| |

সর্বশেষঃ

নুসরাত হত্যায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

আপডেটঃ ১:৫৯ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১৭, ২০১৯

আদালত প্রতিবেদক : সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিচারের আওতায় আনতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরের নির্দেশ চেয়েছেন রিটকারী।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটে পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়েছে। তারা হলেন- স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ফেনী পুলিশ সুপার ও সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
পরে রিটকারী আইনজীবী রিটটি শুনানির জন্য বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চে উপস্থাপন করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। ওই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি।

মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা। আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান।

গত ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের আগের দেয়া এজাহার পরিবর্তন করে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাত বোরকা পরিহিত আরো চার নারীসহ অজ্ঞাত আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম ইতোমধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনার দায় স্বীকার করে নূর উদ্দিন ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেছে, কারাগারে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে সেখানেই নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

HostGator Web Hosting