| |

সর্বশেষঃ

প্রস্তুত শোলাকিয়া, সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হবে জামাত

আপডেটঃ ৬:২১ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১০, ২০১৯

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদুল আজহার জামাত। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চলছে ঈদ জামাতের শেষমুহূর্তের প্রস্তুতি। সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠেয় জামাতে ইমামতি করবেন মারকাজ মসজিদের ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান। এটি শোলাকিয়ার ১৯২তম ঈদুল আজহার জামাত। শোলাকিয়া ঈদ জামাতের মূল ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ হজে যাওয়া মাওলানা হিফজুরকে ইমামতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সলের ঈদুল ফিতরে জঙ্গি হামলার পর থেকে শোলাকিয়ার ঈদের জামাতে নিরাপত্তার দিকটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো আয়োজন সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় মাঠ পরিদর্শন করে সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজখবর নিচ্ছেন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

এ উপলক্ষে ঈদগাহ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) পৃথকভাবে এসংক্রান্ত বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এবারের জামাতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দুই প্লাটুন আধাসামরিক বাহিনী বিজিবি মোতায়েন থাকবে। পুরো ঈদগাসহ আশপাশের এলাকায় নজরদারির জন্য ৩২টি সিসি ক্যামেরা থাকবে। মেডিক্যাল টিম, ফায়ার সার্ভিস, বিশুদ্ধ খাবার পানিসহ মুসল্লিদের যাবতীয় সুবিধাদি মাঠে নিশ্চিত করা হবে। জামাত শুরু হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। এতে ইমামতি করবেন শহরের মারকাস মসজিদের খতিব মাওলানা হিফজুর রহমান। বিকল্প ইমাম থাকবেন আখড়াবাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. তৈয়ব। বরাবরের মতো এবারো দূরবর্তী মুসল্লিদের ঈদ জামাতে শরিক হওয়ার সুবিধার্থে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুটি বিশেষ ট্রেন যাতায়াত করবে।

অন্যদিকে পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) নিরাপত্তা বিষয়ে পৃথক প্রেস ব্রিফিং করেছেন। তিনি জানান, ঈদগাহসহ পুরো শহরকে ৮টি সেক্টরে ভাগ করে ঈদের দিন তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ঈদগায় যাবার ক্ষেত্রে ৩২টি চেকপোস্ট থাকবে। সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি কয়েকটি ওপেন সার্কিট ক্যামেরাও থাকবে। তিনি ঈদকে সামনে রেখে কোনো বাসায় যেন কেউ নতুন ভাড়াটিয়া না ওঠান, সকল ভাড়াটিয়া বিস্তারিত পরিচয় থানায় জমা দেন, সে ব্যাপারেও শহরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন কেবল জায়নামাজ ছাড়া কোনো রকম ব্যাগ বা ছাতা বহন না করেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার আরো বলেন, নিরাপত্তার দিক থেকে কোনো ঝুঁকি না থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই শোলাকিয়ায় প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহাতেও পুরো মাঠে নজরদারির জন্য ওড়ানো হবে ড্রোন ক্যামেরা। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ঈদ জামাত। তা করতে গিয়ে যা যা করা দরকার সবই কিছুই করা হচ্ছে।

এদিকে শোলাকিয়া মাঠকে নামাজের উপযোগী করতে শেষমুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌরসভা শোলাকিয়ার জামাতকে সফল করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। জামাতের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখতে জেলা প্রশাসকসহ র‌্যাব-পুলিশ ও বিজিবির কর্মকর্তারা পরিদর্শন করছেন ঈদগাহ এলাকা। এরই মধ্যে মাঠসহ পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মাঠের সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এরই মধ্যে মাঠে দাগ কাটা, দেয়ালে রং করাসহ মাঠের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। চলছে শহরের শোভাবর্ধনের কাজও। প্রস্তুত রাখা হেয়েছে বহুসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও কয়েকটি মেডিক্যাল টিম। দূরদূরান্তের মুসুল্লিদের যাতায়াতের জন্য শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে শর্টগানের ৬টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হবে। জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি, এবং ১ মিনিট আগে ১টি গুলি ছুড়ে জামাত শুরুর সঙ্কেত দেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের আসা মুসল্লিদের জন্য দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।

জনশ্রুতি আছে, ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত। প্রতিবছরের মতো, এবারও শোলাকিয়ায় লাখো মুসল্লির ঢল নামবে, এমনটাই আশা স্থানীয়দের।

HostGator Web Hosting