সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : অগ্রহায়ণ শেষ, আজ পৌষ মাসের ২৫ তারিখ, কিন্তু শীতের দেখা নেই। বলাবলি হচ্ছিল, কী হয়েছে আবহাওয়ার। এটা কি জলবায়ু পরিবর্তন না কি অন্য কারণে? এই বলাবলির মধ্যে অবশেষে দেখা মিললো হিমেল হাওয়ার। কাঁপুনি ধরাচ্ছে শীতল বাতাস।

রাজধানীতে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৪ ডিগ্রির ঘরে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আট ডিগ্রির ঘরে। তবে এই অন্য বছর এই সময় সর্বনিম্ন তামপাত্রা যত থাকে, এবার তার চেয়ে বেশি।

ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে গ্রাম এলাকায় শীত পড়েছিল বটে, তবে এই সময়ে যতটা কাঁপুনি ধরায়, ততটা তীব্র হচ্ছিল না শীতানুভূতি। রাজধানীর পরিস্থিতি অনেকটাই ছিল অস্বস্তিকর। বিশেষ করে ফ্ল্যাটবাড়িতে যারা বসবাস করেন তারা ছিলেন বিড়ম্বনায়। না পারা যাচ্ছিল ফ্যান ছাড়তে, না যাচ্ছিল বন্ধ রাখা।

এই অবস্তায় অনেকটাই শীতকে আমন্ত্রণ জানানোর অবস্থায় ছিল মানুষ। এই মৌসুমটা হতদরিদ্র আর বৃদ্ধ ও শিশুদের কষ্টে যায় বটে, কিন্তু বছরের পৌষ ও মাঘ দুটি মাস উপভোগ্যও কম নয়।

অপেক্ষা করতে থাকার পর অবশেষে পৌষের শেষভাগে এসে শীতের দেখা মিললো রাজধানীতে। গত তিন দিন ধরে সকালে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। সূর্যের দেখা মিলতে মিলতে চলে যাচ্ছে ঘুম ভাঙার পর কয়েক ঘণ্টা। চারপাশে দেখা মিলছে জবুথবু মানুষের।

গত কয়েক মাস ধরেই দেশের তামপাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলিসিয়াস বেশি। শীত মৌসুমের শুরুতেও ছিল এমনটাই। তটা কমার কথা, ততটা কমছিল না তামপাত্রা।

তবে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে আস্তে আস্তে বাড়ছে শীতের প্রকোপ। এখন সারা দেশেই বয়ে যাচ্ছে মৃদ শৈত্যপ্রবাহ। বরাবরের মতো উত্তরাঞ্চলেই প্রকোপ বেশি।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক ওমর ফারুক বলেন, তিনি বলেন, ‘এতদিন উর্ধ্ব আকাশে পশ্চিমা জেডপ্রবাহ সক্রিয় না থাকায় শীত পড়ছিল না। এটি এখনও পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি। সক্রিয় হতে হতে আরও পাঁচ থেকে ছয় দিন লেগে যাবে। এই হিসাবে আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারি থেকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তখন তামপাত্রা কমে আসবে অনেক।’

ওমর ফারুক জানান, ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদ শৈত্যপ্রবাহ, ৮ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।

শীতের প্রকোপ কত দিন থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘এখনি বলা যাচ্ছে না এই শীতের প্রকোপ কত দিন থাকবে। তবে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে বলা যাবে কত দিন থাকবে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্ব নিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেতুলিয়ায় ৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩.৬ ডিগ্রি আর সর্বনিম্ন ১৪.৫ ডিগ্রি সেলিসিয়াস। আগামী দুই থেকে তিন দিন তামপাত্রা এমনটাই থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শীত বাড়ার পর নগরের ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট বেড়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনও শুরু করেছে শীতবস্ত্র বিতরণ।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম