সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি হচ্ছে আওয়ামী লীগ বিরোধী সকল সাম্প্রদায়িক শক্তির প্লাটফর্ম। আন্দোলনে তারা দুর্বল কিন্তু সমর্থনে তাদের এতো দুর্বল ভাবা ঠিক নয়। সমর্থনে তাদের এত দুর্বল ভাববেন না।

তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে দুর্বল দল মনে করে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন। আমরা তো জিতেই যাব, এ ধারণা নিয়ে আত্মসন্তুষ্টি নিলে কিন্ত ভুল করবেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আমরা বিজয়ী হয়েছি কিন্তু আওয়ামী লীগ বিরোধী ৮০-৭৯ হাজার ভোট বিএনপি প্রার্থী পেয়েছে; এটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।’

রবিবার (০৮ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁও কলোনি বাজারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এক কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা সফল করার লক্ষ্যে এ সভায় আয়োজন করা হয়।

১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা সফল করার লক্ষ্যে এ সভায় আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানসহ মহানগর উত্তরের নেতারা।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণের সামনে যাওয়া জন্য নেতাকর্মীদের যোগ্য করে তুলতে হবে। উন্নয়ন অর্জন আর দরকার নেই। যে প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে এগুলো শেষ হলে বাংলাদেশের চেহারা প্লাটে যাবে। নতুন প্রকল্প নেওয়ার দরকার হবে। আজকের এই উন্নয়ন ভাবাই যেত না শেখ হাসিনা সরকারের আসার আগে।

তিনি বলেন, আমি বলি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিল বোর্ড সরিয়ে ফেলুন, কিন্তু কর্মীরা শোনে না। মোটরসাইকেলে উঠলে যদি বলি হেলমেট পড়তে হবে, সবাই শোনে, আমাদের কর্মীরা শোনে না। হেলমেট পড়লে মাথা সেইফ থাকে এটা কার লাভ? আমার লাভ নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লাভ?

এলোমেলো দল নিয়ে নির্বাচনে যেতে চাই না
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা একটি এলোমেলো দল নিয়ে আগামী নির্বাচনে যেতে চাই না। সুসংগঠিত পার্টি আমরা। একসঙ্গে আন্দোলনও নির্বাচন মোকাবিলা করতে চাই রাজনৈতিকভাবে, অরাজনৈতিকভাবে নয়। আমরা সকল বিরোধীদলকে মোকাবিলা করবো।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার বড় শত্রু হচ্ছে জনপ্রিয়তা। বেশি জনপ্রিয় হলে শত্রুও বেশি হয়। এটাকে আঘাত করার চক্রান্ত হয়।’

শেখ হাসিনার মত আওয়ামী লীগকেও জনপ্রিয় করতে দলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান কাদের।

মিছিলের উত্তেজনায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবেন না
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাবেন, মিছিল করে যাবেন। মিছিলের উত্তেজনায় জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করবেন না। গোটা রাস্তাটা দখল করবেন না। আমরা কার জন্য রাজনীতি করি? জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে দিয়ে আনন্দ উৎসবের কোনো মূল্য আছে? গাড়িতে বসে বৃদ্ধ, শিশু, মা ও বোনেরা তাকিয়ে আছে, এ্যাম্বুলেন্স থেকে অসহায় রোগী একজন সাথী করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, একজন বয়স্ক নারী গাড়ি থেকে তাকিয়ে আছে, এই কষ্টটা কি আপনাদের চোখে পাড়ে না। যদি ওদের জায়গায় আপনারা থাকতেন তাহলে কেমন লাগতো, বলেন? এরা আমাদের মা, বাবা, বোন, সন্তান এটা কী ভাবেন না?’

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন ও অর্জনশেখ হাসিনা যা করেছে এটা বিশ্বে বিপ্লব। রেকর্ড উন্নয়ন হয়েছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ আমাদের নেত্রীর এতো উন্নয়ন খারাপ আচরণ করে এগুলো ম্লান করে দেবেন না। প্লিজ, খারাপ আচরণ মানুষের মনে দাগ কাটে। এখন কিছু বলবে না। যখন নির্বাচন হবে তখন খারাপ আচরণের জন্য যাদের শাস্তি দিচ্ছেন তারা ব্যালট বাক্সে আমাদের ভাল প্রতিনিতিকে শাস্তি দিয়ে দিবে। এত বিশাল অর্জন ও উন্নয়নকে ম্লান করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি আজকে নির্বাচনে ব্যর্থ আন্দেোলনে ব্যর্থ। তাদের ডাকে জনগণে সারা দেয় না। তারা আজকে ব্যর্থতা ও হতাশায় পথ হারিয়ে পথহীন পথিকের মত। তারা বেপোরোয়া। আপনারা বেপারোয়া হবেন না। তাহলে সব অর্জন শেষ হযে যাবে। দয়া করে মিছিল, র‌্যালি করতে গিয়ে ভোটারদেরকে কষ্ট দেবেন না।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম