সংবাদ শিরোনাম

 

লাল মাটি আর সবুজে ঘেরা সবুজ-শ্যামল গাছপালায় পরিবেষ্টিত গ্রাম। লাল মাটির মেঠো পথ পেরিয়ে ভোরবেলা গিয়ে দেখা গেলো, চারদিকে লাল শাপলা ফুলের সমারোহ। ভোরের সূর্যোদয়ের পর যেন মুগ্ধতার আভা বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রকৃতির বুকে আঁকা এ যেন এক নকশিকাঁথা। এ যেন শাপলার রাজ্য। লতা-পাতা গুল্মে ভরা বিলের পানিতে শত সহস্র লাল শাপলা যেন হার মানিয়েছে সূর্যের আভাকেও।

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে কয়েকটি বিল ঘুরে দেখা গেলো, এমন অপূর্ব দৃশ্যের সৌন্দর্য চোখজুড়ানো। কোলাহল মুক্ত নীরব প্রকৃতি যেন আপন মনে তার রূপ বিলিয়ে যায়। ছোট নৌকা দিয়ে বিলে ফুটন্ত লাল শাপলায় হাত ছোঁয়াতেই মনে হয় যেন স্বপ্নের দেশে হারিয়ে গেছি!

আগাছা আর লতা-পাতায় বিলের হাজারো শাপলায় চোখ জুড়ায়। বিলের যত ভেতরে যাওয়া যায়, ততই বাড়তে থাকে লালের আধিক্য।

গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ও টোক ইউনিয়নে রয়েছে এসব বিল। কাপাসিয়া উপজেলা সদর থেকে ১৫ কি.মি দূরত্বে কাপাসিয়া-কিশোরগঞ্জ সড়কের উজলী বাজার থেকে দুই কিলোমিটার ভেতরেই নারহাট শাপলা বিল।

একই সড়কের চার কি.মি দূরত্বে টোক নয়ন বাজার। সেখান থেকে আধা কিলোমিটার দূরে পশ্চিমপাড়া ও ঝালপাড়া গ্রামে নীরব নিস্তব্ধ প্রকৃতি আপন সৌন্দর্য ছড়িয়ে যাচ্ছে।

এ বিলে ঠিক কবে থেকে শাপলা জন্মাতে শুরু করেছে তা নিয়ে নেই সঠিক কোনো তথ্য। স্থানীয় বয়স্কদের কাছ থেকে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই এভাবে শাপলা ফুটতে দেখেছেন তারা।

স্থানীয় ভেংগুরদি গ্রামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র আশিক রাব্বানি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘নিজ এলাকায় এত সুন্দর লাল শাপলা বিল স্বপ্নের মতো লাগে। প্রকৃতিপ্রেমীদের মনকে উজ্জীবিত করে এমন দৃশ্য।’

টোক রনেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র উবাইদুর রহমান নাছিমবলেন, ‘এসব বিলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিতে হবে। লাল শাপলা বিল ধরে রাখতে প্রকৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে আমাদের। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ দেখতে আসেন, এটি আমাদের এলাকার জন্য গর্বের বিষয়।’

এই শাপলা মানুষের খাদ্য তালিকায় আবহমানকাল থেকে যুক্ত রয়েছে। তবে জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাটের কারণে বিলাঞ্চল থেকে কমে যাচ্ছে লাল ও সাদা শাপলা। এর মধ্যে সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে এবং লাল রঙের শাপলা ওষুধি গুণে সমৃদ্ধ। শাপলা খুব পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সবজি। শাপলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম।

লাল শাপলা চুলকানি ও রক্ত আমাশয়ের জন্য বেশ উপকারী। প্রতি ১০০ গ্রাম শাপলায় রয়েছে ১.৩ গ্রাম খনিজ পদার্থ, আঁশ ১.১ গ্রাম, খাদ্যপ্রাণ ১৪২ কিলোগ্রাম, ক্যালোরি-প্রোটিন ৩.১ গ্রাম, শর্করা ৩১.৭ গ্রাম, ক্যালশিয়াম ৭৬ মিলিগ্রাম।

শাপলা ফুল দিয়ে চমৎকার সু-স্বাদু খৈ ভাজা যায়, যা গ্রাম-গঞ্জে ঢ্যাপের খৈ নামে পরিচিত। মাটির নিচের মূল অংশকে (রাউজোম) আঞ্চলিক ভাষায় শালুক বলে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে বিল-ঝিল-হাওড়-বাঁওড়-পুকুরের পানি যখন কমে যায় তখন গ্রাম-গঞ্জের লোকজন জমি থেকে শালুক তোলে। শালুক খেতেও বেশ সুস্বাদু।

গ্রাম-গঞ্জে একসময় অভাবী সংসারে শালুক সেদ্ধ করে দিনের খাবার হিসেবেই গ্রহণ করা হতো। শালুক আমাশয়ের জন্য খুবই উপকারী সবজি। সহজলভ্য হওয়ায় গ্রামের মানুষ প্রতিদিনই শাপলা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে আসছে।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম