| |

সর্বশেষঃ

বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স বন্ধ হচ্ছে না

আপডেটঃ 1:29 pm | June 06, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স স্তর বন্ধ করা হচ্ছে না। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে বিষয় খোলা থাকলেও শিক্ষক নেই কিংবা শিক্ষার্থী নেই এমন কলেজে অনার্স-মাস্টার্স পড়ানো বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর কলেজগুলোতে ডিগ্রি ও অনার্স-মাস্টার্স পড়ানোর পেশাগত দক্ষতা তৈরির জন্য বিভিন্ন সর্ট কোর্স খোলা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুর হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স বন্ধ করার কথা বলা হয়নি। আমাদের আলোচনা ছিল— দেশের বাস্তবতায়, যে শিল্প নির্ভর অর্থনীতি তৈরি হতে যাচ্ছে, সেখানে এতগুলো অনার্স গ্রাজুয়েটর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কঠিন। তারা যদি কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা না পায় তাহলে শিক্ষিত বেকারে পরিণত হবে। তাই শিক্ষিত বেকার যাতে না হয়, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নানা ধরনের দক্ষতানির্ভর প্রফেশনাল কোয়ালিফিকেশন তৈরির দিকে জোর দেওয়ার কথা বলছি।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স স্তর শেষ করার পর অথবা ডিগ্রি শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা যাতে একটি চাকরি নিশ্চিত করতে পারে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাকরি করার উপযুক্ত করে গ্র্যাজুয়েটদের প্রস্তুত করতে বিভিন্ন ধরনের সর্ট কোর্স খোলা হবে। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্রাউজিং, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ইংরেজি ভাষাসহ অন্যান্য ভাষার উপর দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করিয়ে পেশাগত দক্ষতা ও যোগ্য করে তোলা হবে। দেশে কিংবা দেশের বাইরে চাকরি নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সর্ট কোর্স করিয়ে সনদও দেওয়া হবে গ্র্যাজুয়েটদের।

সর্ট কোর্স চালু করার বিষয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘ফিজিক্স অনার্স যদি কেউ করেন তাহলে কেনও তিনি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কোর্স করবেন না? করতে হবে এজন্য যে, কর্মমুখী হতে হবে। যেকোনও বিষয়ে অনার্স গ্রাজুয়েশন করা শিক্ষার্থী কেনও ইলেক্ট্রিশিয়ানের কোর্স করবে না? ফটোগ্রাফি কোর্স করবে না? উন্নত বিশ্বের দিকে যদি তাকাই তাহলে দেখবো— নানা রকমের কর্মমুখী দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিকভাবে আমরা মনে করি অনার্স-মাস্টার্স গ্র্যাজুয়েট শিক্ষা আমাকে কর্মমুখী করে তুলবে, আমার চাকরি হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে— আমাদের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্পায়নের দিকে যাচ্ছি। সেখানে এতেগুলো গ্র্যাজুয়েটের কর্মসংস্থান আমাদের দেশে করতে হবে, না হয় বিদেশে করতে হবে। আর সে কারণেই কর্মমুখী দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রয়োজন।’

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘এখনই অনার্স স্তর বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে না। যদিও বন্ধ করতে হয়, তাও যারা ভর্তি হয়েছে তারা তো অনার্স-মাস্টার্স করবে। আসলে আমরা উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষা দেওয়ার জন্য ডিপ্লোমাসহ সর্ট কোর্স চালু করবো।’

গত প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির আন্দোলনের এক পর্যায়ে এবং অনার্স-মাস্টার্স কলেজে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মানসম্মত কলেজেগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স রেখে বাকি কলেজগুলোতে ডিপ্লোমাসহ বিভিন্ন ধরনের সর্ট কোর্স চালুর ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটিতে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতিকেও রাখা হয়।

কমিটি কাজ শুরু করেই জানতে পারে বেশিরভাগ কলেজে অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত দুরবস্থার চিত্র। উচ্চশিক্ষাকে কিছুটা সীমিত করে ভালোভাবে গ্রাজুয়েট ডিগ্রি সম্পন্ন করিয়ে সেখানে কারিগরি ডিপ্লোমা বা বিভিন্ন সর্ট কোর্স চালু করা যেতে পারে। এ ছাড়া শিক্ষকদের বেতনের বিষয়েও শিক্ষা মন্ত্রণালয় আন্তরিক।

HostGator Web Hosting