সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে খুলনার সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদ কয়রা উপজেলার কয়রা সদরের হরিণখোলা ঘাটাখালি, ২নং কয়রা, মহারাজপুরের দশালিয়া, লোকা, উত্তর বেদকাশির হাজতখালি, গাজীপাড়া ও রতœাঘেরিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

লোনা পানিতে মানুষের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, ক্ষেতখামার, গাছগাছালি, গবাদি পশুর গোয়ালঘর কোমর সমান পানিতে এখনো তলিয়ে রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের সহাযোগিতায় গত কয়েকদিন ধরে এলাকার হাজার হাজার মানুষ বাঁধ মেরামত কাজে অংশ নেয়। গতকাল হরিণখোলা বেড়িবাঁধের ভেতর দিয়ে রিংবাঁধ তৈরী করে পানি আটকানো হয়। উত্তর বেদকাশির হাজতখালি ও গাজীপাড়ার ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ এখনো মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ফলে এলাকার মানুষের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

এদিকে গত ৯ দিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লোনা পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পচা দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

কয়রা সদরের মাঝের আইট, পায়রাতলার আইট, ২নং কয়রা, খেজুরবাগ, গোবরা, দক্ষিণ মদিনাবাদ, ওড়াতলা, হরিণখোলা, ঘাটাখালি, ঝিলিয়াঘাটা, কাটকাটা, গাজীপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি কোমর সমান পানিতে তলিয়ে রয়েছে। থাকার জায়গা, রান্নাঘর ও বাথরুম ময়লা আবর্জনাযুক্ত পানিতে নিমজ্জিত থাকায় সর্বত্র অস্বস্তিবোধ করছে মানুষ।

কয়রা সদর হয়ে কালিপদ মোড়, দেউলিয়া বাজার হয়ে খেজুরবাগ, বড়বাড়ি হয়ে কাটকাটা, কয়রা সদর হয়ে উত্তর বেদকাশির কাছাড়িবাড়ি-কাশিরহাট, কয়রা সদর হয়ে গোবরা, কালনা হয়ে দশালিয়া, কাটকাটা হয়ে গাববুনি, হরিহরপুর, ঘড়িলাল, পদ্মপুকুর, গোলখালি ও আংটিহারার অভ্যন্তরীন রাস্তাঘাট লোনা পানির ¯্রােতে খন্ড খন্ড আকারে ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সকল রাস্তা দিয়ে ভ্যান, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল চলাচলে চরম বিঘœ ঘটায় লোকজনের চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

২নং কয়রা গ্রামের স্কুল শিক্ষক মাহফুজুর রহমান জানান, তার বাড়ি সংলগ্ন সওজের রাস্তা হরিণখোলা বেড়িবাঁধের তীব্র ¯্রােতে ভেঙে গিয়ে বসতঘর গলা সমান পানিতে তলিয়ে থাকায় বাড়িতে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

মাঝের আইট গ্রামের বাসিন্দা, প্রফেসর কম্পিউটার ইন্সটিটিউটের প্রশিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত ৯ দিন যাবত বাড়িঘর পানিতে ডুবে রয়েছে। ময়লা আবর্জনায় পঁচা দুর্গন্ধে গ্রামের মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। দ্রুত ময়লা আবর্জনায় ভয়ে যাওয়া দুর্গন্ধযুক্ত পানি নিস্কাশনের দাবি জানিায়েছেন তিনিসহ এলাকার মানুষ। স্বাস্থ্যকর্মীরা দুর্গন্ধমুক্ত করতে গ্রামে গ্রামে কাজ করছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন, কয়রা সদরের ভেঙে যাওয়া বড়িবাঁধ মেরামত করা হয়েছে। স্লইজ গেট দিয়ে ময়লা আবর্জনাযুক্ত পানি বের করে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম