সংবাদ শিরোনাম

 

অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালনে আরও দুই সপ্তাহ সময় পেয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বিটিআরসির পক্ষে সময় চেয়ে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার জারিন রহমান ও অ্যাডভোকেট রাশিদা চৌধুরী নীলু। বিটিআরসির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল (এম আর) চৌধুরী।

আইনজীবীরা জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) হাইকোর্টকে জানিয়েছে, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সব নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের তালিকা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে ওই তালিকা দেওয়া হয়নি। সেখান থেকে তালিকা পেলেই অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে দুই সপ্তাহের সময় চায় বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ। এরপরে আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন।

এদিকে আজ বিকেলের দিকে বেশ কয়েকটি নিবন্ধিত নিউজ পোর্টালে প্রবেশ করতে গেলে ব্লক দেখাচ্ছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল দেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থা ‘বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’। বেশ কিছুক্ষণ পরে অবশ্য ব্লক করা পোর্টাল গুলো খুলে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওইদিন আদালতে আদেশের কপি হাতে পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে এ আদেশ বাস্তবায়ন করে, তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে জমা দেওয়ার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন বিচারকরা।

এ সংক্রান্ত এক রিটের সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয়, রিট পিটিশনে সংযুক্ত (এনেক্সার বি)-তে উল্লেখিত নিউজ পোর্টালসমূহ যদি অনৈতিক, মানহানিকর ও গুজব ছড়ানো সংক্রান্ত তথ্য প্রচার করে, তাহলে বিবাদীরা ওই নিউজ পোর্টালসমূহকেও বন্ধ করতে পারবেন।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল কেন বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। ওইদিন এক সপ্তাহের মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলেছিলেন আদালত।

গত ৫ মে সংবেদনশীল সংবাদসহ যেকোনো খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য ‘নৈতিক নীতিমালা’ প্রণয়ন চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল (আইনি) নোটিশ পাঠানো হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নোটিশের পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী জারিন রহমান ও রাশিদা চৌধুরী নীলু।

রিট আবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি রাজধানীতে ২১ বছরের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দণ্ডবিধি আইনের ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমগুলো, বিশেষ করে অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে অগ্রহণযোগ্যভাবে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। অথচ এসব সংবাদ পরিবেশন বন্ধে বিটিআরসি কিংবা প্রেস কাউন্সিল কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

‘এমতাবস্থায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দেশে অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালগুলো চালু থাকার পরও বিটিআরসি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই এসব পোর্টালের রেজিস্ট্রেশনও জরুরি’ বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম