| |

সর্বশেষঃ

আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর আমীর আহম্মদ চৌধুরী রতন আর নেই

আপডেটঃ 4:42 am | October 16, 2020

মোঃ রাসেল হোসেন : দেশের অনন্য শালীন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রূপকার তথা আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর আমীর আহম্মদ রতন।

ময়মনসিংহবাসী তাঁকে চেনে “রতন দা” কিংবা “রতন স্যার” নামেই। মানুষ গড়ার কারিগন হিসেবে যিনি এ শহরে সর্বমহলে শ্রদ্ধার পাত্র।

দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস করানো, বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের খবর নেওয়া,সহকর্মী ও অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক, স্কুলের পরিবেশ তদারকি ইত্যাদি কাজে ব্যস্ত সময় কাটানো, পেশাগত জীবনে প্রবীণতার ছাপ পড়লেও এখনো নবীনদের মতোই উদ্যমী আর প্রাণবন্ত মানুষ রতন স্যার(৭৭)আজ জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশালাইজড্ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আমীর আহম্মদ চৌধুরী রতন’র রোগমুক্তি কামনায় বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দোয়া প্রার্থনা করা হচ্ছে এবং ময়মনসিংহসহ দেশবাসীর কাছে তার আশু রোগমুক্তির জন্য দোয়া চেয়েছেন তার পারিবারের সদস্যরা।

আমীর আহম্মদ চৌধুরী রতন ১৯৮৩-র অক্টোবর থেকে দীর্ঘ সময় ময়মনসিংহের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে তিনি এই স্কুলেই রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর যোগ্য নেতৃত্ব,দক্ষতা ও পরিশ্রমের ফলেই মুকুল নিকেতন আজ দেশ সেরা বিদ্যালয়গুলোর একটি। ১৯৮৪ সালে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পান। বর্তমানে মুকুল নিকেতন স্কুলে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ছাত্র ছাত্রী রয়েছে।

আমীর আহম্মদ চৌধুরী রতনের জন্ম ১৯৪৩ সালের ৮ নভেম্বর। তার বেড়ে উঠা, পড়াশুনা ময়মনসিংহ শহরেই। তার পিতা মরহুম সুলতান আহম্মদ চৌধুরী, মাতা মরহুমা আজিজেরন্নেছ্ চৌধুরীনী,স্ত্রী মাহমুদা খান ইভানা ও এক ছেলে ও এক মেয়ে। শিশুকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তার ঠিকানা শহরের মহারাজা রোড।

১৯৫৬ সালে তিনি সিটি কলেজিয়েট স্কুল থেকে দ্বিতীয় বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর ১৯৫৮ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও ১৯৬০ সালে একই কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর ঢাকাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে মেধা তালিকায় নবম স্থান নিয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব এডুকেশন এক্সটেনশন এন্ড রিসার্চ( নায়েম),ঢাকা শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ১৯৯১সনে প্রশিক্ষন গ্রহণ করেন তিনি।

১৯৬৪ সালের আগষ্ট মাসে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে অধ্যাপনার মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর শিক্ষকতার জীবন। গৌরীপুর কলেজে তিনি ছিলেন ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। ১৯৮৩-র সেপ্টেম্বর থেকে তিনি যোগ দেন মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে।

শিক্ষতকতার বাইরেও রতন স্যারের রাজনৈতিক, খেলাধূলা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে রয়েছে সক্রিয় পদচারন। তাঁর উদ্যোগেই ১৯৫৯ সালে এ শহরে ময়মনসিংহ জেলা মুকুল ফৌজ প্রতিষ্ঠা হয়।

তিনি বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

আমীর আহম্মদ চৌধুরী রতনের নেতৃত্বে ১৯৭০-এর প্ররয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর চট্রগ্রামের উপকূলে তিনি মুকুল ফৌজের ৪৭ জন কর্মী নিয়ে ত্রান কাজে অংশ নেন। এরপর ১৯৭৪,১৯৮৮,১৯৯৮-এ বন্যার সময় মুকুল ফৌজ এবং মুকুল নিকেতনের ছাত্রদের নিয়ে বন্যার্তদের সহায়তায় তার কার্যক্রম এখনো মানুষ স্মরণ করে। এ স্কুলে আবৃত্তি,নৃত্য,সংগীত, ক্রিকেট,ফুটবল, স্বাউটিং,গার্ল হাইড, বির্ত ইত্যাদি বিষয়ে নিয়িমিত প্রশিক্ষন দেওয়াসহ সকল বিষয়ে দেখভাল করেন রতন স্যার।

media image
ছবি
অধ্যাপক আমীর আহাম্মদ চৌধুরী রতন সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরা হলো :

সামাজিক সংগঠন ও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা :

(ক) ১৯৫৯ সালের ২৯ মে তদানিন্তন বিশিষ্ট শিশু-সাহিত্যিক মোঃ মোদাব্বর হোসেন ও পটুয়া কামরুল হাসানের উপস্থিতিতে জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ জেলা মুকুল ফৌজ গঠিত হয়। এবং নব-গঠিত সংগঠনের সচিব প্রধান (Secretary-General) পদে মনোনীত। ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পালন। ০১/০১/২০১২ থেকে অদ্যাবধি সভাপতির দায়িত্ব পালন।

(খ) দরিদ্র ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৭০ সনের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহ শহরের ১০নং মহারাজা রোডে মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। ১ অক্টোবর ১৯৮৩ তারিখ থেকে ৩১ আগস্ট ২০০৯ পর্যন্ত মুকুল ফৌজ প্রতিষ্ঠিত মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহে প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন। বর্তমানে রেক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালনরত।

সামাজিক কর্মকান্ড :

ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি, ময়মনসিংহ শাখার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন। বর্তমানে ময়মনসিংহ বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনরত। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ময়মনসিংহ জেলা ইউনিটের আজীবন সদস্য। ‘সন্ধানী’ ময়মনসিংহ জেলা শাখার আজীবন সদস্য। বিভিন্ন সময়ে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেট, ফুটবল, এ্যাথলেটিক্স, কুস্তি ইত্যাদি খেলাধূলায় গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন। ১৯৯৭ সন থেকে ‘সার্বজনীন বাংলা নববর্ষ’ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক হিসাবে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালনরত। ১৯৯১ সন থেকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি হিসেবে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করেছে। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি। শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর (১৯৯০ সনের এরশাধ বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ) স্মৃতি কমিটির আহ্বায়ক। প্রজন্ম’৭১, ময়মনসিংহ-এর পৃষ্ঠপোষক। জাতীয়ভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম-জয়ন্তী উৎসব উদ্যাপন সাংস্কৃতিক কমিটির আহ্বায়ক এর দায়িত্ব পালন ১৯৯৬-২০০০ইং এবং পুনরায় ২০০৯ সাল থেকে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করছে। বাংলাদেশ জাতীয় শিল্পকলা পরিষদের কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। অন্যতম উদ্যোক্ত সদস্য, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ, ময়মনসিংহ। কার্যকরী সদস্য, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ময়মনসিংহ জেলা শাখা। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ময়মনসিংহ রেফারিজ ও আম্পায়ার্স সমিতি। সদস্য, ময়মনসিংহ জেলা শান্তি পরিষদ।

অতীতে যে সকল সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল :

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ-এর সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য। ১৯৯২ সন থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ’৭১-এর ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি ময়মনসিংহ শাখার আহ্বায়ক এর দায়িত্ব পালন ২০০০ সাল পর্যন্ত। ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাচিত সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি। ময়মনসিংহ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাবেক সভাপতি। ১৯৯৬-২০০৮ পর্যন্ত রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন। স্বাধীনতার পর ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার ১ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন। ১৯৭৬ সনে ময়মনসিংহের ১৪টি শিশু-কিশোর-যুব সংগঠন সমন্বয় গঠিত ‘সমন্বিত শিশু-কিশোর যুব সংগঠন’-এর আহ্বায়ক হিসেবে ১৯৮৮ সন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন। ১৯৮৪-৮৯ সন পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। বাংলাদেশ কৃষি পারমাণবিক শক্তি কমিশনের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। ময়মনসিংহ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। ১৯৯৬-৯৭ সনে ‘জাগ্রত ময়মনসিংহ সমিতি’ এর সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন। ময়মনসিংহ জেলা সার বিতরণ মনিটরিং কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। জেলা আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। ময়মনসিংহ কারা পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন। সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। ময়মনসিংহ সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। ময়মনসিংহ ল্যান্ড মর্টগেজ এন্ড কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়নে গঠিত সমন্বিত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। বাংলাদেশ সিতো-রিউ-কারাত দো এসোসিয়েশন, ময়মনসিংহ জেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, ময়মনসিংহ জেলা শাখার পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ময়মনসিংহের ওয়ার্ডের বাহিনীর অবৈতনিক ‘গ্রুপ ওয়ার্ডেন’ পদে দায়িত্ব পালন। সদর বয়েজ স্কাউট কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন। ময়মনসিংহ টাউন কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন।

সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড :

১৯৭০ সনের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার ও বৃহত্তর বরিশাল জেলার কিয়দংশ ময়মনসিংহ মুকুল ফৌজের অর্ধ শতাধিক কর্মীসহ ব্যাপক ত্রাণ কার্য পরিচালনা।

১৯৭৪ সনের ভয়াবহ বন্যায় ময়মনসিংহ মুকুল নিকেতন ও মুকুল ফৌজ কর্মীদের নিয়ে ব্যাপক ত্রাণ কার্য পরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন।

১৯৮৮ সনের ভয়াবহ বন্যায় ময়মনসিংহের চরাঞ্চলে মুকুল ফৌজ ও মুকুল নিকেতন বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাপকভাবে দুর্গত মানুষের সেবায় ত্রাণ কাজে নেতৃত্ব প্রদান।

১৯৯৮ সনের প্রলয়ঙ্করী দীর্ঘস্থায়ী বন্যার সময় ঢাকার সঙ্গে টাঙ্গাইলের সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে গেলে ময়মনসিংহের ভিতর দিয়ে উত্তরবঙ্গের ১৮টি জেলার সঙ্গে বিকল্প সড়ক যোগাযোগকালে ময়মনসিংহে যে অবর্ণনীয় যানজট সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনে স্থানীয় সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনকে মুকুল নিকেতনের ছাত্র-ছাত্রী, বয়স্কাউট ও ক্যাডেটদের নিয়ে সহযোগিতা দানে নেতৃত্ব প্রদান। বন্যা-উত্তর পুনর্বাসন কাজে কৃষি ঋণ বিতরণে সক্রিয় ভূমিকা পালন।

সমন্বিত টীকাদান কর্মসূচি, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, খাল-খনন, রাস্তাঘাট মেরামত ও সংস্কার, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালে রোগী সেবাদান, সাক্ষরতা অভিযান, ধূমপান ও মাদকদ্রব্য বিরোধী অভিযান পরিচালনা ইত্যাদি কাজে মুকুল নিকেতনের ছাত্র-শিক্ষক নিয়ে অংশগ্রহণ।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান ও ত্যাগ :

১৯৭১ সনে ভারত গমন ও মেলাঘর ক্যাম্পে কিছুকাল অবস্থান। ফিরে এসে মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও ময়মনসিংহের গৌরীপুর অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের দায়িত্ব পালন। আত্মগোপন থাকা অবস্থায় ময়মনসিংহ শহরে মুক্তিযুদ্ধের কর্মকান্ড পরিচালনার সময় পাকবাহিনী কর্তৃক ১৪ নভেম্বর ১৯৭১ ধৃত হই এবং অবর্ণনীয় অত্যাচার ও নির্যাতন ভোগ করি।

উল্লেখ্য মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পিতামহসহ পরিবারের ০৬ (ছয়) জন সদস্যকে পাক বাহিনী গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে ১৬ জুন, ১৯৭১।

সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড :

স্কুল-ছাত্রজীবনে বার্ষিক অনুষ্ঠানে কয়েকবার অভিনয়ে অংশগ্রহণ ও পুরস্কার প্রাপ্তি।

১৯৫৭ সাল থেকে অদ্যাবধি মুকুল ফৌজের উদ্যোগে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। ১৯৬১ সালে যখন রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া ও রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন নিষিদ্ধ ছিল, সেই সময়কার প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও মুকুল ফৌজ সাড়ম্বরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শততম জন্মবার্ষিকী পালন। ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক কর্মকা- বহমান ছিল এই সময়কালে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানটি ছিল ১৯৬৮ সালের ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শ্যামা’ নৃত্যনাট্যের সফল আয়োজন।

১৯৬৪ সালে অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

‘জাগ্রত ময়মনসিংহ’ কর্মসূচীর সহ-সভাপতি হিসেবে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার গুরুত্ব প্রচারে ব্যাপক প্রচারভিযান হিসাবে সমাবেশ, গণসঙ্গীত ও পথ-নাটক মঞ্চায়ন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয় স্থানে-স্থানে।

১৯৯৭ সন থেকে অদ্যাবধি ‘সার্বজনীন বাংলা নববর্ষ’ উদ্যাপন ।

নিয়মিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জন্ম-বার্ষিকী পালন।

সম্মাননা প্রাপ্তি :

১৯৮৮ সালে ক্রীড়া সাংবাদিক ও ক্রীড়া লেখক সমিতি কর্তৃক খেলাধূলায় অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসাবে জাতীয় পুরস্কার অর্জন।

ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ প্রদত্ত ১৯৯৪ সনে বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসাবে পুরস্কার লাভ।

১৯৯৪ সনে ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসাবে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে পুরস্কার লাভ।

আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান ‘সেবা নিকেতন’ ময়মনসিংহ শাখা কর্তৃক প্রদত্ত সেবারতœ পদক লাভ।

২০০১ সনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভিষেক উপলক্ষে ‘প্রাক্তন ক্রীড়া সংগঠক’ হিসাবে ক্রেস্ট, সম্মাননা ও সনদ লাভ।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক এসোসিয়েশন কর্তৃক বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক হিসাবে সনদ প্রাপ্তি।

শ্রেষ্ঠ কৃষক সংগঠক হিসাবে স্বীকৃতি লাভ।

প্রজন্ম ’৭১ বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সভায় সম্মাননা প্রদান।

শব্দ আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র ২০১৫ সালে সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের অগ্রদূত হিসাবে সংবর্ধনা প্রদান।

শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মানবাধিকার কমিটি, ঢাকা কর্তৃক ঢাকার রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা প্রদান।

HostGator Web Hosting