সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নব্য জেএমবির অন্যতম শীর্ষ নেতা নূরুল ইসলাম ওরফে মারজান এবং তার সহযোগী সাদ্দাম নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সিটির উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় ওই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিহতদের একজন জেএমবির অন্যতম শীর্ষ নেতা মারজান এবং অপরজন তার সহযোগী সাদ্দাম। লাশ দুটি উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, রাত পৌনে ৪টার দিকে লাশ দুটি ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়।

কে এই মারজান
গত বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে মারজানকে শনাক্ত করে পুলিশ।

গত ১২ আগস্ট ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম মারজানের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে জানিয়েছিলেন, হামলাকারীরা ওই রেস্টুরেন্টে (হলি আর্টিজানে) বসে যে আইডিতে ছবি ও তথ্য পাঠিয়েছিল সেসব মারজান রিসিভ করেছে।

রোস্তারাঁয় হামলার প্রধান ‘মাস্টারমাইন্ড’ তামিম চৌধুরী ও হামলাকারীদের মাঝামাঝিতে মারজানের অবস্থান বলে জানিয়েছিলেন মনিরুল।

গুলশানের আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় কানাডিয়ান প্রবাসী বাংলাদেশি তামিম আহমেদ চৌধুরী ও সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল পুলিশ। তাদের প্রত্যেককে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকার পুরষ্কারও ঘোষণা করে পুলিশ।

তবে জঙ্গি হামলার দেড় মাসের মাথায় আগস্টের মাঝামাঝিতে এক জঙ্গির মোবাইল থেকে মারজানের ছবিটি সংগ্রহ করে পুলিশ। এরপর কারাগারে থাকা ও বিচারাধীন অনেক জঙ্গিকে এ ছবি দেখালে তারা এটি মারজান বলে জানায়। গুলশান হামলার অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে মারজানের নামও জানায় জঙ্গিরা। তবে মারজান তার সাংগঠনিক নাম হবে বলে ধারণা করে পুলিশ।

সিটি প্রধান মনিরুল ওই সময় আরও বলেছিলেন, ‘আমরা মারজান সম্পর্কে তথ‌্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছি। সে বাংলাদেশি এবং দেখে শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান বলেই মনে হয়েছে। কিন্তু তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আমরা পাইনি। সেই ছবির সূত্র ধরে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তবে মারজান ঢাকা শহরেই অবস্থান করছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ। তার ব্যাপারে কোনো তথ্য থাকলে ‘হ্যালো সিটি’ (Hello CT) অ্যাপস-এর মাধ্যমে তা জানানোর অনুরোধও জানানো হয়েছিল পুলিশের পক্ষ থেকে।

উল্লেখ্য, গুলশানের আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ জন নিহত হয়। পরে সেনাবাহিনীর অপারেশন থান্ডারবোল্টে ৬ জঙ্গি নিহত হয়।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম