সংবাদ শিরোনাম

 

চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিশ্বজুড়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। যদিও আগের দিনের তুলনায় বাড়ল প্রাণঘাতী ভাইরাসে নতুন সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। গেল ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে কোভিড শনাক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন সাত হাজারের বেশি মানুষ। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে নতুন করে রোগটিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে চার লাখ ৬১ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

এ দিকে সর্বশেষ এক দিনে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। অপর দিকে দৈনিক মৃত্যুতে এরপরই রয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন-ব্রাজিল এবং মেক্সিকোর নাম। এতে বিশ্বব্যাপী কোভিড শনাক্তের সংখ্যা ২৪ কোটি ৩২ লাখের ঘর ছাড়িয়েছে। অপর দিকে মৃতের সংখ্যাও এরই মধ্যে ৪৯ লাখ ৪৪ হাজারে পৌঁছে গেছে।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মৃত্যু, আক্রান্ত ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডো মিটারস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে কোভিড সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন সাত হাজার ১৮৬ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় প্রাণহানির সংখ্যা কমল প্রায় তিনশ। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫১ জনে পৌঁছেছে।

নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন চার লাখ ৬১ হাজার ৩১১ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত রোগটিতে শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২৪ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ২২ জনে দাঁড়িয়েছে।

এ দিকে শেষ এক দিনে বিশ্বে করোনার থাবায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটল যুক্তরাষ্ট্রে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে মহামারি করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৮০ হাজার ৭৭৫ জন। আর মারা গেছেন এক হাজার ৪২০ জন। করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত চার কোটি ৬১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন সাত লাখ ৫৩ হাজার ৭৩৯ জন।

অপর দিকে দৈনিক মৃত্যুর তালিকায় এরপরই রয়েছে রাশিয়ার নাম। শেষ এক দিনে দেশটিতে মৃত্যুবরণ করেছেন এক হাজার ৩৬ জন। আর নতুন করে রোগটিতে সংক্রমিত হয়েছেন ৩৬ হাজার ৩৩৯ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৮১ লাখ ৩১ হাজার ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৩৮৯ জন কোভিড রোগীর।

শেষ এক দিনে যুক্তরাজ্যে নতুন করে কোভিড সংক্রমিত হয়েছেন ৫২ হাজার নয়জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১১৫ জন। মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৮৬ লাখ ৪১ হাজার ২২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া মারা গেছেন এক লাখ ৩৯ হাজার ১৪৬ জন।

মহামারি করোনার থাবায় সংক্রমিতের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। নির্ধারিত শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে রোগটির থাবায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬১ জন। আর নতুন করে কোভিড শনাক্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৮৫২ জন। অপর দিকে মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দুই কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩৪১ জনে পৌঁছেছে। আর মৃত্যু হয়েছে ছয় লাখ চার হাজার ৭৬৪ জনের।

এ দিকে করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ভারত। যদিও প্রাণঘাতী ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান এখন তৃতীয়। শেষ এক দিনে দেশটিতে কোভিড শনাক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৩২ জন। আর নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭৫৯ জন। দেশটিতে মোট সংক্রমিত তিন কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৪৪১ জন। আর মারা গেছেন চার লাখ ৫৩ হাজার ৭৬ জন।

এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে ১৭৮ জন, ইউরোপের মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্কে ১৯৮ জন এবং ইউক্রেনে ৫৪৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। অপর দিকে শেষ এক দিনে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪২৪ জন। মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৭ জনের।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ প্রাণঘাতী ভাইরাসটিকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম