সংবাদ শিরোনাম

 

স্পোর্টস অ্যান্টেনায় দেশীয় টিভি দর্শকদের কাছে এ পর্যন্ত সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সঞ্চালক সম্ভবত মারিয়া নূর। অথচ মাঝের দুই বছর সেই চেয়ার থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলেন অস্পষ্ট কারণে। বিনিময়ে ব্যস্ত হলেন টিভিসি, মিউজিক ভিডিও, ওয়েব সিরিজ/ফিল্ম ও টিভি নাটকে।

আশার কথা, সঞ্চালনার চেয়ারে মারিয়া বসছেন আবারও। ফেরার খবরের সঙ্গে এটুকুও জানিয়ে রাখলেন, বিশ্বকাপের পরেই ফের ছুটিতে যাবেন তিনি! তাও আবার অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। তবে আপাতত জানা যাক প্রথম বিরতি শেষে ফেরার গল্পটা।

২০১৯ সালে যেখান (বিশ্বকাপ ক্রিকেট) থেকে শেষ করেছেন, শুরুটাও করছেন সেখান থেকেই। মারিয়া জানান, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসরকে কেন্দ্র করে টি-স্পোর্টস বড় পরিসরের একটি এক্সক্লুসিভ শোয়ের প্রস্তাব দিয়েছে মারিয়াকে। শোয়ের ক্যানভাস দেখে পছন্দ হয়েছে তার। তা না হলে, দুই বছরের বিরতি ভেঙে কর্তৃপক্ষকে বলতেন না—কবুল।

শোয়ের নাম ‘স্ট্রেট ড্রাইভ’। নামটি স্বাভাবিক মনে হলেও স্পোর্টস কেন্দ্রিক দেশীয় টিভি শোয়ের ধারণা পাল্টে দিতে পারে মারিয়ার এই শো। সোয়া এক ঘণ্টার শো হবে এটি। বিশ্বকাপ চলাকালীন রোজ দুপুর ২টা থেকে সোয়া ৩টা পর্যন্ত চলবে। যেখানে প্রতিটি খেলার প্রায় প্রত্যেক খেলোয়াড়ের বিষয়ে ডিটেল পর্যালোচনা হবে।

মারিয়া নূর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এতটা বিস্তারিত শো এখানে আগে আর হয়নি। এই শোয়ের ক্যানভাস অনেক বিস্তৃত। যেটা বরাবরই আমি চেয়েছি। এবার প্রতিটি ম্যাচ ও প্লেয়ারকে নিয়ে বিস্তৃত আলাপে ডুব দিতে পারবো। সে জন্যই ফেরা।’

কিন্তু মাঝে টানা দুই বছরের বিরতি কেন? তাও আবার সঞ্চালনা থেকেই। মডেলিং, মিউজিক ভিডিও, অভিনয় তো ঠিকই চলেছে, মিলেছে দারুণ সব প্রশংসা। অথচ বরাবরই মারিয়া বলে আসছিলেন, সঞ্চালনা তার প্রথম পছন্দ, বাকি সব পরে।

আত্মপক্ষ সমর্থনে বেশ স্পষ্ট মারিয়া; পর্দায় ম্যাচ পর্যালোচনার মতোই। বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘এখনও আমার প্রথম পছন্দ বা আগ্রহ স্পোর্টস আর সঞ্চালনা। শেষ কাজ করেছি ২০১৯-এর ওয়ার্ল্ড কাপে। এরপর আসলে খেলাটাও সেভাবে হয়নি। আর যেসব প্রস্তাব পেয়েছি, সেগুলোর পরিধি, পরিকল্পনা আর বাজেট পাতে নেওয়ার মতো ছিল না। খুব বিরক্ত ছিলাম। তাই করা হয়নি।’

আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে এমনটা ছিল না টিভি স্টেশনগুলোতে। এই শোগুলোকে ঘিরে ভালো পরিকল্পনা এবং বাজেট ছিল। শেষ তিন বছরে সেটা ক্রমশ ছোট হয়ে এলো। মূলত এই অভিমান বা রাগ থেকেই সঞ্চালনা থেকে দূরে ছিলাম।’

সঞ্চালনা থেকে সরে একই সময়ে মারিয়া নিজেকে নতুন আলোয় দাঁড় করালেন ওয়েব দুনিয়ায়। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’ দিয়ে ভালো সাড়া পেলেন। এরপর মাসুম শাহরিয়ারের নাটক ‘লা পেরুজের সূর্যাস্ত’ এবং সম্প্রতি মেহেদি হাসান জনির ওয়েব ফিল্ম ‘হেরে যাবার গল্প’ দিয়ে সাবলীল অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে জানান দেন মারিয়া। চলেছে আরও কয়েকটি ওয়েব কেন্দ্রিক প্রজেক্টের কাজ। যা এখনই বলতে নারাজ আগাম না বলতে শেখা এই তারকা।

এটুকু বললেন, ‘হাতে আরও দুটি সঞ্চালনার বড় প্রজেক্ট আছে। ওয়েবের জন্য বেশ কিছু কাজ চলছে। সত্যি বলতে সঞ্চালনার ডিপ্রেশনটা ওয়েবে এসে কাটালাম গত দুই বছর। ওয়েবের জন্যই অভিনয়ে আগ্রহ পাচ্ছি। দেশ-বিদেশের সব ওটিটি প্ল্যাটফর্ম দারুণ সব কাজ করছে। এটা একটা ভালো ব্রিদিং স্পেস আমার জন্য।’

১৭ অক্টোবর শুরু হয়ে ১৪ নভেম্বর স্ট্যাম্প ভাঙছে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসরের। এরপরই অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য পর্দা থেকে আড়ালে যাবেন মারিয়া নূর। এই বিষয়ে তার কণ্ঠ দ্ব্যর্থহীন। শুধু সঞ্চালনা থেকে নয়, অভিনয়-বিজ্ঞাপন থেকেও। তবে কী বিদেশে সেটেল হচ্ছেন মারিয়া? ঘর, সংসার কিংবা ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত হবেন! নাকি অভিমান।

বাংলা ট্রিবিউনকে মারিয়া বললেন, ‘এসব কিছু না। মাঝে উপস্থাপনা থেকে বিরতি নিয়েছি, কিন্তু অভিনয়ে আরও ব্যস্ত হয়েছি। এখন উপস্থাপনায় ফিরছি। ওয়েবের জন্যেও প্রচুর (সংখ্যা নয়, আমার হিসাবে) কাজ করছি। কিন্তু আমি তো এত ব্যস্ত হতে চাইনি। এখনও চাই না। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, বিশ্বকাপের পর মিডিয়ার সব কাজ থেকে সোজা বিরতিতে যাবো।’

কিন্তু সেটারও তো একটা সীমানা থাকা চাই, ‘সীমানা দিয়ে মনকে বেঁধে রাখা সম্ভব না। আমি আসলে মানসিক ফিটনেসের জন্য এই বিরতি নিচ্ছি। ফিরবো আবার, তবে তার আগে নিজেকে একটু রিফ্রেশ করতে চাই। নিখাদ ছুটিতে যেতে চাই। সেটা এক মাসের জন্য হতে পারে, কয়েক বছরও হতে পারে। আমি আসলে নিশ্চিত নই।’


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম