সংবাদ শিরোনাম

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কুমিল্লায় পূজামণ্ডপের ঘটনার রেশ ধরে সারাদেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে- তা যে সরকারের ন্যাক্কারজনক পরিকল্পিত নীল নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে; সেটি আজ জনগণের কাছে স্পষ্ট। সরকারের পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও এর ফলশ্রুতিতে দেশব্যাপী রক্তাক্ত হিংসাশ্রয়ী ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জনিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

রবিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন। এসময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই অরাজকতা সৃষ্টিকারীরা বাংলাদেশের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুমহান ঐতিহ্যকে ম্লান করলো। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে, তাদের উপসনালয় ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।

২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে কক্সবাজারের রামু-উখিয়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুর, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে আক্রমণ ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তাদের ঘর-বাড়ি, সহায়-সম্পত্তি আত্মসাৎ করা হয়েছে; এই দুস্কৃতিকারীরা প্রায় সকলেই ক্ষমতাসীন দলের লোক বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্গাপূজার প্রাক্কালে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আশ্বাস দেওয়ার পরও কেন পবিত্র কোরআন অবমাননা, মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাংচুরের মতো ঘটনা ঘটলো। কুমিল্লার সাধারণ মানুষের মতো আমরাও একমত যে, পুলিশবাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিলে নানুয়া দিঘীরপাড়ের মণ্ডপের ঘটনাটি নির্মম অমানবিকতার দিকে গড়াতো না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাসের পর কেবল ক্ষমতা-সংশ্লিষ্ট দুষ্টচক্র ছাড়া দেশের জণগোষ্ঠীর কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ই এই কদর্য কাজ করবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

ঘটনার পরপরেই নিজের দেওয়া একটি বিবৃতির কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি বলেছিলাম- সরকারের মদদেই কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে চক্রান্তমূলক কুৎসিত কাজটি করা হয়েছে। এর বড় প্রমাণ- ঘটনার পরপরই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা অতিসত্বর পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এই অনুরোধে সাড়া না দিয়ে পুলিশ পাঠিয়েছে অনেক পরে।’

‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের নীতি আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে’ বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই অন্যতম শীর্ষ নেতা।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম