| |

সর্বশেষঃ

মেলায় প্রাণ ফিরেছে

আপডেটঃ ১১:৩১ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার শুরু থেকেই বইপ্রেমীদের আগ্রহ আর উপস্থিতি মেলাপ্রাঙ্গণে আলাদা আবহ তৈরি করে। তবে শুরু থেকেই ছিল কিছুটা ছন্দপতন। আশানুরূপ দর্শনার্থী এবং ক্রেতা পাচ্ছিলেন না প্রকাশকরা। চাপা আশঙ্কা মনে নিয়ে মেলা জমে ওঠার প্রতীক্ষায় ছিলেন তারা। প্রাণহীন ছিলো প্রাণের মেলা। তবে মেলার দশম দিনে এসে প্রাণের মেলা স্বরূপে ফিরেছে। পাঠক-প্রকাশকরা বলছেন, প্রাণের মেলা ফিরে পেয়েছে প্রাণ। গতকাল রোববার অমর একুশে গ্রন্থমেলার দশম দিনে মেলায় উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। সদ্য শেষ হওয়া বাণিজ্য মেলা আর গতকালের সরস্বতী পূজার কারণে মেলায় এদিন ভিড় বেশি দেখা গেছে। বিকাল ৩টায় মেলা শুরুর নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই উপস্থিত হন হাজারো বইপ্রেমী। গেট খোলার অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। এ সময় গ্রন্থমেলার দুটি গেটে দীর্ঘলাইন দেখা যায়। পরে মেলাপ্রাঙ্গণে প্রবেশ করে পছন্দের বইটি কেনার পূর্বেই ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন আগতরা। তবেমূল্যবান সময় নষ্ট না করেই কাক্সিক্ষত বইটি ক্রয়ের জন্য খোঁজ শুরু করেন অনেকেই।মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের গেট দিয়ে প্রবেশ করে একটু সামনে গেলেই হাতের বামে পাওয়া যাবে অনন্যা প্রকাশনীর প্যাভিলিয়ন। মেলা শুরুর পর থেকেই এই প্যাভিলিয়নটিতে পাঠকের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। প্যাভিলিয়নটির একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে বই মেলা শুরু হলেও গত শনিবার পর্যন্ত ছিলো বাণিজ্য মেলা। ফলে অনেকেই বই মেলায় আসতে পারেননি। বাণিজ্য মেলা শেষ হয়েছে বলে এখন পাঠকের উপস্থিতি বাড়ছে।’অনিন্দ্য প্রকাশের প্যাভিলিয়নেও পাঠক-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। এ প্যাভিলিয়নে মোস্তাক আহমেদের ৪টি নতুন বই এসেছে। পাঠকের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে এই বইগুলো। পাঠক সমাবেশের প্যাভিলিয়নেও বই দেখতে ভিড় জমান পাঠক-দর্শনার্থীরা। প্যাভিলিয়নটির ক্যাশ ইনচার্জ রাসেল আহমেদ বলেন, সরস্বতী পূজার কারণে বইপ্রেমীদের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে বিক্রি সেই অনুপাতে বাড়বে কিনা বলা মুশকিল। তাম্রলিপি, মাওলা ব্রাদার্স, সময় প্রকাশন, পাঞ্জেরী, প্রথমা, শব্দশৈলী, বৈভব, টুম্পা, আকাশ প্রকাশনসহ বিভিন্ন প্রকাশনীর সামনে পাঠকের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো।রাজধানীর শান্তিনগর থেকে পরিবারের সাথে মেলায় এসেছেন রঞ্জন বিশ্বাস নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, জগন্নাথ হল থেকে পূজা শেষ করে পরিবারের সবাই মিলে মেলায় এসেছি। সবাই মিলে আবার মেলায় আসতে পারবো কিনা জানি না। এই জন্যই সুযোগটা মিস করতে চাইনি। বাণিজ্য মেলার ব্যস্ততায় এতদিন বই মেলায় আসতে পারেননি বেসরকারি চাকরিজীবী আসাদ জামান। তিনি বলেন, বই মেলার শুরু থেকেই আসার জন্য মনটা ছটফট করছিলো। কিন্তু বাণিজ্য মেলায় আমার প্রতিষ্ঠানের একটা স্টল ছিলো। সেখানেই সারা মাস দায়িত্ব পালন করেছি। তাই বই মেলায় আসার সময় হয়নি। এখন সময় পেয়েই চলে এসেছি। অধরা জাহান অরিন নামে টুম্পা প্রকাশনীর এক বিক্রয়কর্মী বলেন, সময় যত যাচ্ছে, মেলায় ভিড় তত বাড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মুনিয়া জামান বলেন, ভেবেছিলোম গত শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে অনেকেই মেলায় ঘুরে গেছেন। আজ (রোববার) হয়তো ভিড় কম থাকবে। কিন্তু এখন এসে দেখি ভিড় আরও বেড়েছে।