সংবাদ শিরোনাম

 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সন্তান প্রসব করে ফেলে চলে গেছেন মানসিক ভারসাম্যহীন মা। ওই শিশুকে নিতে কাড়াকাড়ি শুরু করে ওই এলাকার তিন নারী।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পৌর কবরস্থানের পাশে ঝোপের মধ্যে শিশুটি জন্ম নেয়। খবর পেয়ে ভৈরব রেলত্তয়ে থানার পুলিশ নবজাতটিকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দেবারুতি দাস প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।

 

 

 

এলাকাবাসী জানায়, বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পৌর করবস্থানের সামনের মাঠে এক নারী প্রসূতি প্রসব ব্যথায় ছটফট করছিলেন। বিষয়টি ঐখানে থাকা সরুজ নাহার ও চা বিক্রেতা জাকিয়া বেগমের নজরে আসে। পরে শিশু নিয়ে তিন নারীর কাড়াকাড়ির পর শিশুটিকে নেওয়া হয় রেলওয়ে থানায়। তিন নারীই শিশুটির লালন পালনের দায়িত্ব নিতে চান। এ নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়।

নবজাতকটিকে প্রথমে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন কমলপুর নিউটাউন এলাকার শারমিন বেগম। তিনি জানান, রেলওয়ে স্টেশন কবরস্থানের পাশে এক পাগলি একটি বাচ্চা প্রসব করে। সেই বাচ্চাটি নেওয়ার জন্য দুজন নারী টানাটানি করছিলেন তখনই আমি সেখানে যাই। যাওয়ার পর দুই নারীকে বলি তোমরাতো বাচ্চাটি নিয়ে বিক্রি করে দেবে। তোমরা আমাকে বাচ্চাটি দিয়ে দাও আমি নিয়ে লালন পালন করব। তখন তাদের কাছ থেকে বাচ্চাটি নিয়ে রেলওয়ে পুলিশের কাছে যাই।

 

 

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সুস্থ আছে বলে জানান। পরে হাসপাতালের নারী ও শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) আদালতের মাধ্যমে শিশুটির ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা খুরশেদ আলম।

ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফেরদৌস আহম্মদ বিশ্বাস বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমরা একটি কন্যা নবজাতককে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী শিশুকে প্রসব করে ফেলে যায়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম