সংবাদ শিরোনাম

 

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে লাশ রয়েছে কি না সেটা নিয়ে যে প্রশ্ন রয়েছে, তার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের দাবি উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এমন দাবি তোলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। ‘বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভস বিল, ২০২১’ ওপর আলোচনায় দাঁড়িয়ে এ দাবি করেন তিনি।

কে এম খালিদ বলেন, সংসদ ভবন নিয়ে লুই আই কানের যে নকশা সেখানে কোথায় রয়েছে যে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ দাফন করতে হবে। সেখানে লাশ আছে কিনা সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বেগম জিয়ার স্বামী মনে করে কাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান? তারই উচিত এ প্রশ্ন করা, ওনার স্বামীর লাশ সেখানে আছে কিনা?

বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে তারই নির্ণয় উচিত। আপনারা দলের নেতা ভেবে কাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ওখানে কি কারো মৃতদেহ আছে? নাকি অন্যকারো মৃতদেহ।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন সংসদ সদস্য (এমপি) বলেছেন, সঠিক ইতিহাস আসতে নাকি শতবছর লাগে। মৃত্যুর ৪০ বছর পরে সঠিক ইতিহাস বের হলে সমস্যা কোথায়? জিয়াউর রহমানের লাশ আছে কি নাই। এটা বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণের ব্যবস্থা আছে। আপনারা (বিএনপি) নিরপেক্ষ একটা কমিটি করেন। সরকার সহযোগিতা করবে। সত্য উৎঘাটনে ভয়ের কি আছে?

তিনি বলেন, আপনাদের দলের নেত্রীকে বলেন- যদিও তিনি সাজাপ্রাপ্ত। প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পায় সাজা স্থগিত নিয়ে বসবাস করছেন। আইনের সুযোগ থাকলে তার নেতৃত্বে কমিটি করেন।

বিএনপির দলীয় এমপি হারুনুর রশীদ বলেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ তার বক্তব্যে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ১৯৭৯ সালে সংসদ ছিল। সেখানে আওয়ামী লীগও ছিল। মানিক মিয়া এভিনিউতে যে জানাজা হয়েছিল, তাতে এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। শোক প্রস্তাবের ওপর সংসদে দীর্ঘ আলোচনায় তারা অংশ নিয়েছিলেন। সেগুলো প্রসেডিংয়ের মধ্যে রয়েছে। আমার কথায় যদি কোনো অপ্রাসঙ্গিক থাকে তা এক্সপাঞ্জ করুন।

তিনি বলেন, কারো যদি অপমৃত্যু হয়। তাহলে তার ময়নাতদন্ত লাগে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। সামরিক আদালতে বিচারও হয়েছে। এটা অসত্য কিছু নয়। আজকে জেনারেল এরশাদ বেঁচে থাকলে তিনি লজ্জা পেতেন। লজ্জা পেয়ে মুখ ডাকতো।

বিএনপির আরেক এমপি রুমিন ফারহানা বলেন, আর্কাইভস যদি করতে হয়, তাহলে স্বীকার করতে হবে জিয়াউর রহমান ছিলেন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ছিলেন বীর উত্তম, এটা স্বীকার করেতে হবে। তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। ওনারা ওনাদের কথা বলবেন, আর আমরা আমাদের কথা। এটুকু ধৈর্য যদি তাদের না থাকে তাহলে তারা কী ইতিহাস লিখবে? চর্চা করবে? আর্কাইভসে কী জমা সেটা ভালো করেই বুঝতে পারছি।

রুমিন বলেন, ইতিহাস সবসময় জয়ীদের হাতে লেখা হয়। তাই আমাদের মতো দেশে প্রকৃত ইতিহাস জানতে শতবছর লাগে। যতদিন পর্যন্ত দলীয় চশমায় ইতিহাস লেখা হয়, তাতে আইন পাস করে কোনো লাভ হবে না। আজকে ৪০ বছর পরে কেন জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে এ বিতর্ক। এ কারণে সরকারের ব্যর্থতা, ভোট চুরি, গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাট থেকে মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এ বিতর্ক করা হচ্ছে।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের শেষের দিকে সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরকার দলীয় সদস্যরা হইচই করেন শুরু করেন।
বিএনপির আরেক সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমানের লাশ সেখানে (চন্দ্রিমা উদ্যান) আছে কি নাই, সেটা বড় বিষয় নয়। সেখানে যে লাশ নাই, তা আপনারা (আওয়ামী লীগ) কীভাবে জানলেন? এতবছর ধরে ক্ষমতায় আছেন, এটা নিয়ে আগে কথা বলেনি কেন? এখন কেন বলছেন?

জাতীয় পার্টির এমপি শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ইতিহাস বিকৃতিতো বিএনপিও করে। তারা বলে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান। এ বিষয়ে আমাদের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। আর তিনি (জিয়াউর রহমান) বেঁচে থাকতে কখনোই বলতে শুনিনি, দেখিনি উনি নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেছেন। তাদের প্রথমে ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ করতে হবে। তারপর আওয়ামী লীগ যদি ইতিহাস বিকৃতি করে থাকে, সেটা বন্ধের আহ্বান বিএনপি জানাতে পারে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম