| |

সর্বশেষঃ

উইলিয়ামসনের সেঞ্চুরিতে কিউইদের শ্বাসরুদ্ধকর জয়

আপডেটঃ ১:৫৪ অপরাহ্ণ | জুন ২০, ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুর্দান্ত এক ম্যাচ দেখলো ক্রিকেট বিশ্বকাপ। শেষ পর্যন্ত জমে থাকা ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকর জয় তুলে নিলো নিউজিল্যান্ড। বুধবার কেন উইলিয়ামসনের হার না মানা সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩ বল আগে ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছে কিউইরা। এই জয়ে সেমিফাইনালের পথে বড় ধাপ ফেললো নিউজিল্যান্ড।

এজবাস্টনের ভেজা আউটফিল্ডের কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর শুরু হয়েছিল খেলা। কাটা পড়ে তাই ১ ওভার। ৪৯ ওভারের এই ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া নিউজিল্যান্ডের সামনে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। কিউই বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রোটিয়ারা ৬ উইকেটে স্কোরে জমা করতে পারে ২৪১ রান। সেই লক্ষ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।

সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৮০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল কিউইরা। কলিন মুনরো ৯ রানে ফেরার পর আরেক ওপেনার মার্টিন গাপটিল আউট হন ৩৫ রানে। ধীরগতির ব্যাটিংয়ে শুরু করা নিউজিল্যান্ড আরও বড় ধাক্কা খায় রস টেলর (১) ও টম ল্যাথাম (১) দ্রুত ফিরে গেলে।

তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলেছেন উইলিয়ামসন। ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি পূরণ করার পর দলকেও নিয়ে যান জয়ের খুব কাছে। ১৩৮ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় সাজানো তার হার মানা ১০৬ রানের ইনিংসেই শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায় কিউইরা।

তার মতোই অবদান আছে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের। কঠিন সময়ে এই ব্যাটসম্যান ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রানের গতি বাড়িয়ে যান। ৪৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৬০ রানের ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়ে যান ডি গ্র্যান্ডহোম। প্রয়োজনের সময় জেমি নিশামের ২৩ রানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। উইলিয়ামসনের সঙ্গে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়া মিচেল স্যান্টনার অপরাজিত ছিলেন ২ রানে।

প্রোটিয়াদের সবচেয়ে সফল বোলার ক্রিস মরিস। ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে তার শিকার ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিদি ও আন্দিলে ফেলুকাও।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে হাশিম আমলার পর হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন রাসি ফন ডার ডাসেন। তার হার না মানা ৬৭ রানের ওপর ভর দিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার রান অতদূর গিয়েছে। কিউইদের সবচেয়ে সফল বোলার লকি ফার্গুসন। ১০ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে তার শিকার ৩ উইকেট।

মেঘলা আবহাওয়ার সুবিধা কাজে লাগতে টস জিতে ফিল্ডিং নিতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। সাফল্য পেতেও সময় লাগেনি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ট্রেন্ট বোল্টের শিকার কুইন্টন ডি কক। ৫ রানে এই উইটেকরক্ষক বোল্ড হওয়ার পর সতর্ক ব্যাটিং করেছেন হামিশ আমলা ও ফাফ দু প্লেসি।

কিউইদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে উইকেট না হারিয়ে রান বাড়ানোর চেষ্টা করে গেছেন অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান। মন্থর ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৫০ রান যোগও করেন তারা। কিন্তু ফার্গুসনের আঘাতে দু প্লেসির স্টাম্প ভাঙলে শেষ হয় তাদের প্রতিরোধ। ৩৫ বলে ২৩ রান করে যান প্রোটিয়া অধিনায়ক।

এরপর এইডেন মারক্রামকে নিয়ে আবারও এগিয়ে চলেন আমলা। ৫২ রানের জুটি গড়ার পথে এই ওপেনার পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। যদিও ফিফটি করার পর বেশিদূর যেতে পারেননি। ৮৩ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৫৫ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন আমলা। ভালো শুরু করে মারক্রামও টিকতে পারেননি। ৫৫ বলে ৩৮ রান করে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের শিকার তিনি।

তবে নিউজিল্যান্ড বোলাররা আউট করতে পারেননি ডাসেনকে। ৬৪ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় কার্যকরী ৬৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি। তার সঙ্গে ডেভিড মিলারের ৩৭ বলে খেলা ৩৬ রানের ইনিংসটাও প্রোটিয়াদের ২৪১ পর্যন্ত যাওয়ার পথে ছিল বড় সহায়ক।

HostGator Web Hosting