সংবাদ শিরোনাম

 

নেত্রকোণা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা দুলাল মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পৌনে ১টার দিকে উপজেলার চেংজানা গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এদিকে, দুলাল মিয়অর খুনীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন সমর্থক ও স্থানীয়রা। তারা অনতিবিলম্বে ঘাতকদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

দুলাল মিয়ার ভাতিজা শাহেনুর কবীর জানান, সাহিতপুর বাজারে যে স্থানটিতে দুলাল মিয়া হামলার শিকার হন, সেই স্থানেই দাফনের আগে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কেন্দুয়া পৌর মেয়র আসাদুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির, স্থানীয় সান্ধিকোণা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামসহ অন্তত ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন।

শাহীনুর জানান, এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে সোমবার রাত ১০টার দিকে লাশ বাড়িতে এসে পৌঁছায়।

এর পর থেকে মঙ্গলবার দাফনের আগ পর্যন্ত এলাকার মানুষ আওয়ামী লীগের এই নেতাকে শেষবারের মত দেখতে বাড়িটিতে ভিড় করেন। সেখানে চলছে শোকের মাতম।

নিহতের ভাই মোস্তাকিন মিয়া বলেন, আমরা শোকের মধ্যে আছি। দাফনের কাজ শেষ করলাম। তিনি বলেন, এলাকার মানুষ বিক্ষোভ করছেন। ঘাতকদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার দাবি করে তারা মিছিল করেছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় চেংজানা গ্রামের বিভিন্ন রাস্থা প্রদক্ষিণ করে এই মিছিল থেকে খুনীদের ফাঁসির দাবি জানানো হয়েছে। প্রকাশ্যে বাজারে কুপিয়ে যারা ভাইকে হত্যা করেছে তারা চিহ্নিত। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে খুনীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানান কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান আকন্দ। নিহত দুলাল মিয়া (৪৫) ছিলেন উপজেলার সান্ধিকোনা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেংজানা গ্রামের বাসিন্দা।

গত ২৮ ডিসেম্বর সকালে সাহিতপুর বাজার অটোরিকশা স্ট্যান্ডের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধলে দুলাল মিয়া আহত হন।

পরিদর্শক মিজানুর বলেন, গত ২৯ ডিসেম্বর সোহেল মিয়া তার বাবা দুলাল মিয়াকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় থানায় একটি মামলা করেন।

এই মামলায় সান্ধিকোণা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, উপজেলার রায়জুরা গ্রামের আবু তাহেরকে প্রধান আসামি করা হয়।

তিনি বলেন, এখন যেহেতু দুলাল মিয়া মারা গেছেন তাই আদালতের মাধ্যমে মামলাটিতে হত্যার ধারা সংযুক্ত করে খুনের মামলায় পরিণত করা হবে।

হত্যায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের দুইটি টিম অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম