| |

সর্বশেষঃ

পদ্মায় বিলুপ্ত প্রজাতির মিঠা পানির কুমির ধরা

আপডেটঃ ১:২৭ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : পাবনা সদর উপজেলায় পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে বিলুপ্ত প্রজাতির একটি মিঠা পানির কুমির ধরা পড়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের দড়ি ভাউডাঙ্গা গ্রামে পদ্মা নদীতে ওই কুমিরটি ধরা পড়ে।

পরে মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী থেকে বন বিভাগের উদ্ধারকারী দল এসে কুমিরটিকে নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাবনার দোগাছি ইউনিয়নের চরকোমরপুর এলাকায় পদ্মায় গত বছরের ডিসেম্বরে মিঠা পানির বিলুপ্ত প্রজাতির একটি কুমির সনাক্ত করে বন বিভাগ। তবে মঙ্গলবার ধরা পড়া কুমিরটি আগের কুমিরের চেয়ে আকারে ছোট।

পাবনা ভাঁড়ারা ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ খান জানান, গত কয়েকদিন ধরে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়ি ভাউডাঙ্গা গ্রামে পদ্মা নদীর কোলে একটি বড় আকারের কুমির দেখতে পায় গ্রামবাসী। আমরা স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার কুমিরটিকে ধরার উদ্যোগ নেই।

সারা দিন চেষ্টার পর বিকালে কুমিরটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার করার পরই জেলা প্রশাসন ও বনবিভাগকে এ বিষয়ে জানানো হয়।

রাতে রাজশাহী থেকে বনবিভাগের কর্মকর্তারা এসে কুমিরটিকে নিয়ে যায়।

পাবনা জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে আমরা বন বিভাগের মাধ্যমে কুমিরটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিই। বন বিভাগের কর্মীরা উদ্ধার হওয়া কুমিরটির পরিচর্যা করছেন। এটি বিলুপ্ত প্রজাতির কুমির। ঢাকায় নিয়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তবে, এটি চরকোমরপুরে দেখা পাওয়া কুমির নয় বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক।

চরকোমরপুরে পদ্মায় আটকে পড়া কুমিরটিকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

পাবনা বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ আন্দোলনের আহবায়ক এহসান বিশ্বাস লিঠু জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে খাদ্য সংকটে বন্য প্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসছে। আতঙ্কিত হয়ে অনেক সময় স্থানীয় জনগোষ্ঠী এদের হত্যা করে ফেলে।

খবর পেয়ে আমরাও ভাড়ারা এলাকায় গিয়েছি। তবে এখানকার মানুষ কুমিরটিকে হত্যা না করে, সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। জলজ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে এভাবে সবাই সচেতন হলে, প্রজাতির বৈচিত্র টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক জাহাঙ্গীর কবির জানান, সামাজিক বনবিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা কুমিরটি উদ্ধার করেছি। কুমিরটি প্রায় সাত ফুট আকৃতির। এটি স্বাদু পানির বিলুপ্ত প্রজাতির কুমির।

বর্তমানে বাংলাদেশে এ প্রজাতির কুমির সচরাচর চোখে পড়ে না। আমরা কুমিরটিকে গবেষণার করে, পুনরুৎপাদনের উদ্যোগ নেব।

HostGator Web Hosting