| |

সর্বশেষঃ

মুমিনুল-লিটনের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ

আপডেটঃ 4:51 pm | May 01, 2021

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ৪ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট নেই বাংলাদেশের। অধিনায়ক মুমিনুল হকের পর ফিরে গেছেন লিটন দাস। তাদের আউটে ক্যান্ডি টেস্টে চাপে বাংলাদেশ।

মুশফিকুর রহিমের বিদায়ে এমনিতেই চাপ তৈরি হয়েছিল। সেখানে চা বিরতির পর দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার দুই স্পিনার প্রবীণ জয়াবিক্রমা ও রমেশ মেন্ডিসের ঘূর্ণিতে পথ হারিয়েছে সফরকারীরা। প্রথম আঘাতটা মেন্ডিসের। ডানহাতি স্পিনারের বলে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন মুমিনুল। ইয়র্কার লেন্থের বল সরাসরি আঘাত করে বাংলাদেশ অধিনায়কের পায়ে। আম্পায়ার আউটের সংকেত দিলে ৪৯ রানে শেষ হয় মুমিনুলের ইনিংস। ১০৪ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৭ বাউন্ডারিতে।

ওই ধাক্কা কাটিয়ে উঠবে কী, উল্টো বিপদ বাড়ে লিটনের বিদায়ে। জয়াবিক্রমার বাঁক নেওয়া বল তার ব্যাটে লেগে জমা পড়ে স্লিপে দাঁড়ানো লাহিরু থিরিমানের হাতে। তাতে শেষ হয় লিটনের ৮ রানের ইনিংস।

তার বিদায়ের পর ফিরে গেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৭৬ ওভারে সফরকারীদের স্কোর ছিল ৭ উইকেটে ২৪১ রান।

রিভিউয়ে মুশফিকের ‘সর্বনাশ’

ক্রিজে এসেই খেলছিলেন সেট ব্যাটসম্যানের মতো। সময় গড়ানোর সঙ্গে আরও গুছিয়ে নেন সবকিছু। তাতে বড় ইনিংসের ইঙ্গিত ছিল মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত ‘সর্বনাশ’ ডেকে আনলো তার। আম্পায়ার এলবিডাব্লিউয়ের আবেদনে সাড়া না দিলে লম্বা আলোচনার পর রিভিউ নেয় লঙ্কানরা। তাদের সেই সিদ্ধান্ত সঠিক হওয়ায় কপাল পোড়ে মুশফিকের। আউট হয়ে যান ৪০ রানে।

মুশফিকের আউটের পরপরই তৃতীয় দিনের চা বিরতিতে গেছে ক্যান্ডির দ্বিতীয় টেস্ট। তাকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬১.৪ ওভারে ২১৪ রান। মুমিনুল হক অপরাজিত ছিলেন ৪৭ রানে। ৪৯৩ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করা শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে ২৭৯ রানে।

প্রবীণ জয়াবিক্রমার বল মুশফিকের পায়ে আঘাত করলে ওঠে জোরালো আবেদন। কিন্তু সাড়া দেননি আম্পায়ার। লঙ্কান খেলোয়াড়রা বেশ খানিকটা সময় নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর একেবারে রিভিউ নেওয়ার টাইম শেষ হওয়া মুহূর্তে সিদ্ধান্তের চ্যালেঞ্জ জানান। থার্ড আম্পায়ারের কাছে যাওয়া সিদ্ধান্তের রায় শ্রীলঙ্কার পক্ষেই আসে। এলবিডাব্লিউয়ের শিকার হওয়ার আগে মুশফিক ৬২ বলের ইনিংসটি সাজান ৭ বাউন্ডারিতে।

তীরে এসে তরী ডোবালেন তামিম

গোটা পথ লাইনে থেকে তীরে এসে তরী ডুবাচ্ছেন তামিম ইকবাল। তা নয়তো কী! দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির কাছে গিয়েও যন্ত্রণার আগুনে পুড়তে হচ্ছে এই ওপেনারকে। আগের টেস্টেও দুটি সম্ভাবনার ‘মৃত্যু’ হয়েছিল। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে আরেকটু কাছে গিয়ে থামতে হলো তামিমকে। আউট হয়েছেন ৯২ রানে।

আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন বাঁহাতি ওপেনার। লাঞ্চের পর কিছুটা লাগাম টানলেও সেঞ্চুরির পথে ছিলেন। কিন্তু প্রবীণ জয়াবিক্রমার বলে ঘায়েল তিনি। স্লিপে লাহিরু থিরিমানের হাতে যখন ধরা পড়েন, সেঞ্চুরি থেকে ছিলেন মাত্র ৮ রান দূরে। চলতি সিরিজেন তিন ইনিংসেই সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পুড়তে হলো তাকে। ১৫০ বলের ইনিংসটি তামিম সাজান ১২ বাউন্ডারিতে।

