সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : কবিতা, গান-নাচসহ বর্ণাঢ্য সব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা একাডেমিতে চলছে তিন দিনব্যাপী পৌষ মেলা।

শিশুদের নাচানাচি, হইহল্লা, পিঠা হাতে বন্ধু-বান্ধবীদের আড্ডা, পরিবারের লোকজনের একসঙ্গে বসে মনমাতানো সব পিঠার গন্ধ উপভোগ, যেন নতুন এক মাত্রা এনে দিয়েছে বাংলা একাডেমি চত্বরে। উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো একাডেমি প্রাঙ্গনে। পিঠা উৎসবকে ঘিরে গ্রাম বাংলার আবহকে উপভোগ করতে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।

শুক্রবার কৃত্রিম চুলায় আগুন জ্বালানোর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ মেলার আজ দ্বিতীয় দিন। প্রতিদিন দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মঞ্চ অনুষ্ঠান। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি চত্বরে পিঠা উৎসব চলে সকাল ৮টা রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।

শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় পুরো দিনই জমজমাট ছিল মেলা। আজকেও বিকেল বেলায় দর্শনার্থীর ব্যাপক সমাগম হবে বলে আশা পিঠা উৎসবে অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টলের কর্ণধারদের।

৩৬টি আইটেমের পিঠা নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছে বরিশাল ঐতিহ্যবাহী পিঠাঘর। এর কর্ণধার ফিরোজ আলম বলেন, ‘শুক্রবার প্রথম দিনেই খুব ভাল সাড়া পেয়েছি। আশা করছি, আজকেও সাড়া পাব।’ বিকেল বেলায় দর্শনার্থীদের ভাল উপস্থিতি হবে বলে প্রত্যাশা তার।

মনচুরি পিঠাঘরের কর্ণধার নাসিম বলেন, ‘আমাদের আইটেমগুলো সব মনচুরি করার মতো আকর্ষণীয়। শুরু থেকেই মেলায় দর্শনার্থীদের বেশ সাড়া পাচ্ছি। বেচাবিক্রিও হচ্ছে ভাল। আশা করছি শেষ পর্যন্ত একটি আশানুরূপ ফল পাব।’

নতুন প্রজন্মের কাছে দেশজ সংস্কৃতিকে বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরার প্রত্যয়ে শুক্রবার থেকে বাংলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী এ পৌষমেলা। এতে নাগরিক পটভূমিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে। ১৯ বছরের ধারাবাহিকতায় এবার ভেন্যু পাল্টেছে। রমনার বটমূল থেকে মেলা চলে এসেছে বাংলা একাডেমি চত্বরে। বরাবরেই মতো মেলায় দেশজ পণ্যের সমাহার আর লোকজ সংস্কৃতির উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়েছে গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গ।

মেলায় নজরুল মঞ্চে দলীয় সংগীত, দলীয় নৃত্য, একক আবৃত্তি, একক সংগীত, পুঁথি পাঠসহ দিনভর থাকছে নানা অনুষ্ঠান। দিনভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি থাকছে পিঠা-পুলির স্টল। বিচিত্র সাজের, বাহারি গন্ধের পিঠা-পুলি, নলেন গুড় আর খেজুর রসে শিরনি পায়েস রাঁধতে গ্রামবাংলা থেকে উঠে আসবেন কারিগররা। থাকবে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা পর্বও।

মেলায় ঢাকা, বরিশাল, নেত্রকোনা, যশোর, কুমিল্লা, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর, সোনারগাঁও, বিক্রমপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পিঠার প্রদর্শনী ও বিক্রি হচ্ছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে।

খেজুর পিঠা, পাতা পিঠা, হালুয়া পাপড়ি, দুধ, চিতইসহ কয়েক রকমের পিঠা নিয়ে নজরুল মঞ্চের পাশে আড্ডা দিচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষার্থী হাসান মুহিব, আলামিন, মিজান, রিপা ও মুন্নি। কথা হয় তাদের সঙ্গে।

হাসান বলেন, ‘শীতের দিন পিঠা- চিন্তা করতেই কেমন যেন জিভে জল আসে। কাল রাতে বন্ধু-বান্ধবীদের বাংলা একাডেমিতে আসার প্রস্তাব দিই। পরে সকালে সবাই আসলাম। ভালই মজা হচ্ছে।’

চানখারপুল এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন সিরাজুল ইমাম। সঙ্গে ছিল স্ত্রী সুমাইয়া এবং ছোট্ট দুই সন্তান মাহদী ও মাইমুনা। সিরাজুল ইামাম পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিবারই পিঠা উৎসবে আসি। সারাজীবনইতো ব্যবসা করি। কাজের চাপে কোথাও যেতে পারি না। কাল থেকে ভাবছিলাম মেলায় আসব। আজ চলে আসলাম। মেলায় ঘুরছি। খুবই ভালো লাগছে।’


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম