| |

সর্বশেষঃ

ক্যাম্পাসে সবসময় সহাবস্থান চায় ছাত্রদল

আপডেটঃ ৩:৪২ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯

ঢাবি প্রতিনিধি : টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে এসেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। মধুর ক্যান্টিনে এসে তারা সাংবাদিকদের জানান, শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য নয়, সহাবস্থানের জন্য তারা ক্যাম্পাসে এসেছেন। তারা ক্যাম্পাসে সবসময় এমন সহাবস্থান চান।

বেলা ১১টার দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ঢাবি শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকীসহ ছাত্রদলের ২০-২৫জন নেতাকর্মী মধুর ক্যান্টিনে আসেন। এর আধঘণ্টা পর আসেন কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান। মধুতে আগে থেকেই অবস্থান করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও। এছাড়া ছাত্র ইউনিয়নসহ কয়েকটি বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে ছিলেন। তবে কোন পক্ষই কোনো স্লোগান বা অন্য কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়নি।

রাজীব আহসান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কিছু দাবি জানিয়েছিলাম। আশা করছি প্রশাসন আমাদের দাবিগুলোর ব্যাপারে আন্তরিকতা প্রকাশ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সহাবস্থান নেই। আমাদের নেতাকর্মীরা হলে থাকতে পারেন না। সহাবস্থানের স্থায়ী সমাধান হোক এটাই চাই।

সহাবস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে রাজিব আহসান বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে আসা শুরু করেছে। তবে আমরা শুধু ডাকসুকেন্দ্রিক ক্যাম্পাসে সহাবস্থান চাই না। আমরা চাই সবসময় ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক।

তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবার সহযোগিতায় সহাবস্থান নিশ্চিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের পরিবেশ তৈরি হোক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ছাত্রদল চায়, সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হোক এবং ছাত্ররা তাদের অধিকার ফিরে পাক। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে ছাত্রদল সব সময় সচেষ্ট বলেও দাবি করেন এবং প্রশাসনকে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল পুনরায় ঘোষণার দাবি জানান।

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে রাজীব বলেন, আমরা যৌক্তিক বিষয়গুলোকে সমর্থন করব। কিন্তু প্রশাসন যেভাবে নির্বাচন করার জন্য চাচ্ছে সেটিকে ছাত্রদল গণতান্ত্রিক মনে করছে না।

আকরামুল হাসান বলেন, আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা এ যাত্রা অব্যাহত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আশ্বাস রাখতে চাই। আমরা ডাকসু নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত থাকতে চাই।

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠিত কমিটিগুলোতে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ শিক্ষক নেই অভিযোগ করে এসব কমিটির পুনর্গঠন চেয়ে আকরামুল হাসান বলেন, ডাকসু নির্বাচনের জন্য গঠিত কমিটিগুলোতে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ শিক্ষক নেই। যাদেরকে এসব কমিটিতে রাখা হয়েছে, তারা সবাই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থক। তাই এসব কমিটিতে গ্রহণযোগ্য শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

‘ছাত্রদলের মধ্যে শিবির ঢুকেছে’ ছাত্রলীগের এ অভিযোগের বিষয়ে আকরাম বলেন, আমরা প্রত্যেক নেতাকর্মীকে যাচাই-বাছাই করে পদ দিয়েছি। তাই ছাত্রদলের কমিটির মধ্যে কোনো শিবির নেই। তবে কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে শিবিরের অভিযোগ আসলে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কিছুক্ষণ মধুতে অবস্থান করে চলে যান।

HostGator Web Hosting