সংবাদ শিরোনাম

 

বিশেষ সংবাদদাতা : দেখে মনে হতে পারে এটি কোনও খাল বা নালা। তাই বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ চলাচল করছে। আদতে তা নয়। এটা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের কাশিমাড়ি-ঝাঁপালির প্রধান সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা রাস্তার ওপর সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, আম্পানের আঘাতে তাদের ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর ঝাঁপালি নামক স্থানটি ভেঙে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়। অনেক এলাকায় এখনও মানুষের বাড়ির উঠানে নদীর জোয়ার-ভাটা চলছে। জোয়ার-ভাটার কারণে রাস্তা সব নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কাশিমাড়ি ইউনিয়নের কাশিমাড়ি-ঝাঁপালির প্রধান সড়ক। রাস্তায় বুক সমান গর্ত। মানুষ চলাচল করতে পারছে না। এই রাস্তা দিয়ে শ্যামগরের কাশিমাড়ি, আশাশুনির প্রতাপনগর এবং কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের উদ্যোগে রাস্তার ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছে।

জানা গেছে, আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলার কলিমাখালিতে নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত সড়কের ওপর সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙে শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের অনেক গ্রাম, খাল বিল, পথঘাট, ঘরবাড়ি ও মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়েছে। প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। আবার ভাটায় জেগে ওঠে গ্রামগুলো।

আশাশুনি-কোলা সড়ক (মেইন রোড) পানিতে তলিয়ে থাকায় পথচারী চলাচল অসম্ভব ও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মানুষের দুর্দশা লাঘবে এগিয়ে এসেছেন কলিমাখালি গ্রামের সমাজসেবকরা। তাদের অর্থ ব্যয় করে গ্রামের তরুণ ও যুব সমাজের উদ্যোগে সড়কের ওপর বাঁশ ও গাছ দিয়ে মানুষের যাতায়াতের জন্য সাঁকো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছেন।

শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, ‘আম্পানের আঘাতে বাঁধ ভেঙে আমার পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এখন মানুষের উঠান এবং ঘরবাড়িতে নদীর জোয়ার-ভাটা চলছে। বাঁধ নির্মাণের অনেক চেষ্টা করছি। দু’বার করে বাঁধ তেরি করেছি, আবারও ভেঙে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট সব নষ্ট হয়ে গেছে। এই এলাকার মানুষ অনেক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ঝাঁপালি নামক এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তা নষ্ট হওয়ায় মানুষ চলাচল করতে পারছিল না। সে কারণে নিজস্ব অর্থায়নে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সাঁকো নির্মাণ করেছি। প্রশাসনের কাছে সমস্যা সমাধানে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম