সংবাদ শিরোনাম

 

মোঃ রুকুনুজ্জামান বাবুল পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি  : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে খনি বাস্তবায়নের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের চাকুরী প্রদানের দাবিকে পাশ কাটিয়ে বিধি বহির্ভুতভাবে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ১৫ জন কর্মচারী অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব তার সহকর্মীর সহযোগিতায় গত সোমবার (২ জানুয়ারী) গোপনে এ নিয়োগ প্রদানের কাজ সম্পন্ন করে। নিয়োগপ্রাপ্তরা প্রায় সবাই খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের আত্মীয়স্বজন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আজ বুধবার (৪ জানুয়ারী) বিকেলে ক্ষতিগ্রস্তদের সংগঠন ‘জীবন, পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষা কমিটি’র আহবায়ক মশিউর রহমান বুলবুল স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব অভিযোগ করেন তিনি জানান- ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর সাথে খনি কর্তৃপক্ষের ইতিপূর্বে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী স্থানীয় বেকারদের খনিতে চাকুরী দেওয়ার কথা। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের চাকুরী না দিয়ে বহিরাগতদের চাকুরী দিচ্ছে। এটা আর মেনে নেওয়া হবে না। দাবী না মানা হলে শিগগিরই কঠোর কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে খনি এলাকার জনজীবন অচল করে দেয়া হবে। তিনি জানান এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কর্মসংস্থানের দাবিতে খনি পার্শ্ববর্তী ক্ষতিগ্রস্ত ১০-১২ টি গ্রামের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এলাকাবাসীর দাবি কয়লা খনির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবার থেকে একজন করে শিক্ষিত বেকার যুবককে খনিতে চাকরী দিতে হবে।

সর্বশেষ গত বছরের ২১ নভেম্বর এলাকার কয়েক হাজার নারীপুরুষ চাকরীর দাবিতে মানবন্ধন করে এবং খনি কর্তপক্ষকে স্মারক লিপি দেয়।

কিন্তু বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে কোন প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে এবং লিখিত-মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই সর্বশেষ ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নিয়োগপ্রাপ্তরা অধিকাংশই ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, মাগুরা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে মোঃ সোহেল, পিতা নুরুল ইসলাম উপজেলা চরফ্যাশন, জেলা ভোলা। তাকে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিকটাত্মীয়। এছাড়া, খায়রুল আলম, পিতা আবু সাঈদ উপজেলা শ্রীপুর, জেলা মাগুরা কেও অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি খনির উপ-ব্যবস্থাপক সাফায়েত আলী মিয়ার ভাই।

খনির একটি সুত্র জানায়, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমেদ গত সপ্তাহে বদলি হন। নতুন চেয়ারম্যান আবুল মনসুর গত ১জানুয়ারী যোগদান করেন। নতুন চেয়ারম্যান পেট্রোবাংলার কোম্পানীগুলো সম্পর্কে কিছু বুঝে উঠার আগেই গত ২ জানুয়ারী এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সুত্রের দাবি, অতিতে কখনই পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের অগোচরে কয়লা খনিতে এভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারী অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব বলেন- জরুরী প্রয়োজনে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পুর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে এ ধরনের লোক নেওয়া হয়ে থাকে। আর এজন্য কোন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও লাগে না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সোহেল তার এলাকার লোক হলেও আত্মীয় নয়। তাছাড়া সরকারের উপর মহলের নির্দেশেই এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম