| |

সর্বশেষঃ

দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার লক্ষ্যে হচ্ছে নীতিমালা

আপডেটঃ 2:59 pm | December 24, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা করার লক্ষ্যে একটি নীতিমালা করছে সরকার। এরই মধ্যে ‘মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা কার্যক্রম পরিচালনা নীতিমালা- ২০২০’ এর খসড়া করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নীতিমালা অনুযায়ী দেশে থাকা ২০ হাজারের বেশি সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করবে সরকার। প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের সংগীত চর্চা করানো হবে।

খসড়া নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে- সাংস্কৃতিক চর্চা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত বিদ্যালয়গুলোর প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে প্রতি বছর উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন হবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফীন বলেন, আমরা একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে সাংস্কৃতিক চর্চাটা শুরু করতে চাই। এজন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চাটা প্রয়োজন। শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা শিশুদের মনন গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। শিশুরা অপসংস্কৃতি থেকে যেন বেঁচে যায় তাই সাংস্কৃতিক চর্চাটা শুরু করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এখনো কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এজন্য আমরা বরাদ্দও দিচ্ছি। এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে দিতে চাই। এটি আইনি কাঠামো ও নীতিমালার অধীনে করা হবে, যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ হয় ও এবিষয়ে কোন প্রশ্ন না উঠে।

সচিব বলেন, নীতিমালার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেয়া হচ্ছে যাতে এই কর্মসূচি নিয়মনীতির মধ্যে থেকেই যথাযথভাবে পালন করা যায়, মান ঠিক থাকে এবং পর্যবেক্ষণ করা যায়। যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ে এবিষয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হবে।

নীতিমালায় সাংস্কৃতিক চর্চা কার্যক্রমের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, সাংস্কৃতিক চর্চা কার্যক্রম বলতে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতির সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড যেমন- বিভিন্ন ধরনের সংগীত চর্চা (দেশাত্মবোধক গান, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, আধুনিক সংগীতসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ সংগীতসমূহ) বোঝাবে।

খসড়া নীতিমালার পটভূমিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনের লক্ষ্যে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংস্কৃতিমনস্ক করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘সাংস্কৃতিক চর্চা’ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে প্রাথমিকভাবে ১৮টি জেলায় জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ১০টি করে ১৮০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিটি বিদ্যালয়কে একটি হারমোনিয়াম ও এক সেট তবলা কেনার জন্য অর্থ মঞ্জুরি দেয়ার পাশাপাশি প্রতিটি বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়াও প্রশিক্ষণ দিতে প্রশিক্ষক এবং তবলা সঙ্গতকারীকে মন্ত্রণালয় নির্ধারিত হারে সম্মানী দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসনে পাঠানো প্রতিবেদনে জানা যায়, যেসব মাধ্যমিক বিদ্যালয় সাংস্কৃতিক চর্চার কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে সেসব বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে স্থানীয়, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সাংস্কৃতিক চর্চা কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে পটভূমিতে উল্লেখ করা হয়।

HostGator Web Hosting