প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করতে দেয়নি বৃষ্টি। পঞ্চম দিনে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন। এরপর আর ম্যাচ শুরু না হওয়ায় ব্যাটিংয়ের সুযোগ মেলেনি তামিমের। প্রথম ইনিংসে আবার গিয়েছিলেন আরও কাছে। দারুণ এক ইনিংস শেষ হয়েছিল তামিমের ৯০ রানে। ওই দুই ইনিংসের জ্বালা জুড়ানোর সুযোগ এবার পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কষ্ট আরও বেড়েছে ৯২ রানে আউট হয়ে।

তামিমের বিদায়ে বাংলাদেশ হারায় তৃতীয় উইকেট। ৪৭ ওভারে স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১৬৭।

সাইফের পর শান্তর বিদায়

কী চমৎকার শুরুই না পেয়েছিল বাংলাদেশ। কোনও উইকেট না হারিয়ে ১০০ ছাড়াবে স্কোর, সেটা মনে হচ্ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি মুহূর্তে রঙ বদলানোর চিরন্তন সত্যটা শিল হয়ে বিঁধলো বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে। ৮ বলের ব্যবধানে সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়ে কীভাবে পাল্টে গেলো দৃশ্যপট। ক্যান্ডি টেস্টের তৃতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতির আগে উল্টো চাপে বাংলাদেশ!

অথচ তামিম ইকবালের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ২৫ ওভার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বোলারদের শাসন করেছে সফরকারীরা। কিন্তু লাঞ্চে যাওয়ার আগের ওভারে সাইফ ও এক বল আগে শান্ত আউট হয়ে যাওয়ায় স্বস্তির সেশন চরম অস্বস্তিতে শেষ হলো। লাঞ্চ বিরতির আগে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৯৯। ৪৯৩ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করা শ্রীলঙ্কা থেকে পিছিয়ে ৩৯৪ রানে। তামিম অপরাজিত ছিলেন ৭০ রানে।

উইকেট অক্ষত রেখে ভালো সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে প্রথম সেশন শেষ করার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। ৯৮ রানেও ছিল উইকেটশূন্য। কিন্তু স্কোরে ১ রান যোগ করতেই বাংলাদেশ হারালো ২ উইকেট। ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে চলতি সিরিজে সাইফ প্রথমবার যেতে পেরেছেন দুই অঙ্কের ঘরে। আগ্রাসী তামিমকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দাঁড়িয়ে যাওয়া ইনিংসটি টেনে নিতে পারেননি এই ওপেনার। ২৫ রানে প্রবীণ জয়াবিক্রমার বলে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। বাঁহাতি স্পিনারের বাঁক নেওয়া বল তার ব্যাট ছুঁয়ে গেলে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ক্যাচ নিতে ভুল করেননি।

সাইফের বিদায়ের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই আবার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এবার হতাশ করেন শান্ত। প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ানের বিদায়টা আরও কষ্টদায়ক। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগের বলেই তিনি আউট! রমেশ মেন্ডিসের বাঁকানো বল তার ব্যাটে লেগে গেলে স্লিপে ক্যাচ নেন লাহিরু থিরিমানে। তখনও রানের খাতা খোলা হয়নি শান্তর।

তামিম যেন ওয়ানডে খেলছেন!

ইনিংসের তৃতীয় বলেই বল সীমানাছাড়া করলেন তামিম ইকবাল। লক্ষ্য পরিষ্কার, আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়া। বাঁহাতি ওপেনার সেই ঢংয়েই চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাটিং, যেন ওয়ানডে খেলছেন! শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ইতিমধ্যে হাফসেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছেন তামিম।

ওয়ানডে ব্যাটিং ধাঁচ নিয়ে মাঝেমধ্যেই কথা শুনতে হয় তামিমকে। মন্থর ব্যাটিংয়ে সমালোকচদের তীরে বিদ্ধ হতে হয় প্রায়ই। তবে টেস্টে এ যেন অন্য তামিম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও আগ্রাসী ছিলেন, দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসেও তামিমের একই রূপ। লঙ্কানদের বোলারদের শাসন করে নিজের সঙ্গে দলের রান বাড়িয়ে নিচ্ছেন।

আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র ৫৭ বলে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেছেন তামিম। টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩১তম ফিফটি পূরণ করতে মেরেছেন ৮ চার। অর্থাৎ, ৩২ রান এসেছে বাউন্ডারি থেকেই। তার এই আগ্রাসী রূপে ১৩ ওভারেই ৫০ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের স্কোর।

শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে ৪৯৩ রানে। জবাবটা দারুণ দিচ্ছে বাংলাদেশ। ১৬ ওভারে সফরকারীদের স্কোর ছিল কোনও উইকেট না হারিয়ে ৭১।

HostGator Web Hosting