সংবাদ শিরোনাম

 

চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিশ্বজুড়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় কমল প্রাণঘাতী ভাইরাসে নতুন সংক্রমিত রোগীর সংখ্যাও। গেল ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে কোভিড শনাক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন চার হাজারের বেশি মানুষ। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে নতুন করে রোগটিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা নেমে চার লাখের নিচে এসেছে।

সর্বশেষ এক দিনে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটল ইউরোপের দেশ জার্মানিতে। এ দিকে দৈনিক মৃত্যুর তালিকায় এখনো শীর্ষস্থানে রয়েছে রাশিয়া। আর তালিকায় এর পরপরই রয়েছে যথাক্রমে ইউক্রেন, তুরস্ক, মেক্সিকো, ফিলিপাইন এবং ভিয়েতনামের নাম। এতে বিশ্বব্যাপী রোগটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ কোটি ১৭ লাখের ঘর ছাড়িয়েছে। অপর দিকে মৃতের সংখ্যাও এরই মধ্যে ৫২ লাখ ১৬ হাজারে পৌঁছে গেছে।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মৃত্যু, আক্রান্ত ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডো মিটারস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে কোভিড সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন চার হাজার ১৯৯ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজারের বেশি হ্রাস পেল। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ৫২ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন তিন লাখ ৮১ হাজার ৬৪৮ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৯৮ হাজার। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২৬ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ২৪৯ জনে পৌঁছেছে।

এ দিকে গেল এক দিনে বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখেছে জার্মানি। একই সময়ে দেশটিতে নতুন করে রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ৪৪৪ জন। আর মারা গেছেন ৭১ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে ইউরোপের দেশটিতে এ পর্যন্ত ৫৭ লাখ ৮২ হাজার ৯৬১ জন সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ এক হাজার ৪১১ জন।

অপর দিকে দৈনিক মৃত্যুর তালিকায় এখনো শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন এক হাজার ২২৪ জন। আর নতুন করে রোগটিতে সংক্রমিত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৪৮ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৯৫ লাখ ৭০ হাজার ৩৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৭২ হাজার ৭৫৫ জনের।

শেষ ২৪ ঘণ্টায় ব্রিটেনে করোনায় নতুন সংক্রমণ ও প্রাণহানি অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে দেশটিতে নতুন করে মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৮০ জন। আর মারা গেছেন ৭৯ জন। প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটিতে এ পর্যন্ত চার কোটি ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৫ জন সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন সাত লাখ ৯৯ হাজার ৩৯১ জন।

এছাড়া গেল এক দিনে যুক্তরাজ্যে নতুন করে করোনা ভাইরাসের থাবায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ হাজার ৬৮১ জন। আর মারা গেছেন ৫১ জন। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে ইউক্রেনে নতুন করে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন সাত হাজার ৪৮৩ জন। আর মারা গেছেন ৪০০ জন।

করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও প্রাণ হারানোদের সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে কোভিড সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৮ জন। আর নতুন করে রোগটিতে শনাক্ত হয়েছেন চার হাজার ৪৩ জন। অপর দিকে মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দুই কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার ৯০৬ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ছয় লাখ ১৪ হাজার ৩১৪ জনের।

অন্য দিকে কোভিড আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ভারত। যদিও প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান এখন তৃতীয়। মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে তিন কোটি ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে চার লাখ ৬৮ হাজার ৫৭৪ জনের।

এছাড়া কোভিড সংক্রমিত হয়ে শেষ এক দিনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে ৮০ জন, ইউরোপের মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্কে ২১৩ জন, ফিলিপাইনে ১৫৬ জন, পোল্যান্ডে ৫১ জন, রোমানিয়ায় ৮৮ জন এবং ভিয়েতনামে ১৯০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। অপর দিকে নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৪৫ জন। মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মারা গেছেন দুই লাখ ৯৩ হাজার ৮৫৯ জন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ প্রাণঘাতী ভাইরাসটিকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম