| |

সর্বশেষঃ

শ্রমিকের অভাবে জমিতেই চিটা হলো পাকা ধান

আপডেটঃ 3:19 pm | May 09, 2021

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : জমিতে ধান পেকে আছে, শ্রমিকের অভাবে সেই ধান কাটতে পারছেন না অনেক কৃষক। এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, গরম বাতাস ও ব্লাস্ট রোগের প্রভাবে জমির অর্ধেকের বেশি ধান নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা বোধ করছেন তারা। আবার অনেকেই মহাজনদের ঋণ পরিশোধ নিয়েও পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। এমন পরিস্থিতি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায়।

সীমান্তবর্তী এ উপজেলার বাঙালি, গারো অধ্যুষিত এলাকার বেশিরভাগ মানুষই কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় আড়াই লাখ জনগোষ্ঠীর এ উপজেলায় বেশিরভাগ খাদ্যই উৎপাদিত হয় স্থানীয়ভাবে। এছাড়া উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে এখানকার কৃষকরা। আমন ও বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধানই তাদের সারাবছরের খোরাক জোগায়। তবে এ বছর গরম হাওয়া ও ব্লাস্ট রোগের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক কৃষকের ধান। কোথাও কোথাও অর্ধেকেরও বেশি ধান নষ্ট হয়েছে।

সরেজমিনে দুর্গাপুর উপজেলা চণ্ডিগড়, বিরিশিরি, কাকৈরগড়া, বাকলজোড়া, গাঁওকান্দিয়া, কুল্লাগড়া, সদর ইউনিয়নসহ প্রায় প্রতিটি গ্রামে একই দৃশ্য দেখা গেছে। করোনার কারণে শ্রমিক সংকট, শ্রমিকদের বাড়তি মজুরি দিতে পারবেন না- এ কারণে অনেক কৃষক নিজেই ধান কাটছেন। বাজারে ন্যায্য মূল্য পেলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করছেন তারা।

এ বছর দুর্গাপুর উপজেলায় ১৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে, প্রায় সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও বাকি ১০ হাজার হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৯৮০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে ৪২০ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকরা বলছেন, ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার হেক্টরের বেশি। যা টাকার হিসেবে- প্রায় ৬ কোটি টাকা।

এদিকে গত বছর করোনাকালে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অসহায় ও দরিদ্র কৃষকদের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিলেও এ বছর চিত্রটা পুরোপুরি ভিন্ন। হাতে গোনা দুই একটি সংগঠন ছাড়া কাউকেই স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কাটতে দেখা যাচ্ছে না। অনেক কৃষক তো শ্রমিক না পেয়ে নিজেই ক্ষেতে নেমে ধান কাটা শুরু করেছেন।

চণ্ডিগড়ের কৃষক মেরাজ বলেন, পাঁচ কাঠা জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধানের আবাদ করছি। একই জমিতে আগে ২০-২৫ মণ ধান পাইতাম, এখন পাই মাত্র ৭-৮ মণ। বাজারে বিক্রি করব কী? আর নিজেদের খাওয়ার জন্য রাখব কী? বাজারে ধানের ন্যায্য দাম পাই তাহলে হয়ত ক্ষতি কিছুটা পূরণ হবে।

কুল্লাগড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মোতালেব বলেন, আড়াই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ২০ কাঠা জমিতে ধান চাষ করছিলাম। কিন্তু গরম হাওয়া আর ব্লাস্ট রোগে সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। জমিতে ধান থাকলেও কোনো লাভ নাই, ধানের ভেতর চাল নাই- সব চিটা হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ঋণ শোধ করব ভেবে পাচ্ছি না।

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আমরা ১ হাজার ৯২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে একটি তালিকা তৈরির কাজ চলছে। সরকারি সহায়তা পেলেই তা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

HostGator Web Hosting