এদিকে মেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হওয়ায় দর্শনার্থীরা নিশ্চিন্তে মেলায় আসছে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ প্রশাসন। তারা জানায়, একদিকে যেমন আবহাওয়া বেশ ভালো। অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়ে কারো মনে সংশয় নেই। ফলে পাঠক-দর্শনার্থীরা নিশ্চিন্তে মেলায় আসছেন।অমর একুশে গ্রন্থমেলার দশম দিনে নতুন বই এসেছে ৯০টি। এদিন বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘কথাশিল্পী অমিয়ভূষণ মজুমদার : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহীবুল আজিজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হোসেন উদ্দীন হোসেন, মাহবুব সদিক এবং হরিশংকর জলদাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেলিনা হোসেন। একই দিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় কবি কণ্ঠে কবিতা পাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রাবন্ধিক বলেন, এক প্রবল দায়বদ্ধ লেখক অমিয়ভূষণ মজুমদার। আদিতে ছিলেন পূর্ববঙ্গের পাবনা’র মানুষ, স্থিত হলেন উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে। রাজনীতির নিয়তিনির্দিষ্ট অধিকাংশের মতন কলকাতারও নয়, হয়ে পড়েন কলকাতা ছাড়িয়ে আরও দূরের জন। আর সেখান থেকেই দারুণ দার্ঢ্য নিয়ে অধিষ্ঠিত হন কেন্দ্রে, পরিণত হন বাংলা সাহিত্যের অনিবার্য লেখক। তাঁর সাহিত্য-বিচারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রিকতা-প্রান্তিকতা প্রভৃতি হিসেবকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখতে হয় যখন তিনি কলকাতাকে অভিহিত করেন ‘ঔপনিবেশিক শহর’ রূপে। সুদীর্ঘ অতিক্রান্ত কালের পরেও সে-শহর ঔপনিবেশিক শক্তিসৃষ্ট শহর শুধু নয় তা উপনিবেশিত দৃষ্টিভঙ্গির অতিরেক বৃহত্তর মূল্যে উত্তীর্ণ হতে না পারায় তাকে সংকীর্ণ চৌহদ্দি বলে মনে করতেন অমিয়ভূষণ। লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন কবি অসীম সাহা, রেজাউদ্দীন স্টালিন, মীম নোশিন নাওয়াল খান, মাজহার সরকার এবং পারভেজ হোসেন। কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন মুহম্মদ নূরুল হুদা এবং সঞ্জীব পুরোহিত। আবৃত্তি পরিবেশন করেন মীর মাসরুর জামান রনি এবং লাবণ্য শিল্পী। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আলম দেওয়ান, রণজিত দাস বাউল, মমতা দাসী বাউল, লতিফ শাহ এবং মোঃ আনোয়ার হোসেন। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বেণু চক্রবর্তী (তবলা), মো. খোকন (বাঁশি), মো. হাসান মিয়া (বাংলা ঢোল), নওফেল বাদশা (দোতারা)। আজ যা থাকছে : আজ সোমবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১১তম দিন। এদিন বিকেল ৩টায় মেলা শুরু হয়ে চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে নৃত্যাচার্য বুলবুল চৌধুরী : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অনুপম হায়াৎ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আমানুল হক, লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং শিবলী মহম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কামাল লোহানী। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

HostGator Web Hosting