সংবাদ শিরোনাম

 

নালিতাবাড়ীতে ফলন ভালো ও লাভবান হওয়ায় আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা।
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ফলন ভালো ও লাভবান হওয়ায় আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা। আমন মৌসুমে যারা আমন ধান চাষ করতেন তাতে খরচ উঠলেও লাভের মুখ দেখছিলেন না কৃষকরা। তাই পাঁচ বছর ধরে আমন ছেড়ে দিয়ে আখ চাষ করছেন উপজেলার গোবিন্দ নগর গ্রামের আখ চাষি রেজাউল করিম।

নিজের ২৫ শতাংশ জমিতে খরচ বাদ দিয়ে এক মৌসুমেই ৪০ হাজার টাকার বেশি লাভ হয়েছে তার। লাভ বেশি হওয়ায় রেজাউলের মতো আরো অনেক চাষি এখন আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আখ চাষের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৮৭ একর। আর আখ চাষ করা হয়েছে ১৩৬ একর জমিতে। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৫০ একর জমিতে আখ চাষ বেশি হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে এক হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন আখ। গত বছর অর্জন হয়ে ছিল ৭৪ একর জমিতে।

উপজেলার মরিচপুরান, গোবিন্দ নগর, ছিটপাড়া, নিচপাড়া, ভেদিকুড়া, গেরাপচা এলাকার মাটি আখ চাষের উপযোগী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে পরিচিত তুলাবারং, ফুলপুরি, রৌমারী জাতের আখ চাষ করছেন।

এছাড়াও কৃষি অফিস থেকে দেওয়া বিএসআরআই নামে তিনটি নতুন জাত আবাদ হয়েছে। রোগ বালাইয়ের তেমন একটা ক্ষতি না হলে এক একরে আড়াই লক্ষাধিক টাকার আখ বিক্রয় করা যায়। উৎপাদন খরচ ৭০-৮০ হাজার টাকা বাদে একরে ২ লাখ টাকার মতো লাভ হয়। গত কয়েক বছরের চেয়ে চলতি বছর কৃষকরা আখ চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। ভালো ফলন এবং ভালো দাম পাওয়ায় আগে ভাগেই আখ কেটে বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেছেন কৃষকেরা।

প্রতিদিন ভোর হলেই কৃষকরা আখ নিয়ে পৌরশহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সামনের মাঠে হাট বসায়। সকাল ৯ টার মধ্যে বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়। আখ কাটার পর কৃষকরা এরপর ওই জমিতেই আবার সবজি আবাদ করার প্রস্ততি নিতে শুরু করেছেন।

কৃষক রেজাউল করিম বলেন, আমার ২৫ শতাংশ জমিতে আখ চাষে লাভ ৪০ হাজার টাকা। এখন সবজি করার প্রস্ততি নিয়েছি। তাতে সব খরচবাদে আরো লাভ আসবে ১৫-২০ হাজার টাকা। ওই ২৫ শতাংশ জমি থেকে বছরে আমার লাভ হয় ৫৫-৬০ হাজার টাকা।

গোবিন্দ নগর গ্রামের মোস্তফা কামাল বলেন, ১৫ কাঠা জমিতে ফুলপুরি জাতের আখ লাগিয়েছি। প্রতিদিন সকালে বাজারে নিয়ে পাইকারী ১টি আখ ১০-১২ টাকায় বিক্রি করছি। যারা কিনে নিয়ে যায় তারা আবার খুচরা ১টি আখ বিক্রি করে ২০-২৫ টাকা।

নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ওয়াসিফ রহমান বলেন, গত বছরের চেয়ে চলতি বছর কৃষকরা বেশি আখ চাষ করেছেন। কৃষকদের আখ চাষে উদ্ধুদ্ধ করতে কৃষি অফিস থেকে পাঁচজন কৃষকের মাঝে তিনটি নতুন জাত বিএসআরআই, ৪১, ৪২ ও ৪৭ প্রদর্শনী প্লট হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তাতে ফলাফল খুবই ভালো হয়েছে। আশা করছি আগামী বছর উৎপাদন আরো বাড়বে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম