| |

সর্বশেষঃ

ছেলেধরা আতঙ্ক, গণপিটুনিতে হতাহত ৬

আপডেটঃ ৬:২৭ অপরাহ্ণ | জুলাই ২০, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের কোথাও না কোথাও ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যা ও আহত করার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি খোদ রাজধানী ঢাকা শহরেও এমন ঘটনা ঘটেছে।

আজ শনিবার রাজধানী বাড্ডা ও নারায়ণগঞ্জে গণপিটুনিতে এক নারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও পাবনায় তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজন নারী।

এর আগে গত ১৮ জুলাই নেত্রকোনায় শিশুর গলাকাটা মাথা বস্তায় করে নিয়ে যাওয়ার সময় গণপিটুনিতে যুবক নিহত হয়।

হঠাৎ সারা দেশে ছেলে ধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় সম্প্রতি আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কাউকে আইন হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আমাদের প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

ঢাকা

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে এক অজ্ঞাত নারী (৪০) নিহত হয়েছেন।

শনিবার সকালে সাড়ে ৮টার দিকে উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে বলে।

বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে ওই নারীকে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

তিনি বলেন, নিহতের নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। ওই নারী আসলেই শিশু চুরি করতে গিয়েছিল কি না, ঘটনাস্থলে কি ঘটেছিল সবকিছুই তদন্ত করে দেখা হবে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরো এক নারী।

শনিবার বেলা ১১টার মধ্যে উপজেলার মিজমিজি পূর্বপাড়া ও পাইনাদী শাপলা চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সাখাওয়াত হোসেন জানান, ৬-৭ বছরের এক মেয়ে শিশুর হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন অজ্ঞাত যুবক। এ সময় শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। তারা ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি শিশুটি নিজের বলে দাবি করেন। এরমধ্যে শিশুটির বাবা ঘটানস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত লোকজন ওই যুবককে গণপিটুনি দেয়।

তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত যুবকের পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে, একই উপজেলার শাপলা চত্বর এলাকায় ২২ থেকে ২৫ বছরের এক নারী খেলনা ও খাবার দিয়ে এক শিশুকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা শিশুটি কার জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গাজীপুর

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে এক নারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

জিএমপির বাসন থানার ওসি জানান, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চান্দনা চৌরাস্তায় ওই নারীকে সন্দেহজনকভাবে ঘুরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। পরে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

তিনি জানান, গণপিটুনির শিকার ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন।

আহত মমতাজ খাতুন নেত্রকোনার দুর্গাপুর এলাকার আবদুল আলীমের স্ত্রী।

বর্তমানে তিনি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পাবনা

পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলায় ছেলে ধরা সন্দেহে রাসেল রানা (৩২) নামের যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বনগ্রাম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক রাসেল ঈশ্বরদী উপজেলার আমবাগান এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

শনিবার সকালে বনগ্রাম দীঘিপাড়া গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে মো. আবদুল্লাহ (৪) বাড়ির সামনে রাস্তায় পাশে বসে খেলছিল। এ সময় রাসেল রানা নামের যুবক শিশুটিকে ডেকে চুইংগাম দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে সেই চুইংগাম না নিয়ে আব্দুল্লাহ দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তার হাত ধরে রাসেল হাতে থাকা ব্যাগ থেকে একটি বাটালি (কাঠমিস্ত্রীদের কাজে ব্যবহৃত) বের করে শিশুটির পিঠে আঘাত করেন।

পরে শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা এসে রাসেলকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। এ সময় তার হাতে থাকা ব্যাগ থেকে একটি বাটালি, দুইটি ফিক্স জেল আঠা এবং একটি খাতা উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে থানার এসআই আবদুল গণি মিয়া ও এসআই মাহবুব উল্লাহ সরকার অভিযুক্ত রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

চাটমোহর থানার ওসি সেখ নাসীর উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে রাসেল রানা নামে এক যুবককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার (রাসেল) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নেত্রকোনা

নেত্রকোনা জেলা শহরের নিউটাউনে শিশুর গলাকাটা মাথা বস্তায় করে নিয়ে যাওয়ার সময় গণপিটুনিতে যুবক নিহত হয়।

১৮ জুলাই দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহত যুবকের নাম রবিন (২৭)। তিনি কাটলী এলাকার এখলাছ উদ্দিনের ছেলে।

এদিকে, শহরের কাটলী এলাকার নির্মাণাধীন একটি ৩ তলা ভবনের ওপর থেকে শিশুর দেহটিও উদ্ধার করে পুলিশ।

শিশুটি নেত্রকোনা সদরের আমতলা গ্রামের রিকশাচালক রইছ উদ্দিনের ছেলে সজিব মিয়া (৮)।

রইছ উদ্দিন তার পরিবার নিয়ে নেত্রকোনা পৌর শহরের কাটলী এলাকার হিরণ মিয়ার বাসায় ভাড়ায় থাকেন।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম জানান, পৌর শহরের পাটপট্রি ব্রিজ সংলগ্ন কাটলী এলাকার কায়কোবাদ খানের নির্মাণাধীন ৩ তলা ভবনের ওপর থেকে রক্ত পড়তে দেখে স্থানীয়রা ওই দেহটির খুঁজে পান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তা উদ্ধার করে।

ওসি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে পৌর শহরের নিউটাউন অনন্ত পুকুরের উত্তরপাড় এলাকায় বস্তায় করে একটি কাটা মাথা নিয়ে যাচ্ছিল রবিন। এসময় তাকে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে বস্তা খুলে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন এক শিশুর মাথা পাওয়া যায়। এসময় জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

HostGator Web Hosting