সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : দশম সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্ভব না হলে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার অনুরোধ করেছে বিএনপি। সমাবেশের আগের দিন শুক্রবার বিকালে দলীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভায় এই আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।মির্জা ফখরুল বলেন,

বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দিলে সেটা যেন আজ সন্ধ্যার মধ্যেই দেয়া হয়। কারণ, সমাবেশের প্রস্তুতি নিতে যথেষ্ট সময় লাগে। নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ আগে অনুমতি দেয়া হলে কর্মসূচি পালন করা সম্ভব না।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চেয়েছি, এখন পর্যন্ত পাইনি। এখনও যদি অনুমতি দেন, কাল জনসভা সফল করবো। সেখানে না দিয়ে যদি পার্টি অফিসের সামনে দেন, তাহলেও আমরা জনসভা সফল করতে পারবো। আমরা দুটো প্রস্তাবই রাখছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আশা করছি আপনাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। আপনারা আমাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই সভা করার অনুমতি দেবেন। এভাবে গণতন্ত্রকে সংকুচিত করবেন না। এভাবে দরজা জানলা বন্ধ করে দেবেন না। দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে। হাজারটা মত আসবে, পথ আসবে। সেখান থেকেই তো গণতন্ত্র বিকশিত হবে।’ ।

দশম সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে বিএনপি। এবার এই দিনটিতে রাজধানীতে দলটি কোনো কর্মসূচি না রাখলেও জেলায় জেলায় কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচির পালন করেছে দলটি। পাশাপাশি ৭ জানুয়ারি শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ডাকও দিয়েছে তারা।

তবে ৫ জানুয়ারি সব জেলায় নির্বিঘ্নে মিছিল করতে পারেনি তারা। বরিশালে সরকার সমর্থকদের হামলার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় বাঁধা দিয়েছে পুলিশ।

৫ জানুয়ারির আগেই আওয়ামী লীগের যুগ্ম মহাসচির মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছিলেন, জনগণ বিএনপিকে এই দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করতে দেবে না।

একই দিন রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বলা হয়, ৭ জানুয়ারিও বিএনপিকে মাঠে নামতে দেওয়া হবে না।

এই দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে আগেই আবেদন করেছিল বিএনপি। সমাবেশ সফল করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতিও নিয়েছে তারা। তবে সমাবেশের অনুমতি মেলেনি এখনও।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই বিকালে ঢাকা মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে যৌথসভা করে বিএনপি। এতে দলের মহানগর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। এই বৈঠক শেষেই বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেন ফখরুল।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গত ৭ নভেম্বরও বিএনপির সমাবেশ হয়নি। ১৯৮৫ সালের এই দিনটিতে সেনাবাহিনীতে ঘটা নানা ঘটনাপ্রবাহের পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে চলে আসেন। সেই থেকে এই দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই দিনটিকে পালন করে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস হিসেবে।

আওয়ামী লীগ নেতারা আগে থেকেই বলে আসছিলেন ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করতে দেওয়া হবে না।

৭ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে তখনও নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু সেই অনুমতি দেয়া হয়নি। পরে দুই দিন পর নির্ধারিত স্থানের বদলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার নোটিশে সমাবেশের অনুমতি দেয় পুলিশ। কিন্তু বিএনপি তখন সেই সমাবেশ করেনি।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম