| |

সর্বশেষঃ

হারিয়ে যাচ্ছে জামালপুরের শত বছরের পুরোনো বড় হাট

আপডেটঃ ১২:২৯ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯

জামালপুর সংবাদদাতা, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : গুদগাশিমলার রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে বাবার হাত ধরে পায়ে হেঁটে হাটে আসত শিশু এলাহী বকস। আসা যাওয়ায় মাঝে ১০ বছর বয়সে এই হাটেই ব্যবসা শুরু করে শিশুটি। এরপর এই হাটেই তার কেটে গেল ৭৫ বছর।

সেই সময়ের হাটের চিত্র তুলে ধরে ৮৫ বছর বৃদ্ধ পান ব্যবসায়ী এলাহী বকস বলেন, হাট সরগরম হয়ে উঠতো ক্রেতা সমাগমে। সপ্তাহের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা সেরে নিতেন হাটে আসা লোকজন।

এক সময় ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহলে মুখরিত থাকত হাটটি। হাটের দিন হাটগামী ও হাট ফেরত মানুষের সারি সারি লাইন। এসব মানুষের হাতে সন্তানের বায়নার ইলিশ মাছ আঙ্গুলে ঝুঁলিয়ে, হতে সাপ্তাহের বাজারের ব্যাগ,কেউবা শ্রীপুরের সালশা, নতুন বউয়ের লাল টুকটুকে শাড়ি কিনে মনের আনন্দে বাড়ি ফিরতেন। ক্রেতা সামলাতে হিমশিম খেত হাটের দোকানীরা।

এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাট ছিল রানীগঞ্জ। বড় হাট বা বৈকাল বাজার নামেই পরিচিত হয়ে ওঠে। আশপাশে এলাকার বাইরেও দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসতো বেচাকেনা করতে।

হাটে বেচাকেনারত অবস্থায় কথা হয়, শরিফপুরের মির্জাপুর গ্রামের পিঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদের (৬০) সাথে। তিনি মলিন মুখে বলেন, হাটটি কি দেখছিলাম কি হইলো। যে হাটে পা ফেলানোর জায়গা থাকতো না, প্রচণ্ড ভিড়ে বাবার হাত ধরে আসা ছেলে-মেয়েরা হারিয়ে যেত। প্রায়দিনই হাট ইজারার মাইকে নিখোঁজের সংবাদ শোনা যেত। এই জমজমাট হাট এখন ক্রেতাশূন্য। ক্রেতা ফেরাতে পারতাম না সেখানে আজ ক্রেতার আসায় বসে থাকি।

তিনি বলেন, আগে ১০/১৫ মণ পিঁয়াজ হাটে আনলে খালি হাতে বাড়ি ফিরতাম। এখন ১০/১৫ কেজিও বিক্রি হয় না। দুই থেকে ৩শ টাকা কামাই হয়, পুষে না তারপরেও হাটে আসার অভ্যাস, না এসে থাকতে পারি না।

লোক সমাগমে মুখরিত হাটটির বেহালদশার কারণ খুঁজতে গিয়ে আলাপ হয় লোহার গৃহস্থালী সামগ্রী বিক্রেতা খাদেম আলী (৬৫) সাথে। যত্রতত্র বাজার গড়ে ওঠা, মুদির দোকানে সবধরনের পাওয়ার সহজলভ্যতা, জরার্জীর্ণ চালাঘর ও হাট পরিচালনায় অব্যবস্থাপনায় হাটমুখী হচ্ছে না ক্রেতা বিক্রেতারা। এই সমস্যায় পড়ে বড় হাট ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে।

জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র নদ পথকেন্দ্রিক ব্যবসায়-বাণিজ্য ঘিরে শত বছরের আগে রানীগঞ্জ বাজার (বড় হাট) গড়ে ওঠে। বৃহত্তর জামালপুরের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়-বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল এটি। এই হাটের মালামাল আনা নেয়ায় পাশেই বংশ খালে হাজার মণি-মুক্তাসহ বজরা নোঙর করে রাখতো সওদাগররা। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বেচাকেনার আওয়াজ শোনা যেত এক মাইল দূর থেকে। সেই জমজমাট হাট কালের বির্বতনে ও অবৈধ দখলদারদের কবলে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে।

যত্রতত্র বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠায় এখন মানুষজন সপ্তাহের পরিবর্তে দিনের বাজার দিনেই সেরে নেয়। তাই হাটের গুরুত্ব হারিয়ে অতিতের স্মৃতি আঁকড়ে কোনোমতো অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।

হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, ঐতিহ্যবাহী হাটটির পুরোনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পৌর কর্তৃপক্ষের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। হাটের অবকাঠামো উন্নয়ন করে রাস্তার পাশে বসা বাজারের ব্যবসায়ীদের হাটে আনতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি বলেন, বড় বাজার হাটের অতিত গৌরব রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী হাটটি আগের অবস্থায় নেই। যেখানে সেখানে বাজার গড়ে ওঠায় এখন হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা কম আসে। হাটটি জমজমাট করার জন্য বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও কাজে আসেনি।

হাটের অবকাঠামো উন্নয়ন করে ব্যবসায়ীদের হাটে আনতে উদ্বুদ্ধ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting