| |

সর্বশেষঃ

বানভাসিদের নেই ঈদের আনন্দ

আপডেটঃ 1:40 pm | July 30, 2020

জামালপুর প্রতিনিধি : ‘ফেডে ভাতই দিবার পাইতাছি না, নয়া কাফড় কিন্যা দিমু ক্যামনে? আঙ্গর আবার ঈদ! পুলাপান কান্দাকাডি করতাছে, ঈদ আইয়া ফরলো, পুলাপানের বায়না নয়া কাফড় কিইন্যা দেও। কিন্তু ফেডে ভাত দিতে পাইতেছি না, নয়া কাফড় দিমু কেমনে! নয়া কাফড় পাবো কোথায়। আল্লায় আমগো কফালে ঈদের আনন্দ লেহে নাই।’

চোখের পানি ফেলে এভাবেই কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন, ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া বাজারের উঁচু রাস্তার ওপর আশ্রয় নেওয়া মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী (৫০) বানভাসি শেফালী বেওয়া।

একটু এগিয়ে গেলে কথা হয় ওই গ্রামের রওশনারা বেগমের (৩৫) সঙ্গে। তিনি বলেন, স্বামী অসুস্থ, ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, একদিন কাজ করলে তিন দিন বসে থাকে। টাকার অভাবে না পারতেছি চিকিৎসা করতে, না পারতেছি বাড়ি-ঘর ঠিক করতে। ত্রাণ পেলে পেটে আহার জুটে। এক বেলা খেলে অন্য দু’বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। ছেলে-মেয়েদের চোখেমুখে তাকাতে পারতেছি না। ঈদে নতুন কাপড়ের বায়না ধরে কান্নাকাটি করছে। অবুঝ সন্তানরা আমার অসহায়ত্বের কথা বুঝাতে চাইছি না, বলে আঁচলে চোখের পানি মুছতে মুছতে চলে যান তিনি।

একই গ্রামের আব্দুর ছালাম মিয়ার (৭০) পাঁচ ছেলেমেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার। হাড় জিরজিরে শরীরে, অভাবের ছাপ স্পষ্ট। বন্যার সময় ঠিকমতো খেতে না পেয়ে শরীর ভেঙে পড়েছে ছালাম মিয়ার। সংবাদকর্মীদের দেখে ত্রাণ দিবে ভেবে ছুটে আসেন। বলেন, বাবা আমি বুড়ো মানুষ, ঠেলাঠেলি করে ত্রাণ নিতে পারি না। আমার নামটা লেখেন। তবে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই চুপ হয়ে যান।

ঈদ নিয়ে কথা বলতেই তিনি বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে নাইনাতির চিৎকারে থাকতে পারছি না। যেহানে খাইতে পারি না, কাফড় কিইন্যা দিমু ক্যামনে। আল্লায় ক্যান যে আমগো গরীব বানাইলো বুঝি না। তারমধ্যে এবারের বানে ঈদের আনন্দ মাটি কইরা দিছে।’

বন্যা দুর্গত এলাকায় সন্তানদের ঈদে নতুন জামা কাপড়ের বায়না মেটাতে না পেরে শেফালী বেওয়া ও রওশনারা বেগমের মতোই আক্ষেপ করেন ছালাম মিয়া।

বন্যায় আক্রান্ত ইসলামপুরের পার্থশি ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া, শেখপাড়া, মরাডুবিসহ ও মোরাদাবাদের আশপাশের গ্রামগুলোতে ঈদ আনন্দ নিরান্দনে পরিণত হয়েছে। ঈদে নতুন কাপড়ের বায়নায় শিশুদের কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে ঘর ঘর থেকে। ঈদ আনন্দের বদলে জীবন বাঁচাতে ত্রাণের সন্ধানে ছোটাছুটি আর মাথাগোজার ঠাঁই করে নিতে বাড়িঘর মেরামতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে বন্যা দুর্গতরা।

বড় গৃহস্থ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকার আব্দুল জব্বার মিয়া (৬৬) অন্য সময় ঈদের আগে কোরবানির গরু কেনা, ঘরের বাজার-সদাই আর পরিবারের নতুন কাপড় কেনার জন্য ব্যস্ত সময় কাটাতেন। পশু কোরবানি, দুস্থদের মধ্যে গোশত বিলানো, বাড়িতে মেহমানদারিতে আনন্দে কেটে যেতো ঈদের দিন। তবে এবার বন্যার কারণে তার কোনও ঈদ আনন্দ নেই। ফসল হারিয়ে তিনি নিঃস্ব, নিজেই এখন ‘দুস্থ’। সম্মানের ভয়ে চক্ষু লজ্জায় ত্রাণও নিতে পারছেন না, হাত পাততেও পারছেন না মানুষের কাছে। সংসারে দু’বেলা ভাত যোগাতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

যমুনা পাড়ের সর্বত্র দুর্গত মানুষের ধনী-গরিব সবার ঈদ আনন্দ নিয়ে একই জীবনচিত্র বিরাজ করছে।

HostGator Web Hosting