সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন প্রজন্মের কাছে দেশজ সংস্কৃতিকে বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরার প্রত্যয়ে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী পৌষমেলা। এতে নাগরিক পটভূমিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘সারা দেশে যখন সাম্প্রদায়িক চেতনা বিস্তৃত হয়েছে, তখন এ মেলাটি লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন করে চেনাবে তরুণদের।’

তিনি বলেন, ১৯ বছরের ধারাবাহিকতায় এবার ভেন্যু পাল্টেছে। রমনার বটমূল থেকে মেলা চলে এসেছে বাংলা একাডেমি চত্ত্বরে। বরাবরেই মতো মেলায় দেশজ পণ্যের সমাহার আর লোকজ সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করা হবে। গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গকে তুলে ধরে নাগরিক পটভূমিতে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।

শুক্রবার সকাল ৮টায় বাংলা একাডেমির নজরুল চত্ত্বরে মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ১২ মাসে ১৩ পার্বণ বাঙালির ঐতিহ্য। কিন্তু স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে বাঙালি যখন কোনাঠাসা হয়ে পড়েছিল, তখন বাঙালি জাতি এ সংস্কৃতিকেই হাতিয়ার হিসেবে হাতে তুলে নিয়েছিল। স্বাধীনতা পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে যখন আমাদের সংস্কৃতিকে আবারও ধ্বংস করার পায়তারা চলছিল তখনও বাঙালি এটাকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছিল।

তিনি বলেন, একটি ধর্মান্ধ জাতি স্বাধীনতাবিরোধী চক্র আজও এদেশে বিচরণ করছে। পরিকল্পিতভাবে ক্ষুণ্ন করছে দেশের ভাবধারা, অতিত ঐতিহ্য ও আমাদের সংস্কৃতিকে। তাদের আমাদের এই ধরনের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিহত করতে হবে।

মেলায় দিনভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি থাকছে পিঠা-পুলির স্টল। বিচিত্র সাজের, বাহারি গন্ধের পিঠা-পুলি, নলেন গুড় আর খেজুর রসে শিরনি পায়েস রাঁধতে গ্রামবাংলা থেকে উঠে আসবেন কারিগররা। থাকবে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা পর্বও।

আলোচনা পর্বে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, পৌষমেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ এবং সহসভাপতি নাট্য ব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী থাকবেন।

প্রথম দিনের আসরে প্রথম পর্বে দলীয় সংগীত পরিবেশন করবে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, ধ্রুব, বহ্নিশিখা, স্ব-ভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র। একক সংগীত পরিবেশন করবেন ফাহিম হোসেন চৌধুরী, প্রিয়াংকা গোপ, অনিমা মুক্তি গোমেজ, আবু বকর সিদ্দিক, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করবে স্পন্দন, নৃত্যজন, ভাবনা। একক আবৃত্তি করবেন আহকামউল্লাহ, তামান্না তিথি, দলীয় আবৃত্তি করবে মুক্তধারা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বটি চলবে বেলা ১১টা পর্যন্ত।

দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে বিকেল ৪টা থেকে। সে পর্বে দলীয় সংগীত পরিবেশন করবে নিবেদন, ক্রান্তি, ওস্তাদ মোমতাজ আলী খান সংগীত একাডেমি ও আনন্দন। একক সংগীত পরিবেশন করবে ফকির আলমগীর, বুলবুল মহলানবীশ, মিনা বড়ুয়া, আকরামুল ইসলাম, অনিমা রায়সহ অন্যরা।

দলীয় নৃত্য পরিবেশন করবে বহ্নিশিখা, বেণুকা, পল্লবী ড্যান্স সেন্টার। একক আবৃত্তি করবেন ইকবাল খোরশেদ, নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলী, ফখরুল ইসলাম তারা। দলীয় আবৃত্তি করবে প্রকাশ সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন। টাঙ্গাইল থেকে আসা মহাদেব সংঘ ও তার দল পরিবেশন করবে ‘সংযাত্রা’।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম