সংবাদ শিরোনাম

 

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে যারা সাম্প্রদায়িক দেশে পরিণত করার স্বপ্নে বিভোর তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্ব বা ধর্মের ভিত্তিতে যে স্বাধীনতা এসেছিল সেই স্বাধীনতা যে ব্যর্থ ছিল তা প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতা যুদ্ধকে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ঠেকাবার চেষ্টা করেছিল তারা ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যারা আবার পূর্ব-পাকিস্তান কায়েম করতে চেয়েছিল তারাও ব্যর্থ হয়েছে। আবার নতুন করে যদি কেউ স্বপ্নে বিভোর হন বাংলাদেশকে মুসলমানের বাংলাদেশ বা হিন্দুর বাংলাদেশ অথবা সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে পরিণত করার, তাহলে তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) অডিটোরিয়ামে একটি কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বার্ষিক গবেষণা পরিকল্পনা প্রণয়ন ২০২১-২২ শীর্ষক কর্মশালার এ সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএফআরআই।

শ ম রেজাউল করিম আরও বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। এখানে প্রত্যেকটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। এই সমঅধিকারের রাম-রহিমের বাংলাদেশকে কেউ যদি বিভাজন করার অপচেষ্টা করে আমরা ধরে নেব তারা এ জাতির শত্রু, রাষ্ট্রের শত্রু, মানবতার শত্রু। তাদেরকে কীভাবে কঠোর হস্তে দমন করতে হয় সেটা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জানেন, সরকার জানে এবং এদেশের মানুষ কখনো সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেয়নি।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে গোটা জাতিকে একটি আলাদা প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছিলেন। সেই প্ল্যাটফর্মটির নাম ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ। এভাবে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে পরাধীনতার শৃঙ্খখল থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করে বিশ্বের বুকে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টি করে দিয়েছেন।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে কিছু উগ্রতা লক্ষ্য করা গেছে। ধর্মীয় উগ্রতা যারা সৃষ্টি করে তারা হচ্ছে মানবতার শত্রু। যারা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে তারা সভ্যতার শত্রু। তারা আল্লাহর সৃষ্টি দৃশ্যমান মানুষ হলেও আসলে তারা অমানুষ।

বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ। এছাড়াও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার ও বিএফআরআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ড. এম এ মজিদ।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম