| |

সর্বশেষঃ

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, শেরপুর-জামালপুরের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেটঃ ৯:৪৪ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৯, ২০১৯

শেরপুর প্রতিনিধি : পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শেরপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকাল থেকেই শেরপুর থেকে জামালপুর হয়ে রাজধানীসহ উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে ২ মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুইঁ ছুঁই করছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পুরাতন ভাঙনের অংশ দিয়ে বন্যার পানি দ্রুতবেগে প্রবেশ করায় চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কের কজওয়েতে মোটরসাইকেল ও ছোট ছোট যানবাহন নৌকা করে পার হতে দেখা গেছে।

শেরপুর সদর উপজেলার নন্দির জোত এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হক, আবুল হোসেন ও হাসমত আলী বলেন, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাত ১১টার পর থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সরকার যদি এই ডাইভারশনে ব্রিজ নির্মাণ করে তাহলে হয়তো এত ভোগান্তি থাকবে না। তারা দ্রুত এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।

একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বারি মিয়া, ফারুক মিয়া ও মোস্তফা মিয়া বলেন, বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায়ও তাদের এলাকায় পানি ছিল না। হঠাৎ করেই রাত ৮টার দিকে বন্যার পানি এলাকায় ঢুকে পড়ে। বন্যার পানিতে তাদের বীজতলা, সবজি ও পাটের ক্ষেত তলিয়ে গেছে, বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকেছে।

জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় শেরপুরের ৫টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের ১৭২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ৬৩ হাজার লোক পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। জেলায় ৫২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় ৭ দিন ধরে স্কুল বন্ধ রয়েছে। এ পর্যন্ত বন্যা দুর্গতদের মাঝে ৩৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার ১২৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত এবং ৭৪৭ হেক্টর রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং ১৬৫ হেক্টর জমির আউশ ধানের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে।

বন্যায় জেলার পুকুর, জলাশয় এবং খামারের মাছ ভেসে প্রায় ৫ কোটি ১৮ লাখ টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগম।

এদিকে, গত ৫ দিনে শেরপুরে বন্যার পানিতে ডুবে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ।

HostGator Web Hosting