| |

সর্বশেষঃ

গৌরীপুরে গ্রামবাসীর অর্থায়নে সুরিয়া নদীতে সেতু নির্মাণ

আপডেটঃ 3:07 pm | June 10, 2021

শামীম খান, স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : বর্ষাকালে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় সুরিয়া নদী পারাপার হত গ্রামবাসী। কিন্ত শুকনা মওসুমে নদীতে পানি না থাকায় নৌকা চলাচল বন্ধ থাকতো। এতে করে বিড়ম্বনায় পড়তে হত গ্রামবাসীকে। এই অবস্থায় নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল দুই পাড়ের গ্রামবাসী। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় গ্রামবাসী নিজেরাই চাঁদা তুলে নদীর ওপর ১৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের মাওহা ইউনিয়নের নয়ানগর বাউশালী পাড়া ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের দুঘিয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে সুরিয়া নদী। নদীতে সেতু না থাকায় দুই পাড়ের নয়ানগর বাউশালী পাড়া, সিংচাপুর, কুশ^াপাড়া, দুঘিয়া ,দক্ষিণ বিশিউড়া, কামারহাটি, বিয়ারলীলী সহ প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষকে নৌকায় নদী পার হতো।

নদীর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে দক্ষিণ বিশিউড়া উচ্চ বিদ্যালয়, দেওয়ানবাগী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় , দুঘিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে গিয়ে উত্তর পাড়ের গ্রামের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ত। অপরদিকে সেতু না থাকায় দুই পাড়ের মানুষকে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

গ্রমাবাসী জানায়, আড়াই বছর আগে নদীতে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতুর জন্য এলজিইডি অধিদপ্তরে আবেদন করে গ্রামবাসী। কিন্ত এলজিইডি থেকে এত দীর্ঘ সেতু নির্মাণের সুযোগ না থাকায় সেতু নির্মাণ হয়নি। এই অবস্থায় জেলা পরিষদ সদস্য এইচএম খায়রুল বাসার নিজেদের অর্থায়নে সেতু নির্মাণের জন্য গ্রামবাসীর সাথে মতবিনিময় করলে সবাই সম্মতি দেয়। পরে স্কুলশিক্ষক মঞ্জুরুল হক, শিক্ষার্থী আজহারুল করিম ও সোহেল রানাকে নিয়ে ৩ সদস্যের কমিটি হয়। ওই কমিটি নিজেরা অর্থায়নের পাশাপাশি গ্রামবাসীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে নদীর ওপর ১৭০ ফুট স্টিলের সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে সুরিয়া নদীর দুই পাশে মাটি ভরাট করে ১৬০ ফুট সংযোগ সড়ক করা হয়েছে। নদীর কাঠের খুঁিট স্থাপন বসানো হয়েছে লোহার চ্যানেল। এখন চলেছে মূল সেতুতে স্টিলের পাটাতন বসানোর কাজ। নির্মাণকাজ শেষ হলে সেতুটি গ্রামবাসী ও যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

সেতু নির্মাণ কাজের উদ্যোক্তা আজহারুল করিম বলেন সেতু নির্মাণে সাত লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্মাণ কাজে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। নির্মাণ কাজে অর্থ সঙ্কট আছে। তবে সবাই মিলে সহযোগিতা করলে কাজ দ্রæত শেষ হয়ে যাবে।

জেলা পরিষদ সদস্য এইচএম খায়রুল বাসার বলেন গ্রামবাসীর উদ্যোগে নির্মিত সেতুটি নেত্রকোনা সদর ও ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার আঞ্চলিক ব্যবস্থায় নতুন দ্বার উন্মোচিত করবে । নির্মাণ কাজ শেষে হলে সেতু দিয়ে ইজিবাইক, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যানগাড়ি চলাচল করতে পারবে।

HostGator Web Hosting