হবে প্রায় বিশ কোটি টাকা।

 

জেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ কৃষক রোপা আমনের আবাদ নিয়ে পড়েছেন ঝুঁকিতে। সার, ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদিত ফসলের সঙ্গে খরচের হিসাব মেলাতে পারছেন না তারা।

 

নির্ধারিত সময়ে সরকারি নিয়মে ধান ক্রয় শুরু না করায় বরাবরই ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন চাষিরা। এ বছর সার, ডিজেলসহ কৃষি কাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আসন্ন বোরো মৌসুমে কমে যাবে ফসলের চাষাবাদ।

 

বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল বারেক তালুকদার ও লামাপাড়া গ্রামের সাদেক মিয়া বলেন, আগে যেখানে আমরা পাঁচ একর জমি চাষ করতাম তারা এখন এক একর জমি করবো। শুধু সারই নয় লোডশেডিংও আছে। এই অবস্থায় উৎপাদন খরচের সঙ্গে ফসলের হিসাব মেলাতে পারবো না। অনেক ক্ষতি হবে। তাই শুধু নিজেদের যে পরিমাণ খাদ্য লাগবে সেটাই চাষাবাদ করবো।

 

একই উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, সরকার যে পরিমাণ দাম বাড়িয়েছে গ্রামাঞ্চলে আরো বেশি দাম দিয়ে সার ডিজেল কিনতে হবে। নানান অজুহাতে ডিলার সাব ডিলাররা দাম বেশি রাখবে। এসব কারণে চাষাবাদে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

 

মোহনহঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর গ্রামের বাসিন্দা ও হাওর রক্ষা পরিষদের নেতা কাজল তালুকদার ও খালিয়াজুরী এলাকার বাসিন্দা স্বাগত সরকার শুভ বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আসন্ন বোরো মৌসুমে হাওরাঞ্চলে বোরোর আবাদ কমে যাবে। যে কৃষক ২ হাজার মণ ধান উৎপাদন করে সে একশো মণ ধানের ফসল চাষ করবে। সার ডিজেল শ্রমিকের খরচ দিয়ে হিসাব করলে কৃষকের ক্ষতি হবে। তাই কৃষকরা অতিরিক্ত জমি চাষাবাদ করতে চাইবে না। সরকরি যদি কৃষিকাজে ব্যবহৃত উপকরণ ভর্তুকি মূল্যে দেয় তাহলে খাদ্য উৎপাদন ঠিক থাকবে। নয়তো হুমকিতে পড়বে দেশের খাদ্য উৎপাদন।

 

জেলা সুজনের সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল ও হাওর গবেষক সঞ্জয় সরকার বলেন, এক একর জমিতে যত টাকা খরচ করে ফসল উৎপাদন করতে হয়, সেই টাকার পরিমাণ ধান উৎপাদন না হলে বা কম হলে ঋণ করে চাষাবাদ করতে চাইবে না কৃষকরা। সরকার এখনই বিষয়টি নিয়ে না ভাবলে দেশের খাদ্য উৎপাদন হুমকিতে পড়বে। অন্য দেশ থেকে খাদ্য আমদানি করার চেয়ে ভর্তুকি দিয়ে খাদ্য উৎপাদন নিরাপদ হবে। তাই বিষয়টি নিয়ে এখনই সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মাদ নূরুজ্জামান বলেন, সার ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা প্রভাব পড়বে। তবে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন কৃষকরা। তাছাড়া সরকার বিভিন্ন সময় কৃষকদের বিনামূল্যে সার বীজ দিয়ে যাচ্ছে।

 

 


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম